১১/২৩৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/১২৮৮ - পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ ও উমরা
হজ্জ্বের অপরিহার্যতা ও তার ফযীলত
মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,﴾وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ﴿ (ال عمران: ٩٧অর্থাৎ মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ করা তার (পক্ষে) অবশ্য কর্তব্য। আর যে অস্বীকার করবে (সে জেনে রাখুক যে), আল্লাহ জগতের উপর নির্ভরশীল নন। (সূরা আলে ইমরান ৯৭ আয়াত)
অক্ষম পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ ও উমরা করার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১০/১২৮৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১০/১২৮৮
وَعَنْ لَقِيطِ بنِ عَامِرٍ رضي الله عنه: أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ ﷺ، فَقَالَ: إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ، لاَ يَسْتَطِيعُ الحَجَّ، وَلاَ العُمْرَةَ، وَلاَ الظَّعَنَ ؟ قَالَ: «حُجَّ عَنْ أَبِيكَ وَاعْتَمِرْ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
লাক্বীত ইবনে আমের (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ’আমার পিতা এত বেশি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন যে, তিনি না হজ করতে সক্ষম, না উমরা করতে সক্ষম, আর না সফর করতে পারবেন।’ তিনি বললেন, “তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হজ ও উমরা সম্পাদন কর।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী-হাসান সহীহ) [১]
আবূ দাউদ ১৮১০, তিরমিযী ৯৩০, নাসায়ী ২৬৩৭, ইবনু মাজাহ ২৯০৭, আহমাদ ১৮৭৫১, ১৮৭৫৭, ১৫৭৬৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/১২৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লাকীত ইবনু আমির (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে বলেন, তাঁর পিতা খুব বৃদ্ধ; তিনি হজ্জ করতে পারেন না, উমরাও করতে পারেন না, এমনকি সফর করতেও সক্ষম নন। উত্তরে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ ও উমরা সম্পাদন কর। এখানে হজ্জের পাশাপাশি উমরার কথাও এসেছে। হাদিসটি পরিবারের দায়িত্ব, বয়স্ক পিতার প্রতি যত্ন এবং ইবাদতের বিষয়ে সঠিক পথ জানার শিক্ষা দেয়। তবে এই অনুমতি নির্দিষ্ট অবস্থার সঙ্গে যুক্ত: পিতা এতটাই অক্ষম যে নিজে সফর করতে পারেন না। তাই হাদিসের শিক্ষা হলো, অক্ষমতার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শরীয়তের অনুমতি অনুযায়ী ইবাদতের দায়িত্ব আদায় করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চরম অক্ষমতার ক্ষেত্রে পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ ও উমরা করা যায়।
- বয়স্ক পিতামাতার দ্বীনি প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
- ইবাদতের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশই মূল পথ।
