১৮/২৭৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫৯২ - মুনাফিকের চার স্বভাব
চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ﴿[المائدة: ١]অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর।(সূরা মায়েদাহ ১ নং আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا﴿[الاسراء: ٣٤]অর্থাৎ আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বানী ঈস্রাঈল ৩৪ আয়াত)
মুনাফিকের চার স্বভাব: আমানত, সত্য, ওয়াদা ও ভাষার পরীক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৫৯২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৫৯২
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: «أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقاً خَالِصاً، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَها : إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ، وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ». متفق عَلَيْهِ.
আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবন আ‘স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকবে সে খাঁটি মুনাফিক গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তির মাঝে তার মধ্য হতে একটি স্বভাব থাকবে, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকদের একটি স্বভাব থেকে যাবে। [সে স্বভাবগুলি হল,]১। তার কাছে আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে।২। কথা বললে মিথ্যা বলে।৩। ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং৪। ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা বলে।’’(বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৩৪, ২৪৫৯, ৩১৭৮, মুসলিম ৫৮, তিরমিযী ২৬৩২, নাসায়ী ৫০২০ আবূ দাউদ ৪৫৮৮, আহমাদ ৬৭২৯, ৬৮২৫, ৬৮৪০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) মুনাফিকের চারটি স্বভাব বলেছেন। প্রথমত, আমানত রাখা হলে খিয়ানত করা। দ্বিতীয়ত, কথা বললে মিথ্যা বলা। তৃতীয়ত, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করা। চতুর্থত, ঝগড়ায় লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা বলা। যার মধ্যে সবগুলো থাকবে, সে খাঁটি মুনাফিকের মতো আচরণে পড়ে। আর যার মধ্যে একটি থাকবে, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকির একটি স্বভাব থেকে যায়। এই হাদিস আমাদের প্রতিদিনের চরিত্র পরীক্ষা করতে শেখায়। আমরা কীভাবে কথা বলি, প্রতিশ্রুতি রাখি, আমানত সামলাই এবং রাগের সময় ভাষা নিয়ন্ত্রণ করি—এসবই ঈমানি চরিত্রের অংশ। তাই শুধু বাহ্যিক আমল নয়, আচরণও সংশোধন করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমানত রক্ষা করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- মিথ্যা বলা মুনাফিকি স্বভাবের মধ্যে পড়ে।
- ওয়াদা করলে তা রাখার চেষ্টা করা দরকার।
- ঝগড়ার সময় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার থেকে বাঁচতে হবে।
