২৩/৬৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৫৫৪ - ভালো কাজে পথ দেখানোর সওয়াব
সদাক্বাহ্ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা
সুন্নাহ হাসানাহ: ভালো কাজে পথ দেখানোর হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৫৫৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৫৫৪
أَخْبَرَنَا أَزْهَرُ بْنُ جَمِيلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: وَذَكَرَ عَوْنَ بْنَ أَبِي جُحَيْفَةَ قَالَ: سَمِعْتُ الْمُنْذِرَ بْنَ جَرِيرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي صَدْرِ النَّهَارِ، فَجَاءَ قَوْمٌ عُرَاةً حُفَاةً مُتَقَلِّدِي السُّيُوفِ، عَامَّتُهُمْ مِنْ مُضَرَ، بَلْ كُلُّهُمْ مِنْ مُضَرَ، فَتَغَيَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَا رَأَى بِهِمْ مِنَ الْفَاقَةِ، فَدَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ، فَأَمَرَ بِلَالًا فَأَذَّنَ، فَأَقَامَ الصَّلَاةَ، فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ، فَقَالَ: " يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ، وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا، وَبَثَّ مِنْهُمَا، رِجَالًا كَثِيرًا، وَنِسَاءً، وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ، وَالْأَرْحَامَ، إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا، وَاتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ، تَصَدَّقَ رَجُلٌ مِنْ دِينَارِهِ مِنْ دِرْهَمِهِ مِنْ ثَوْبِهِ، مِنْ صَاعِ بُرِّهِ مِنْ صَاعِ تَمْرِهِ، حَتَّى قَالَ: وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ "، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ بِصُرَّةٍ كَادَتْ كَفُّهُ تَعْجِزُ عَنْهَا، بَلْ قَدْ عَجَزَتْ، ثُمَّ تَتَابَعَ النَّاسُ حَتَّى رَأَيْتُ كَوْمَيْنِ مِنْ طَعَامٍ، وَثِيَابٍ، حَتَّى رَأَيْتُ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَهَلَّلُ كَأَنَّهُ مُذْهَبَةٌ، فَقَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً، فَلَهُ أَجْرُهَا، وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا، وَمَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةً، فَعَلَيْهِ وِزْرُهَا، وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْئًا»
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুনযির ইবনু জারীর (রাঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা একবার দুপুরবেলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কাছে বসা ছিলাম এমতাবস্থায় কিছু নগ্নদেহী এবং নগ্নপদী লোক তলোয়ার [কাঁধে] লটকানো অবস্থায় [আমাদের কাছে এলো। তাদের অধিকাংশ কিংবা সবাই মুযার গোত্রের ছিল। তাদের অনাহারে থাকার অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি [বাড়ির] ভিতরে গেলেন এবং বেরিয়ে এসে বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে নির্দেশ দিলেন। তিনি আযান এবং সালাতের ইকামাত দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) [জামা'আতে] সালাত আদায় করে খুত্ববাহ্ [ভাষণ] দিলেন এবং বললেন:“হে মনুষ্য সমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র ব্যক্তি হতে পয়দা করেছেন এবং তা হতে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর সেই দু'জন হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা পরস্পর পরস্পরের নিকট (হাক্ব) চেয়ে থাক এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি-বন্ধন সম্পর্কে, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন”- (সূরা আন্ নিসা ৪: ১)।“প্রত্যেকে নিজ নিজ দীনার, দিরহাম, কাপড়, এক সা' গম হতে এবং এক সা' খেজুর হতেও দান কর” বলতে বলতে তিনি (সাঃ)) এ পর্যন্ত বললেন যে, এক টুকরা খেজুর হলেও [দান কর]। তখন একজন আনসারী [সাহাবী] একটি থলি নিয়ে এলেন। তাঁর হাত তা বহন করতে অপারগ হয়ে পড়ছিল বরং অপারগ হয়েই গিয়েছিল। এরপর অন্যান্য লোকজনও তার অনুসরণ (করে দান) করল। আমি সেখানে কাপড় এবং খাদ্যের দু'টো স্তূপ দেখতে পেলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর চেহারা উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল যেন তা সোনালী প্রলেপযুক্ত।অতঃপর তিনি (সাঃ) বললেন: যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম নিয়ম চালু করবে তখন সে তার সাওয়াব তো পাবেই, অপরদিকে সে অনুসারে 'আমালকারীদের সমপরিমাণ সাওয়াবও পাবে। অথচ 'আমালকারীদের সাওয়াব কিছুমাত্র হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো খারাপ নিয়মের প্রচলন ঘটাবে, তার জন্য তার গুনাহ তো রয়েছেই, অপরদিকে সে অনুসারে 'আমালকারীদের গুনাহ্ তার জন্য [রয়েছে]। অবশ্য তাদের গুনাহ বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৫৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অভাবগ্রস্ত কিছু মানুষকে দেখে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মুখমণ্ডল পরিবর্তিত হয়ে যায়। তিনি সালাতের পর খুতবায় আল্লাহভীতি, আত্মীয়তার সম্পর্ক এবং দান করার কথা বলেন। দিনার, দিরহাম, কাপড়, গম, খেজুর—যা পারে তা দিতে বলেন; এমনকি খেজুরের টুকরাও উল্লেখ করেন। একজন আনসার সাহাবী থলি নিয়ে আসেন, তারপর অন্যরাও দান করতে থাকে। পরে খাদ্য ও কাপড়ের স্তূপ দেখা যায় এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মুখ উজ্জ্বল হয়। এরপর তিনি বলেন, ইসলামে কোনো উত্তম নিয়ম চালু করলে সে তার সওয়াব পাবে এবং যারা তা করবে তাদের সমপরিমাণ সওয়াবও পাবে; কারও সওয়াব কমবে না। এখানে দান, ভালো কাজে নেতৃত্ব এবং খারাপ পথ চালুর ভয়—সব শিক্ষা একসঙ্গে আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অভাবী মানুষ দেখে সাহায্যে এগিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ।
- ভালো কাজে একজনের শুরু অন্যদেরও উৎসাহ দিতে পারে।
- উত্তম পথে ডাকলে অনুসরণকারীদের সওয়াবের মতো সওয়াবের কথা এসেছে।
- খারাপ পথ চালু করার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে।
