১৮/২৭৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫৮৫ - ভাইয়ের বিপদে আনন্দ নয়
কোন মুসলিমের দুঃখ-কষ্ট দেখে আনন্দ প্রকাশ করা নিষেধ
আল্লাহ বলেছেন,﴾ إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ﴿ [الحجرات: ١٠]অর্থাৎ সকল ঈমানদার তো পরস্পর ভাই ভাই। (সূরা হুজুরাত ১০ আয়াত)অন্যত্র তিনি বলেন,إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ ٱلْفَاحِشَةُ فِي ٱلَّذِينَ آمَنُواْ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي ٱلدُّنْيَا وَٱلآخِرَةِ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لاَ تَعْلَمُونَঅর্থাৎ যারা ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে ইহলোকে ও পরলোকে মর্মন্তুদ শাস্তি। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না। (সূরা নূর ১৯ আয়াত)
অন্যের বিপদে আনন্দ নয়: সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৫৮৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৫৮৫
وَعَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأسْقَعِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ : «لَا تُظْهِرِ الشَّمَاتَةَ لِأَخِيْكَ فَيَرْحَمْهُ اللهُ وَيَبْتَلِيْكَ» رواه الترمذي وقال : حديث حسنٌ.
ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দিত হয়ো না। কেননা এতে আল্লাহ তার প্রতি করুণা করবেন এবং ঐ তোমাকে বিপদে নিমজ্জিত করবেন। (তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন)[১]
আমি [আলবানী) বলছিঃ হাদীসটিকে হাসান আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ এটি মাকহূলের আন্ আন্ করে বর্ণনাকৃত। ইমাম বুখারী বলেন : মাকহূল সাহাবী ওয়াসিলাহ্ (রাঃ) হতে শ্রবণ করেননি। আবূ হাতিম রাযীও ইমাম বুখারীর সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেছেন। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন ‘‘য‘ইফাহ্’’ [৫৪২৬) এ বিষয়ে পূর্বোক্ত ’অপরের গোপনীয় দোষ সন্ধান’ নামক পরিচ্ছেদে আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত [১৫৭৮নং] হাদিস বিদ্যমান। যাতে আছে, ’’প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, সম্ভ্রম ও সম্পদ অপর মুসলিমের উপর হারাম।’’ ---আল হাদিস।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ভাইয়ের বিপদে আনন্দ প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন। মানুষের দুর্দশা দেখে খুশি হওয়া অন্তরের কঠোরতা ও বিদ্বেষের লক্ষণ হতে পারে। হাদিসে বলা হয়েছে, এতে আল্লাহ তার প্রতি করুণা করতে পারেন এবং আনন্দকারী ব্যক্তিকে বিপদে ফেলতে পারেন। তাই মুমিনের কাজ হলো অন্যের কষ্টে খুশি না হয়ে নিজের অন্তরকে নরম রাখা। কেউ ভুল করলে তার সংশোধন কামনা করা যায়, কিন্তু তার অপমান, বিপদ বা কষ্ট দেখে আনন্দ করা ইসলামী চরিত্র নয়। এই শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও দরকার—পরিবার, সমাজ, কাজের জায়গা বা অনলাইনে কারও বিপদ দেখলে ব্যঙ্গ নয়, বরং সংযম ও সহমর্মিতা দেখানো উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের বিপদে আনন্দ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা দরকার।
- মুমিনের চরিত্রে সহানুভূতি ও নরম মন থাকা উচিত।
- কারও ভুল দেখলে অপমান নয়, সংশোধনের মনোভাব রাখা ভালো।
- বিদ্বেষপূর্ণ আনন্দ নিজের জন্যও বিপদের কারণ হতে পারে।
