১২/২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০৭৪ - সিজদার আগে কুনুতে নাজিলা
ফাদ্রের সলাতে কুনূত
কুনুতে নাজিলা: রুকুর পর দাঁড়িয়ে মুমিনদের নাজাতের দোয়া
সুনানে আন-নাসায়ী : ১০৭৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১০৭৪
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ ابْنِ أَبِي حَمْزَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يُحَدِّثُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلَاةِ حِينَ يَقُولُ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ»، ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ: «اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ، وَسَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ، وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ، وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ كَسِنِي يُوسُفَ»، ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُ أَكْبَرُ»، فَيَسْجُدُ، وَضَاحِيَةُ مُضَرَ يَوْمَئِذٍ مُخَالِفُونَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সা'ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব এবং আবূ সালমাহ ইবনু 'আবদুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণনা করতেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সালাতে যখন "সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন তখন দোয়া করতেন। এরপর সিজদার পূর্বে তিনি দাঁড়িয়ে বলতেন, হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদ, সালামাহ্ ইবনু হিশাম, 'আইয়্যাশ ইবনু আবূ রবী'আহ্ এবং অসহায় মু'মিনদের নাজাত দাও। হে আল্লাহ! মুযার গোত্রের ওপর তোমার শাস্তি কঠিন কর। আর তাদের বছরগুলোকে তাদের জন্যে ইউসুফ (আঃ)-এর বছরগুলোর ন্যায় করে দাও।" অতঃপর তিনি 'আল্লাহু আকবার' বলে সিজদাহ্ করতেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের ভেতরে কুনুতে নাজিলার স্থান ও দোয়ার বিষয় স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ’ বলার পর সিজদার আগে দাঁড়িয়ে দোয়া করতেন। তিনি ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদ, সালামা ইবনু হিশাম, আইয়াশ ইবনু আবু রবীআ এবং অসহায় মুমিনদের নাজাত চাইতেন। এরপর মুযার গোত্রের ওপর কঠিন শাস্তি এবং ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের মতো দুর্ভিক্ষময় বছর চেয়েছেন। দোয়া শেষ করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদায় যেতেন। তাই এখানে কুনুতের ধারাবাহিকতা পরিষ্কার: রুকু থেকে ওঠা, হামদ বলা, দাঁড়িয়ে দোয়া করা, তারপর তাকবির দিয়ে সিজদা। হাদিসটি নির্যাতিত মুমিনদের জন্য সালাতের মধ্যে দোয়া এবং বিরোধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুনুত রুকুর পর এবং সিজদার আগে দাঁড়িয়ে পড়া হয়েছে।
- অসহায় মুমিনদের নাজাতের জন্য নির্দিষ্টভাবে দোয়া করা হয়েছে।
- দোয়া শেষে তাকবির বলে সিজদায় যাওয়ার ধারাবাহিকতা বর্ণিত।
- সালাতে মুসলিমদের সংকটের জন্য আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে।
