১৮/২৫৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৫৪০ - দ্বীনের জ্ঞান নিয়ে সতর্ক মন্তব্য
যে সব কারণে গীবত বৈধ
দ্বীনের জ্ঞান সম্পর্কে সতর্ক মন্তব্য: উদ্দেশ্য ও সীমার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ২/১৫৪০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১৫৪০
وَعَنْهُا، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «مَا أَظُنُّ فُلاَناً وَفُلاَناً يَعْرِفَانِ مِنْ دِينِنَا شَيْئاً».رواه البخاري. قَالَ: قَالَ اللَّيْثُ بنُ سَعدٍ أَحَدُ رُوَاةِ هَذَا الحَدِيثِ : هَذَانِ الرَّجُلاَنِ كَانَا مِنَ المُنَافِقِينَ.
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ’’আমার মনে হয় না যে, অমুক ও অমুক লোক আমাদের দ্বীন সম্পর্কে কিছু জ্ঞান রাখে।’’ (বুখারী) [১] এই হাদিসের অন্যতম রাবী লাইস বিন সা’দ বলেন, ’ঐ লোক দুটি মুনাফিক ছিল।’
সহীহুল বুখারী ৬০৬৮
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৫৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তাঁর মনে হয় না যে অমুক ও অমুক ব্যক্তি আমাদের দ্বীন সম্পর্কে কিছু জ্ঞান রাখে। অনুবাদের নোটে একজন রাবীর বক্তব্য এসেছে যে, ঐ দুই ব্যক্তি মুনাফিক ছিল। এই বর্ণনা গীবত অধ্যায়ে এসেছে, কারণ এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা বোঝানো হয়েছে। সাধারণভাবে মানুষের দোষ আলোচনা করা নিষিদ্ধ। কিন্তু যখন কারো অবস্থা জানা মানুষের দ্বীন, নিরাপত্তা বা সতর্কতার জন্য দরকার হয়, তখন বাস্তব কথা বলা যেতে পারে। তবে এই হাদিসকে অজুহাত বানিয়ে কাউকে ছোট করা ঠিক নয়। রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর কথা ছিল জ্ঞান, ওহী ও বাস্তব অবস্থার আলোকে। আমাদের ক্ষেত্রে কথা বলার আগে সত্যতা, প্রয়োজন, উদ্দেশ্য এবং ক্ষতির আশঙ্কা ভাবতে হবে। জিহ্বা সংযম মানে কখন চুপ থাকতে হবে এবং কখন সতর্ক করতে হবে—দুটিই বোঝা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারো দোষ বলা সাধারণভাবে নিষিদ্ধ, তবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা আলাদা হতে পারে।
- দ্বীন সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে সত্যতা ও উদ্দেশ্য দেখা দরকার।
- জিহ্বা সংযম মানে অযথা কথা না বলা এবং প্রয়োজনীয় কথা সীমার মধ্যে বলা।
