২১/৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৬১ - আমান ভঙ্গের ভয় ও চুক্তি রক্ষার শিক্ষা
নিরাপত্তা চুক্তি
আমান ও চুক্তি রক্ষার হাদিস: ইশারাও নিরাপত্তার ভাষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৯৬১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৯৬১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَتَبَ إِلَى عَامِلِ جَيْشٍ كَانَ بَعَثَهُ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ رِجَالًا مِنْكُمْ يَطْلُبُونَ الْعِلْجَ حَتَّى إِذَا أَسْنَدَ فِي الْجَبَلِ وَامْتَنَعَ قَالَ رَجُلٌ مَطْرَسْ يَقُولُ لَا تَخَفْ فَإِذَا أَدْرَكَهُ قَتَلَهُ وَإِنِّي وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا أَعْلَمُ مَكَانَ وَاحِدٍ فَعَلَ ذَلِكَ إِلَّا ضَرَبْتُ عُنُقَهُ قَالَ يَحْيَى سَمِعْت قَوْله تَعَالَى يَقُولُ لَيْسَ هَذَا الْحَدِيثُ بِالْمُجْتَمَعِ عَلَيْهِ وَلَيْسَ عَلَيْهِ الْعَمَلُ১৬৩১-و سُئِلَ مَالِك عَنْ الْإِشَارَةِ بِالْأَمَانِ أَهِيَ بِمَنْزِلَةِ الْكَلَامِ فَقَالَ نَعَمْ وَإِنِّي أَرَى أَنْ يُتَقَدَّمَ إِلَى الْجُيُوشِ أَنْ لَا تَقْتُلُوا أَحَدًا أَشَارُوا إِلَيْهِ بِالْأَمَانِ لِأَنَّ الْإِشَارَةَ عِنْدِي بِمَنْزِلَةِ الْكَلَامِ وَإِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ قَالَ مَا خَتَرَ قَوْمٌ بِالْعَهْدِ إِلَّا سَلَّطَ اللهُ عَلَيْهِمْ الْعَدُوَّ
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
কুফার জনৈক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেন উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) জনৈক সেনাধ্যক্ষকে লিখেছিলেন : জানতে পারলাম, অনারব কাফেরদের মধ্যে কেউ যুদ্ধ বন্ধ করে পাহাড়ে আশ্রয় নিলে তোমাদের কেউ তাকে ডেকে বলে, “তোমাদের কোন ভয় নেই”, পরে হাতের মুঠোয় পেয়ে আবার তাকে হত্যা করে ফেলে। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, সত্যই যদি কাউকেও আমি কোনদিন এমন (ওয়াদা ভঙ্গ) করতে দেখতে পাই, তবে তার গর্দান উড়িয়ে দেব। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন: এই হাদীসটি সম্পর্কে আলিমগণ একমত নন এবং এর উপর আমল নাই। [১]মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ইশারা ইঙ্গিতে যদি কেউ কাউকে আমান বা নিরাপত্তা প্রদান করে, তবে কি তা গ্রহণযোগ্য হবে? তিনি বললেন; হ্যাঁ, আমি মনে করি সৈন্যদেরকে যেন বলে দেওয়া হয় যে, ইশারা করে যাকে নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে তাকে যেন হত্যা না করে। কারণ আমার মতে ইশারাও ভাষার মতোই। আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন: যে জাতি চুক্তি ভঙ্গ করে, সেই জাতির উপর আল্লাহ তায়ালা শত্রু চাপিয়ে দেন।
[১] কাজটি হারাম বটে, কিন্তু কাফেরের বদলায় মুসলমানকে হত্যা করা অন্য একটি সহীহ হাদীসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় যুদ্ধকালীন আমান বা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ভয়াবহতা দেখা যায়। উমার ইবনু খাত্তাব (রা) সেনাধ্যক্ষকে কঠোর ভাষায় লিখেছিলেন যে, কেউ যদি শত্রুকে “ভয় নেই” বলে নিরাপত্তা দেয়, তারপর সুযোগ পেয়ে তাকে হত্যা করে, তা সহ্য করা হবে না। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কথার মূল্য আছে এবং প্রতিশ্রুতি খেলাফ করা বিশ্বাসের সঙ্গে যায় না। এখানে ইমাম মালিক (র) আরও বলেন, ইশারা দিয়ে আমান দেওয়া হলেও তা ভাষার মতো গণ্য হবে। তাই সৈন্যদের আগেই সতর্ক করতে হবে, যেন ইশারায় নিরাপত্তা পাওয়া কাউকে হত্যা না করে। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা)-এর বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তি ভঙ্গ করা কোনো জাতির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যুদ্ধে আমান দিলে তা রক্ষা করা জরুরি।
- নিরাপত্তার ইশারাকেও কথার মতো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- ওয়াদা ভঙ্গ সমাজ ও জাতির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- শক্তির অবস্থায়ও ন্যায় ও সততা বজায় রাখতে হয়।
