১৮/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬১৯ - দিনে চাঁদ দেখা ও রোযা পূর্ণ করা
রোযার চাঁদ দেখা ও রমযানের রোযা খোলার বর্ণনা
দিনে চাঁদ দেখা গেলে রোযা ভাঙবে কি: মালিক (র)-এর বর্ণনা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬১৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬১৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْهِلَالَ رُئِيَ فِي زَمَانِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ بِعَشِيٍّ فَلَمْ يُفْطِرْ عُثْمَانُ حَتَّى أَمْسَى وَغَابَتْ الشَّمْسُقَالَ يَحْيَى سَمِعْت قَوْله تَعَالَى يَقُولُ فِي الَّذِي يَرَى هِلَالَ رَمَضَانَ وَحْدَهُ أَنَّهُ يَصُومُ لَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يُفْطِرَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ ذَلِكَ الْيَوْمَ مِنْ رَمَضَانَ قَالَ وَمَنْ رَأَى هِلَالَ شَوَّالٍ وَحْدَهُ فَإِنَّهُ لَا يُفْطِرُ لِأَنَّ النَّاسَ يَتَّهِمُونَ عَلَى أَنْ يُفْطِرَ مِنْهُمْ مَنْ لَيْسَ مَأْمُونًا وَيَقُولُ أُولَئِكَ إِذَا ظَهَرَ عَلَيْهِمْ قَدْ رَأَيْنَا الْهِلَالَ وَمَنْ رَأَى هِلَالَ شَوَّالٍ نَهَارًا فَلَا يُفْطِرْ وَيُتِمُّ صِيَامَ يَوْمِهِ ذَلِكَ فَإِنَّمَا هُوَ هِلَالُ اللَّيْلَةِ الَّتِي تَأْتِي১قَالَ يَحْيَى و سَمِعْت قَوْله تَعَالَى يَقُولُ إِذَا صَامَ النَّاسُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَهُمْ يَظُنُّونَ أَنَّهُ مِنْ رَمَضَانَ فَجَاءَهُمْ ثَبْتٌ أَنَّ هِلَالَ رَمَضَانَ قَدْ رُئِيَ قَبْلَ أَنْ يَصُومُوا بِيَوْمٍ وَأَنَّ يَوْمَهُمْ ذَلِكَ أَحَدٌ وَثَلَاثُونَ فَإِنَّهُمْ يُفْطِرُونَ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ أَيَّةَ سَاعَةٍ جَاءَهُمْ الْخَبَرُ غَيْرَ أَنَّهُمْ لَا يُصَلُّونَ صَلَاةَ الْعِيدِ إِنْ كَانَ ذَلِكَ جَاءَهُمْ بَعْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর কাছে খবর পৌঁছেছে যে, উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-এর আমলে বিকালে চাঁদ দৃষ্ট হয়। কিন্তু উসমান (রাঃ) সন্ধ্যা হওয়া ও সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত ইফতার করেননি। ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, আমি মালিক (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমজানের চাঁদ একাই দেখেছে সে নিজে রোজা রাখবে, তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা সমীচীন নয়। কারণ সে জানে যে, উহা রমজান মাস। আর যে শাওয়ালের চাঁদ একা দেখেছে। সে রোজা ভঙ্গ করবে না, কারণ লোকে (এ বলে) অপবাদ দিবে যে, আমাদের একজন রোজা রাখেনি। পক্ষান্তরে যারা নির্ভরযোগ্য নয় তেমন ব্যক্তিদের খেয়াল হলে তবে তারা বলবে, ‘আমরা অবশ্য চাঁদ দেখেছি’। আর যে ব্যক্তি দিনে শাওয়ালের চাঁদ দেখতে পায়, সে রোজা ইফতার করবে না বরং সে দিনের রোজা পূর্ণ করবে, কারণ তা আগামী রাতের চাঁদ।ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, আমি মালিক (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, যদি লোকে ঈদের দিন রোজা রাখে এবং তারা উহাকে রোজার দিন বলে মনে করে, তৎপর একজন বিশ্বস্ত লোক এসে তাদেরকে বলে, রমজানের চাঁদ তাদের রোজার একদিন পূর্বে দেখা গিয়েছে, আর তাদের এ দিবস হচ্ছে একত্রিশের, তবে যে মুহূর্তে তাদের কাছে খবর পৌঁছে সে মুহূর্তেই তারা রোজা ভেঙে ফেলবে। অবশ্য তারা সে খবর সূর্য হেলিবার পর হলে সে দিন তারা ঈদের নামাজ আদায় করবে না।
(হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় চাঁদ দেখা, একক সাক্ষ্য এবং দিনের বেলায় শাওয়ালের চাঁদ দেখা—এসব বিষয়ে কয়েকটি কথা এসেছে। মালিক (র)-এর কাছে খবর পৌঁছেছে যে উসমান ইবনু আফফান (রা)-এর আমলে বিকালে চাঁদ দেখা যায়, কিন্তু তিনি সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত ইফতার করেননি। ইয়াহইয়া (র) মালিক (র)-এর বক্তব্য হিসেবে বলেন, কেউ রমযানের চাঁদ একা দেখলে সে নিজে রোযা রাখবে, কারণ সে জানে যে দিনটি রমযান। আর কেউ শাওয়ালের চাঁদ একা দেখলে সে রোযা ভাঙবে না, যাতে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও অপবাদ না ওঠে। দিনে শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে সে দিনের রোযা পূর্ণ করার কথাও এসেছে। তাই হাদিসটি রোযা, চাঁদ দেখা ও সামাজিক সতর্কতার একটি সূক্ষ্ম আলোচনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিকালে চাঁদ দেখা গেলেও সূর্যাস্তের আগে ইফতার না করার আমল এসেছে।
- রমযানের চাঁদ একা দেখলে নিজের রোযা রাখার কথা বলা হয়েছে।
- শাওয়ালের চাঁদ একা দেখলে রোযা না ভাঙার সতর্কতা এসেছে।
