১১/৩১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯২৩ - প্রতি সালাতে কিরাআত ও বর্ণনার সঠিক অবস্থান
মুক্তাদীর জন্যে ইমামের ক্বিরাআতই যথেষ্ট
প্রতি সালাতে কিরাআত: ইমামের কিরাআত বিষয়ে বর্ণনার সতর্কতা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৯২৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৯২৩
أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الزَّاهِرِيَّةِ، قَالَ: حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيُّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ سَمِعَهُ يَقُولُ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفِي كُلِّ صَلَاةٍ قِرَاءَةٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ: وَجَبَتْ هَذِهِ. فَالْتَفَتَ إِلَيَّ وَكُنْتُ أَقْرَبَ الْقَوْمِ مِنْهُ فَقَالَ: مَا أَرَى الْإِمَامَ إِذَا أَمَّ الْقَوْمَ إِلَّا قَدْ كَفَاهُمْ. قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: هَذَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَأٌ، إِنَّمَا هُوَ قَوْلُ أَبِي الدَّرْدَاءِ، وَلَمْ يُقْرَأْ هَذَا مَعَ الْكِتَابِ---[حكم الألباني] صحيح الإسناد والموقوف منه فالتفت إلي
আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো প্রত্যেক সালাতেই কি ক্বিরাআত আছে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। এক আনসার ব্যক্তি বলল, তা ওয়াজিব। তখন তিনি আমার দিকে লক্ষ্য করলেন, আমি সকলের মাঝে তাঁর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, ইমাম যখন দলের ইমামাত করেন, তখন আমি মনে করি, ইমামই তাদের জন্যে যথেষ্ট।
আবূ 'আবদুর রহমান (ইমাম নাসায়ী (রহঃ) বলেন, এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বলা ভুল। এ হলো আবুদ্ দারদারই কথা।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় প্রথমে প্রশ্ন করা হয়, প্রত্যেক সালাতে কি কিরাআত আছে। উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলা হয়েছে। এরপর একজন আনসার ব্যক্তি এটিকে আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন। পরে ইমাম জামাতের জন্য কিরাআত করলে তা তাদের জন্য যথেষ্ট বলে একটি কথা এসেছে। কিন্তু বর্ণনার শেষে আবু আবদুর রহমান স্পষ্ট করেছেন, এই শেষ কথাটি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে বলা ভুল; এটি আবু দারদা (রাঃ)-এর কথা। তাই হাদিসটি পড়ার সময় দুটি বিষয় আলাদা রাখা জরুরি। একটি হলো সালাতে কিরাআতের উল্লেখ। অন্যটি হলো ইমামের কিরাআত যথেষ্ট হওয়ার কথাটির বর্ণনাগত অবস্থান। এই সতর্কতা দেখায়, হাদিসের বক্তব্য কার কথা—তা ঠিকভাবে চিহ্নিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো অংশের উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকলে বর্ণনার শেষের সমালোচনামূলক মন্তব্যও পড়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের সঙ্গে কিরাআতের সম্পর্ক এই বর্ণনায় উল্লেখ হয়েছে।
- রাসূলের বাণী ও সাহাবির বক্তব্য আলাদা করে বুঝতে হবে।
- শেষ অংশটি আবু দারদা (রাঃ)-এর কথা বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
- বর্ণনার ভুল দেখে কোনো বক্তব্য নবীজির নামে নিশ্চিতভাবে বলা ঠিক নয়।
