১৭/২৫০. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৫/১৪৮৭ - উপকারী ইলম ও বিনয়ী হৃদয়ের দোয়া

দো‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী (ﷺ)-এর কতিপয় দো‘আর নমুনা

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,﴾وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ٦٠ ﴿ (غافر: ٦٠“তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সূরা গাফের ৬০ আয়াত)তিনি বলেন,﴾ ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ٥٥ ﴿ (الاعراف: ٥٤“তোমরা কাকুতি-মিনতি সহকারে ও সংগোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক, নিশ্চয় তিনি সীমালংঘন কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সূরা আ‘রাফ ৫৫ অয়াত)তিনি আরও বলেন,وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ (البقرة: ١٨٦“আর আমার দাসগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।” (সূরা বাক্বারাহ১৮৬ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾ أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ﴿ [النمل: ٦٢]“অথবা (উপাস্য) তিনি, যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন।” (সূরা নামল ৬২ আয়াত)

তাকওয়া ও উপকারী ইলমের দোয়া

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৫/১৪৮৭

وَعَنْ زَيدِ بنِ أَرْقَمَ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ، يَقُولُ: «اَللهم إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ العَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالبُخْلِ وَالهَرَمِ، وَعَذَابِ القَبْرِ، اَللهم آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّها أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاَهَا، اَللهم إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ؛ وَمِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ، وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ؛ وَمِنْ دَعْوَةٍ لاَ يُسْتَجابُ لَهَا». رواه مسلم

যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই দোয়া পাঠ করতেন, “আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল আজ্যি অলকাসালি অলবুখ্লি অলহারামি অ আযা-বিল ক্বাব্র্। আল্লা-হুম্মা আ-তি নাফসী তাক্বওয়া-হা অযাক্কিহা আন্তা খাইরু মান যাক্কা-হা, আন্তা অলিয়্যুহা অমাউলা-হা। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন ইলমিল লা য়্যানফা’, অমিন ক্বালবিল লা য়্যাখশা’, অমিন নাফসিল লা তাশবা’, অমিন দা’ওয়াতিল লা য়্যুস্তাজা-বু লাহা।” অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, স্থবিরতা এবং কবরের আযাব থেকে পানাহ চাচ্ছি।হে আল্লাহ আমার আত্মায় তোমার ভীতি প্রদান কর এবং তাকে পবিত্র কর, তুমিই শ্রেষ্ঠ পবিত্রকারী। তুমিই তার অভিভাবক ও প্রভু। হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট সেই ইলম থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা কোন উপকারে আসে না। সেই হৃদয় থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা বিনয়ী হয় না। সেই আত্মা থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা তৃপ্ত হয় না এবং সেই দোয়া থেকে পানাহ চাচ্ছি, যা কবুল হয় না। (মুসলিম) [১]

মুসলিম ২৭২২, তিরমিযী ৩৫৭২, নাসায়ী ৫৪৫৮, ৫৫৩৮

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৫/১৪৮৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয়: তাকওয়া ও উপকারী ইলম। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, স্থবিরতা ও কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন। এরপর তিনি বলতেন—হে আল্লাহ, আমার আত্মাকে তার তাকওয়া দাও এবং তাকে পবিত্র কর; তুমিই তাকে পবিত্র করার শ্রেষ্ঠ কর্তা। দোয়ায় আরও আছে, যে ইলম উপকারে আসে না, যে হৃদয় বিনয়ী হয় না, যে আত্মা তৃপ্ত হয় না এবং যে দোয়া কবুল হয় না—এসব থেকে আশ্রয় চাওয়া। তাই এটি তাকওয়ার দোয়া, উপকারী ইলমের দোয়া এবং বিনয়ী হৃদয়ের দোয়া হিসেবে খুব অর্থবহ। হাদিসটি ভেতরের সংশোধনের দিকে মনোযোগ দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আত্মার তাকওয়া ও পবিত্রতা আল্লাহর কাছে চাওয়া দরকার।
  • এমন ইলম থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে যা কাজে লাগে না।
  • বিনয়ী হৃদয় ও তৃপ্ত আত্মা মুমিনের বড় প্রয়োজন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন