৯/২১২. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৯/১১৮৫ - দাউদ (আঃ)-এর নামায ও রোজার শিক্ষা
রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
মহান আল্লাহ বলেন,﴾ وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَىٰ أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا ﴿ (الاسراء: ٧٩অর্থাৎ রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর; এটা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইসরাইল ৭৯ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾ تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ﴿ (السجدة: ١٦অর্থাৎ তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা ও আশংকার সাথে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী প্রদান করেছি, তা হতে তারা দান করে। (সূরা সেজদা ১৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ﴿(الذاريات: ١٧)অর্থাৎ তারা রাত্রির সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত। (সূরা যারিয়াত ১৭ আয়াত)
দাউদ (আঃ)-এর নামায ও রোজা: ভারসাম্যপূর্ণ ইবাদতের পথ
রিয়াদুস সালেহীন : ১৯/১১৮৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৯/১১৮৫
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: «أَحَبُّ الصَّلاةِ إِلَى اللهِ صَلاةُ دَاوُدَ، وَأَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ، كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَيَصُومُ يَوماً وَيُفْطِرُ يَوْماً». متفقٌ عَلَيْهِ
আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম নামাজ, দাউদ (আঃ) এর নামাজ এবং আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম রোজা, দাউদ (আঃ)-এর রোজা; তিনি অর্ধরাত নিদ্রা যেতেন এবং রাতের তৃতীয় ভাগে ইবাদত করার জন্য উঠতেন। অতঃপর রাতের ষষ্ঠাংশে আবার নিদ্রা যেতেন। (অনুরূপভাবে) তিনি একদিন রোজা রাখতেন ও একদিন রোজা ত্যাগ করতেন।” (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ১১৩১, ১১৫২, ১১৫৩, ১৯৭৪ থেকে ১৯৮০, ৩৪১৮, ৩৪১৯, ৩৪২০, ৫০৫২, ৫০৫৩, ৫০৫৪, ৫১৯৯, ৬১৩৪, ৬২৭৭, মুসলিম ১১৫০৯, তিরমিযী ৭৭০, নাসায়ী ১৬৩০, ২৩৪৪, ২৩৮৮ থেকে ২৩৯৪, ২৩৯৬, ২৩৯৭, ২৩৯৯ থেকে ২৪০৩, আবূ দাউদ ১৩৮৮ থেকে ১৩৯১, ২৪২৭, ২৪৪৮, ইবনু মাজাহ ১৩৪৬, ১৭১২, আহমাদ ৬৪৪১, ৬৪৫৫, ৬৪৮০, ৬৪৯১, ৬৭২১, ৬৭২৫, ৬৭৫০, ৬৭৯৩, ৬৮০২, ৬০৮২৩, ৬৮২৪, ৬৮৩৪, ৬৮৩৭, ৬৮৭৫, ৬৮৮২, ৬৯৮৪, ৭০৫৮, দারেমী ১৭৫২, ৩৪৮৬
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৯/১১৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দাউদ আলাইহিস সালামের নামায ও রোজার কথা বলেছেন। তিনি অর্ধরাত ঘুমাতেন, রাতের তৃতীয় ভাগে ইবাদতের জন্য উঠতেন, তারপর রাতের ষষ্ঠাংশ আবার ঘুমাতেন। রোজার ক্ষেত্রে তিনি একদিন রোজা রাখতেন এবং একদিন রোজা ছাড়তেন। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, ইবাদত মানে শরীরকে ভেঙে ফেলা নয়; বরং নিয়ম, ভারসাম্য ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। দাউদ (আঃ)-এর নামাযে রাতের ইবাদত আছে, আবার ঘুমও আছে। তাঁর রোজায় কঠোরতা আছে, কিন্তু বিরতিও আছে। তাই তাহাজ্জুদ নামায ও নফল রোজার ক্ষেত্রে নিজের শক্তি, সময় ও স্থায়ী আমলের দিকটি ভাবা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবাদতে ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
- রাতের নামাযের পাশাপাশি ঘুমেরও প্রয়োজন আছে।
- নফল রোজায় ধারাবাহিকতা ও সামর্থ্য বিবেচনা করা উচিত।
