১৩/৬২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৩০৫ - কল্যাণময় জীবন, ঈমান ও হিদায়াতের দোয়া
আর এক প্রকার দু‘আ
জীবন-মৃত্যুর কল্যাণ ও ঈমানের সৌন্দর্যের জন্য পূর্ণাঙ্গ দোয়া
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৩০৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৩০৫
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: صَلَّى بِنَا عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ صَلَاةً، فَأَوْجَزَ فِيهَا، فَقَالَ لَهُ بَعْضُ الْقَوْمِ: لَقَدْ خَفَّفْتَ أَوْ أَوْجَزْتَ الصَّلَاةَ، فَقَالَ: أَمَّا عَلَى ذَلِكَ، فَقَدْ دَعَوْتُ فِيهَا بِدَعَوَاتٍ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا قَامَ تَبِعَهُ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ هُوَ أُبَيٌّ غَيْرَ أَنَّهُ كَنَى عَنْ نَفْسِهِ، فَسَأَلَهُ عَنِ الدُّعَاءِ، ثُمَّ جَاءَ فَأَخْبَرَ بِهِ الْقَوْمَ: «اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ، وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ، أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي، اللَّهُمَّ وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ، وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى، وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ، وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضَاءَ بَعْدَ الْقَضَاءِ، وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِينَةِ الْإِيمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ»
সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আত্মা ইবনু সায়িব সূত্রে তাঁর পিতা সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) একবার আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন এবং সালাত সংক্ষিপ্ত করে ফেললেন। তখন কেউ কেউ তাঁকে বললেন, আপনি সালাত সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছেন। তিনি বললেন, কিন্তু এতদসত্ত্বেও তো আমি ঐ সকল দোয়া পাঠ করেছি যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে শুনেছি।এরপর যখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন, লোকেদের মধ্য হতে একজন তাঁর অনুসরণ করতে লাগলেন। ['আত্বা (রহঃ) বলেন] তিনি ছিলেন উবাই তিনি তাঁর নাম বলেননি। তিনি তাঁকে ঐ দোয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন এবং এসে সবাইকে ঐ দোয়ার খবর দিলেন- "আল্ল-হুম্মা বি'ইলমিকাল গয়বা ওয়া কুদ্রতিকা 'আলাল খলক্বি আহয়িনী মা- 'আলিমতাল হায়া-তা খয়রল্লী ওয়াতা ওয়াফ্ফানী ইযা- 'আলিমতাল ওয়াফা-তা খয়রল্লী আল্ল-হুম্মা ওয়া আআলুকা খইয়াতাকা ফিল গয়বি ওয়াশ্ শাহা-দাতি ওয়া আলুকা কালিমাতাল হাক্কি ফির্ রিযা- ওয়াল গযাবি ওয়া আলুকাল কুসদা ফিল ফাকুরি ওয়াল গিনা- ওয়া আলুকা না'ঈমাল লা- ইয়ানফাদু ওয়া আলুকা কুরতা 'আয়নিল লা- তাক্বত্বি'উ ওয়া আলুকার রিযা-আ বা'দাল কযা-য়ি ওয়া আলুকা বারদাল 'আয়শি বা'দাল মাওতি ওয়া আলুকা লায্যাতান্ নাযারি ইলা- ওয়াজহিকা ওয়াশ্ শাওক্বা ইলা- লিকা- য়িকা ফী গয়রি যন্ত্রা-আ মুযিরাতিন্ ওয়ালা- ফিতনাতিন্ মুযিল্লাতিন আল্ল-হুম্মা যাইয়িন্না- বিযীনাতিল ঈমা- নি ওয়াজ' আলনা- হুদা-তাম্ মুহতাদীন।"(হে আল্লাহ! তোমার নিকটেই আছে গায়েবের জ্ঞান, তুমি সকল সৃষ্টি ওপর ক্ষমতাবান, তুমি যদি জান [মনে করো] আমার বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর তবে আমাকে বাঁচিয়ে রাখ। আর তুমি যদি মনে করো মৃত্যু আমার কল্যাণকর তাহলে আমার মৃত্যু ঘটাও। আমি প্রকাশ্যে ও গোপনে তোমাকে ভয় করার তাওফীক চাই, আমি খুশি ও রাগের সময়ে সত্য কথা বলার তাওফীক চাই, আমি মধ্যপন্থা তথা অভাবী ও ধনীর মাঝামাঝি জীবন যাপন করতে চাই।আমি তোমার কাছে এমন নিয়ামত (অনুগ্রহ) চাই যা শেষ হয়ে যাবে না। আমি তোমার কাছে চাই এমন চক্ষু শীতলকারী [বস্তু] যা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে না। মৃত্যুর পর আমি তোমার সন্তুষ্টি চাই। আমি তোমার নিকটে মৃত্যুর পরে আরাম-আয়েশের শীতলতা চাই। আমি তোমার চেহারার দিকে দৃষ্টির প্রশান্তি স্বরূপ চেয়ে থাকতে চাই। তোমার সাথে সাক্ষাতের বাসনা কোন ভ্রান্তিকর ফিতনা যেন বিনষ্ট না করতে পারে আমি সেই প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ঈমানের সাজে সজ্জিত করো আর আমাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্তদের পথের পথিক করো।)।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৩০৫-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়—কল্যাণ ও হিদায়াত। আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) সালাত সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করলেও জানান যে তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছ থেকে শোনা কয়েকটি দোয়া পড়েছেন। দোয়ায় আল্লাহর গায়েবের জ্ঞান ও সৃষ্টির ওপর তাঁর ক্ষমতার কথা স্বীকার করা হয়েছে। জীবন কল্যাণকর হলে বাঁচিয়ে রাখা এবং মৃত্যু কল্যাণকর হলে মৃত্যু দেওয়ার আবেদন রয়েছে। প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করা, খুশি ও রাগের সময়ে সত্য বলা এবং অভাব ও সম্পদের অবস্থায় মধ্যপন্থী থাকার তাওফিক চাওয়া হয়েছে। শেষ না হওয়া নিয়ামত, স্থায়ী চোখের প্রশান্তি, আল্লাহর ফয়সালার পর সন্তুষ্টি এবং মৃত্যুর পর শান্তি চাওয়া হয়েছে। ক্ষতিকর কষ্ট ও বিভ্রান্তিকর ফিতনা ছাড়া আল্লাহর সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা এবং ঈমানের সৌন্দর্য ও হিদায়াতও এই দোয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে নিজের জন্য যা কল্যাণকর, তা আল্লাহর কাছে চাওয়া হয়েছে।
- প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করার তাওফিক চাইতে হয়।
- খুশি ও রাগ—দুই অবস্থাতেই সত্য বলার শিক্ষা রয়েছে।
- ঈমানের সৌন্দর্য ও হিদায়াতপ্রাপ্ত হওয়ার দোয়া করা হয়েছে।
