১৬/২৪৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১৪২৭ - নামাজের পর ১০০ যিকিরের ফজিলত
যিকির তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ﴿ [العنكبوت: ٤٥]“অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ।”(সূরা আনকাবূত ৪৫ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,﴾فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ﴿ [البقرة: ١٥٢]“তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব।”(সূরা বাকারা ১৫২ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ﴿ [الاعراف: ٢٠٥]“তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং তুমি উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।”(সূরা আ‘রাফ ২০৫ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿ [الجمعة: ١٠]“আল্লাহকে অধিক-রূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।”(সূরা জুমআ ১০ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ﴿ إِلَى قَوْله تَعَالَى: ﴾وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا﴿ [الاحزاب: ٣٥]“নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) পুরুষ ও আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরুষ ও রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী (সংযমী) পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী (সংযমী) নারী,আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী---এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহা প্রতিদান রেখেছেন।”(সূরা আহযাব ৩৫ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا ٤١ وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا ٤٢ ﴿ [الاحزاب: ٤١، ٤٢]“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।”(সূরা আহযাব ৪১-৪২ আয়াত)এ মর্মে আরও অনেক বিদিত আয়াত রয়েছে।
নামাজের পর ১০০ যিকির: ক্ষমা লাভের বড় আমল
রিয়াদুস সালেহীন : ১২/১৪২৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১২/১৪২৭
وَعَنْه، عَن رَسُولِ اللهِ ﷺ، قَالَ: «مَنْ سَبَّحَ اللهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثاً وَثَلاَثِينَ، وحَمِدَ اللهَ ثَلاثاً وَثَلاَثِينَ، وَكَبَّرَ الله ثَلاَثاً وَثَلاَثِينَ، وَقَالَ تَمَامَ المِئَةِ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ البَحْرِ». رواه مسلم
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক (ফরয) নামাজ বাদ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ ও ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং একশত পূর্ণ করতে ’লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুলি শায়ইন ক্বাদীর’ পড়বে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়। (মুসলিম)[১]
মুসলিম ৫৯৭, আবূ দাউদ ১৫০৪, আহমাদ ৮৬১৬, ৯৮৯৭, মুওয়াত্তা মালিক ৮৪৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১৪২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রত্যেক ফরয নামাজের পরে একটি নির্দিষ্ট যিকিরের কথা বলেছেন। ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পড়ার পর একশ পূর্ণ করতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু...’ পড়তে বলা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি এভাবে পড়বে তার গুনাহ মাফ করা হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নামাজের পরের যিকির শুধু অভ্যাস নয়; এটি বান্দাকে আল্লাহর ক্ষমার দিকে নিয়ে যায়। তবে এই আমলকে বুঝে, মনোযোগ দিয়ে এবং আল্লাহর ওপর আশা রেখে পড়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরয নামাজের পর নির্দিষ্ট যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমা চাওয়া যায়।
- ৩৩ বার তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীরের পর তাওহীদী কালিমা পড়ার শিক্ষা আছে।
- হাদিসে এই যিকিরের সঙ্গে গুনাহ মাফের সুসংবাদ এসেছে।
- যিকিরকে শুধু মুখের অভ্যাস নয়, আল্লাহমুখী আমল বানানো দরকার।
