১৩/১৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১২১৪ - সালাতে কান্না ও অন্তরের কোমলতা
সলাতে ক্রন্দন করা
সালাতে কান্না: নবীজির বুক থেকে শোনা গভীর শব্দ
সুনানে আন-নাসায়ী : ১২১৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১২১৪
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ يُصَلِّي وَلِجَوْفِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيزِ الْمِرْجَلِ» يَعْنِي: يَبْكِي
মুত্বাররিফ (রহঃ)-এর পিতা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলাম তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। আর তাঁর ভিতরে ডেকচির শব্দের ন্যায় শব্দ হচ্ছিল। অর্থাৎ, তিনি কাঁদতেছিলেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১২১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় সালাতে কান্না। বর্ণনাকারী নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে দেখেন, তিনি সালাত আদায় করছেন এবং তাঁর ভেতর থেকে ডেকচির শব্দের মতো আওয়াজ হচ্ছে। বর্ণনাকারী নিজেই পরিষ্কার করেছেন—তিনি কাঁদছিলেন। “নামাজে কান্না” বা “সালাতে কান্নার হাদিস” খুঁজলে এই বর্ণনা খুব সরাসরি একটি দৃশ্য তুলে ধরে। এখানে কান্নার কারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো কথা নেই, তাই ব্যাখ্যায় অনুমান করা উচিত নয়। যা নিশ্চিতভাবে বলা যায় তা হলো, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কান্না এত গভীর ছিল যে বুকের ভেতরের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। হাদিসটি সালাতকে শুধু বাহ্যিক অঙ্গভঙ্গির কাজ হিসেবে নয়, অন্তরের গভীর অংশগ্রহণের ইবাদত হিসেবেও বুঝতে সাহায্য করে। তবে নির্দিষ্ট অনুভূতি বা প্রতিদানের অতিরঞ্জিত দাবি এতে যোগ করা ঠিক হবে না। এই সংযত পাঠই হাদিসটির প্রতি বিশ্বস্ত থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সালাতে কেঁদেছেন—বর্ণনাটি তা স্পষ্টভাবে জানায়।
- কান্নার শব্দ বুকের ভেতর থেকে ডেকচির শব্দের মতো শোনা গিয়েছিল।
- হাদিসে কান্নার কারণ বলা হয়নি; তাই কারণ নিয়ে অনুমান না করাই সঠিক।
