৩/১৪. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩৭৭ - ঋতুমতী স্ত্রীর সঙ্গে খাওয়া

ঋতুমতীর সাথে একত্রে খাদ্য খাওয়া ও তার উচ্ছিষ্ট থেকে পান করা

হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে খাওয়া-পান করা: আয়িশা (রাঃ)-এর হাদিস

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩৭৭

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ جَمِيلِ بْنِ طَرِيفٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا يَزِيدُ عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ أَبِيهِ شُرَيْحٍ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ هَلْ تَأْكُلُ الْمَرْأَةُ مَعَ زَوْجِهَا وَهِيَ طَامِثٌ؟ قَالَتْ: نَعَمْ.«كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُونِي فَآكُلُ مَعَهُ، وَأَنَا عَارِكٌ كَانَ يَأْخُذُ الْعَرْقَ فَيُقْسِمُ عَلَيَّ فِيهِ , فَأَعْتَرِقُ مِنْهُ ثُمَّ أَضَعُهُ، فَيَأْخُذُهُ فَيَعْتَرِقُ مِنْهُ , وَيَضَعُ فَمَهُ حَيْثُ وَضَعْتُ فَمِي مِنَ الْعَرْقِ، وَيَدْعُو بِالشَّرَابِ فَيُقْسِمُ عَلَيَّ فِيهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَشْرَبَ مِنْهُ , فَآخُذَهُ فَأَشْرَبَ مِنْهُ , ثُمَّ أَضَعَهُ، فَيَأْخُذَهُ فَيَشْرَبَ مِنْهُ , وَيَضَعَ فَمَهُ حَيْثُ وَضَعْتُ فَمِي مِنَ الْقَدَحِ»

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

শুরয়হ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, স্ত্রী কি তার স্বামীর সাথে হায়য অবস্থায় খেতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডাকতেন আর আমি তাঁর সাথে একত্রে খাবার খেতাম, অথচ তখন আমি ঋতুমতী।তিনি একটি গোশ্‌তযুক্ত হাড় নিতেন আর তা খাওয়ার ব্যাপারে আমাকে বাধ্য করতেন, আমি তা হতে গোশ্‌ত খেতাম, পরে তা রেখে দিতাম। তিনি তা নিয়ে নিজেও খেতেন আর আমি হাড়ের যেখানে আমার মুখ রাখতাম তিনি সেখানেই তাঁর মুখ রাখতেন। আর তিনি পানীয় আনতে বলতেন এবং তিনি তা হতে নিজে পান করবার আগে আমাকে পান করার জন্যে বাধ্য করতেন, তখন আমি ঐ পাত্র হতে পান করতাম। তারপর তা রেখে দিতাম, তিনি তা হাতে নিতেন এবং তা হতে পান করতেন, তিনি তাঁর মুখ পেয়ালার ঐ স্থানেই রাখতেন যেখানে আমি আমার মুখ রাখতাম।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩৭৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, স্ত্রী কি তার স্বামীর সঙ্গে হায়েজ অবস্থায় খেতে পারে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর আচরণ বলেন: তিনি তাকে ডাকতেন, তিনি ঋতুমতী অবস্থায় তাঁর সঙ্গে খেতেন। নবী صلى الله عليه وسلم গোশতযুক্ত হাড় নিয়ে তাকে আগে খেতে বলতেন; তিনি খাওয়ার পর নবী صلى الله عليه وسلم সেই জায়গাতেই মুখ রাখতেন। পানীয়ের ক্ষেত্রেও তিনি আয়িশা (রাঃ)-কে আগে পান করতে বলতেন, তারপর একই পাত্র থেকে তাঁর মুখ রাখা জায়গায় মুখ রেখে পান করতেন। এই হাদিস হায়েজ নিয়ে অযথা ঘৃণা বা দূরত্বের ধারণা দূর করে। এখানে মূল বিষয় হলো—ঋতুমতী স্ত্রী অপবিত্র বস্তু নয়; তার সঙ্গে খাওয়া-পান করা ও কোমল আচরণ স্বাভাবিক। তবে হাদিসে সহবাসের কথা নেই।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে খাওয়া-পান করার অনুমতি বোঝা যায়।
  • নবী صلى الله عليه وسلم-এর আচরণে স্নেহ ও সম্মান প্রকাশ পেয়েছে।
  • ঋতুমতী নারীকে ঘৃণা বা অযথা দূরে রাখার শিক্ষা নেই।
  • সহবাসের বিষয় এই হাদিসের আলোচ্য নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন