১/১৩. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৫/১৩৩ - কষ্টে ওজু, মসজিদে পদক্ষেপ ও নামাজের অপেক্ষা

পুণ্যের পথ অনেক

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٞ ﴿ [البقرة: ٢١٥]অর্থাৎ “তোমরা যে কোন সৎকাজ কর না কেন, আল্লাহ তা সম্যকরূপে অবগত।” (সূরা বাক্বারা ২১৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يَعۡلَمۡهُ ٱللَّهُۗ ﴿ [البقرة: ١٩٧]অর্থাৎ “তোমরা যে সৎকাজ কর, আল্লাহ তা জানেন।” (আল-বাক্বারাহঃ ১৯৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ ﴿ [الزلزلة: ٧]অর্থাৎ “কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করে থাকলেও সে তা দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ مَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا فَلِنَفۡسِهِۦۖ ﴿ [الجاثية: ١٥]অর্থাৎ “যে সৎকাজ করে, সে নিজ কল্যাণের জন্যই তা করে।” (সূরা জাসিয়াহ ১৫ আয়াত)এ বিষয়ে আয়াত অনেক রয়েছে এবং হাদীসও অগণিত রয়েছে। তার মধ্যে কিছু আমরা বর্ণনা করব।

পাপ মোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধি: ওজু, মসজিদে হাঁটা ও নামাজের অপেক্ষা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৫/১৩৩

الخامس عشر: عنه قال رسول الله ﷺ: «ألا أدلكم على ما يمحو الله به الخطايا، ويرفع به الدرجات؟» قالوا: بلى يا رسول الله، قال: «إسباغ الوضوء على المكاره، وكثرة الخطا إلى المساجد، وانتظار الصلاة بعد الصلاة، فذلكم الرباط» (رواه مسلم).

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ’’আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজ বলে দেব না, যার দ্বারা আল্লাহ তা’আলা পাপসমূহকে নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং মর্যাদা বর্ধন করেন?’’ সাহাবীগণ বললেন, ’অবশ্যই বলুন, হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, ’’কষ্টের সময় পূর্ণরূপে ওজু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদক্ষেপ করা (অর্থাৎ দূর থেকে আসা) এবং এক নামাজের পর দ্বিতীয় নামাজের অপেক্ষা করা। সুতরাং এই হল (নেকী ও সওয়াবে) সীমান্ত পাহারা দেওয়ার মত।’’[১]

মুসলিম ২৫১, তিরমিযী ৫২, নাসায়ী ১৪৩, আহমাদ ৭১৬৮, ৭৬৭২, ৭৯৩৫, ৭৯৬১

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৫/১৩৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের এমন কাজের কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ পাপ মুছে দেন এবং মর্যাদা বাড়ান। প্রথম কাজ হলো কষ্টের সময়ও পূর্ণরূপে ওজু করা। দ্বিতীয় কাজ হলো মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদক্ষেপ করা, অর্থাৎ দূর থেকে মসজিদে আসাও নেকীর কারণ হতে পারে। তৃতীয় কাজ হলো এক নামাজের পর আরেক নামাজের অপেক্ষা করা। নবী (صلى الله عليه وسلم) এগুলোকে ‘রিবাত’ বা সীমান্ত পাহারার মতো বলেছেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইবাদতে ধৈর্য, নিয়মিততা এবং মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক বান্দার মর্যাদা বাড়ানোর পথ। কষ্ট থাকলেও ওজু ও নামাজের প্রতি যত্ন নেওয়া এই হাদিসের বড় শিক্ষা। তাই নামাজের সঙ্গে আগে-পরের প্রস্তুতি, হাঁটা এবং অপেক্ষা—এসবও বান্দার আমলের অংশ হয়ে যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কষ্টের সময়ও পূর্ণভাবে ওজু করা পাপ মোচনের কারণ হতে পারে।
  • মসজিদের দিকে বেশি পদক্ষেপ করা মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ।
  • এক নামাজের পর আরেক নামাজের অপেক্ষা প্রশংসিত আমল।
  • নিয়মিত ইবাদত ও ধৈর্য বান্দাকে আল্লাহর কাছাকাছি করে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন