৯/১৮৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১০২৭ - ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি
বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াত পাঠ করার উপর উৎসাহ দান
ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি: শয়তানের ধোঁকা ও সত্য কথা
রিয়াদুস সালেহীন : ১২/১০২৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১২/১০২৭
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: وَكَّلَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ بِحِفْظِ زَكَاةِ رَمَضَانَ، فَأتَانِي آتٍ فَجَعَلَ يَحْثُو مِنَ الطَّعَام، فَأَخَذْتُهُ فَقُلْتُ: لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ، قَالَ: إنِّي مُحْتَاجٌ، وَعَليَّ عِيَالٌ، وَبِي حَاجَةٌ شَدِيدَةٌ، فَخَلَّيْتُ عَنْهُ، فَأصْبَحْتُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ : «يَا أَبَا هُرَيرَةَ، مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ البَارِحَةَ ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، شَكَا حَاجَةً وَعِيَالاً، فَرحِمْتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ . فَقَالَ: «أمَا إنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ وَسَيَعُودُ» فَعَرَفْتُ أنَّهُ سَيَعُودُ، لِقَولِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَرَصَدْتُهُ، فَجَاءَ يَحْثُو مِنَ الطَّعَامِ، فَقُلْتُ: لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ، قَالَ: دَعْنِي فَإنِّي مُحْتَاجٌ، وَعَلَيَّ عِيَالٌ لاَ أَعُودُ، فَرحِمْتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ، فَأَصْبَحْتُ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ : «يَا أَبَا هُرَيرَةَ، مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ البَارِحَةَ ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، شَكَا حَاجَةً وَعِيَالاً، فَرحِمْتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ . فَقَالَ: «إنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ وَسَيَعُودُ» فَرَصَدْتُهُ الثَّالثَة، فَجَاءَ يَحْثُو مِنَ الطَّعَامِ فَأَخَذْتُهُ، فَقُلتُ: لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ، وَهَذَا آخِرُ ثَلاَثِ مَرَّاتٍ أَنَّكَ تَزْعُمُ أنَّكَ لاَ تَعُودُ ! فَقَالَ: دَعْنِي فَإنِّي أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ يَنْفَعُكَ اللهُ بِهَا، قُلْتُ: مَا هُنَّ ؟ قَالَ: إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَةَ الكُرْسِيِّ، فَإِنَّهُ لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنَ الله حَافِظٌ، وَلاَ يَقْرَبُكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ، فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ، فَأَصْبَحْتُ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ : «مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ البَارِحَةَ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، زَعَمَ أَنَّهُ يُعَلِّمُنِي كَلِمَاتٍ يَنْفَعُنِي اللهُ بِهَا، فَخَلَّيْتُ سَبيلَهُ، قَالَ: «مَا هِيَ؟» قُلْتُ: قَالَ لِي: إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَة الكُرْسِيِّ مِنْ أَوَّلِهَا حَتَّى تَخْتِمَ الآيَةَ: - اللهُ لاَ إلَهَ إِلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ - وَقَالَ لِي: لاَ يَزَالُ عَلَيْكَ مِنَ اللهِ حَافِظٌ، وَلَنْ يَقْرَبَكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : «أمَا إنَّهُ قَدْ صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوْبٌ، تَعْلَمُ مَنْ تُخَاطِبُ مُنْذُ ثَلاَثٍ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟» قُلْتُ: لاَ. قَالَ: «ذَاكَ شَيْطَانٌ».رواه البخاري
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(একবার) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে রমজানের যাকাত (ফিতরার মাল-ধন) দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন। বস্তুতঃ (আমি পাহারা দিচ্ছিলাম ইত্যবসরে) একজন আগমনকারী এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরলাম এবং বললাম, ’তোকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে পেশ করব।’ সে আবেদন করল, ’আমি একজন সত্যিকারের অভাবী। পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার উপর, আমার দারুণ অভাব।’ কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।সকালে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাজির হলাম।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “হে আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কি আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! সে তার অভাব ও (অসহায়) পরিবার-সন্তানের অভিযোগ জানাল। সুতরাং তার প্রতি আমার দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বললেন, “সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।”আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুরূপ উক্তি শুনে সুনিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে। কাজেই আমি তার প্রতীক্ষায় থাকলাম। সে (পূর্ববৎ) এসে আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে বললাম, ’অবশ্যই তোকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে পেশ করব।’ সে বলল, ’আমি অভাবী, পরিবারের দায়িত্ব আমার উপর, (আমাকে ছেড়ে দাও) আমি আর আসব না।’ সুতরাং আমার মনে দয়া হল। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।সকালে উঠে (যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম তখন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, “আবূ হুরাইরা! গত রাত্রে তোমার বন্দী কিরূপ আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ’ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তার অভাব ও অসহায় সন্তান-পরিবারের অভিযোগ জানাল। সুতরাং আমার মনে দয়া হলে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বললেন, “সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে।” সুতরাং তৃতীয়বার তার প্রতীক্ষায় রইলাম।সে (এসে) আঁজলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম, “এবারে তোকে নবী (ﷺ)-এর নিকটে হাজির করবই। এটা তিনবারের মধ্যে শেষবার। ’ফিরে আসবো না’ বলে তুই আবার ফিরে এসেছিস।” সে বলল, ’তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কতকগুলি শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন।’ আমি বললাম, ’সেগুলি কি?’ সে বলল, ’যখন তুমি (ঘুমাবার জন্য) বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করে (ঘুমবে)। তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।’ সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।আবার সকালে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম।) তিনি আমাকে বললেন, “তোমার বন্দী কি আচরণ করেছে?” আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! সে বলল, “আমি তোমাকে এমন কতিপয় শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ আমার কল্যাণ করবেন।” বিধায় আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।’ তিনি বললেন, “সে শব্দগুলি কি?” আমি বললাম, ’সে আমাকে বলল, “যখন তুমি বিছানায় (শোয়ার জন্য) যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ’আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ পড়ে নেবে।” সে আমাকে আরও বলল, “তার কারণে আল্লাহর তরফ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসবে না।”(এ কথা শুনে) তিনি বললেন, “শোনো! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবূ হুরাইরা! তুমি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?” আমি বললাম, ’জী না।’ তিনি বললেন, “সে শয়তান ছিল।” (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ২৩১১ নং হাদীসের পরবর্তী বাব।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১০২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-কে রমযানের যাকাতের মাল পাহারার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিন রাত এক আগন্তুক এসে খাদ্য নিতে থাকে। সে বারবার অভাবের কথা বলে ছাড়া পায়। তৃতীয়বার সে আয়াতুল কুরসি শেখায় এবং বলে, ঘুমের আগে এটি পড়লে আল্লাহর পক্ষ থেকে রক্ষক থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে আসবে না। পরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, সে ছিল শয়তান; সে মিথ্যাবাদী হলেও এই কথাটি সত্য বলেছে। হাদিসটি আয়াতুল কুরসির ফজিলত, দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব এবং প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পাঠের উপকার হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।
- শয়তান মিথ্যাবাদী, তাই সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে নববী নির্দেশনা জরুরি।
- অর্পিত সম্পদের পাহারা ও দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকা দরকার।
