১৮/২৮২. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৬১২ - গোলামকে মারধর ও আল্লাহর ক্ষমতার স্মরণ

দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ

মহান আল্লাহ বলেন,﴾ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا﴿ [النساء : ٣٦]অর্থাৎ পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর। নিশ্চয় আল্লাহ আত্মম্ভরি দাম্ভিককে ভালবাসেন না।(সূরা নিসা ৩৬ আয়াত)

গোলামকে মারধর নয়: আল্লাহর ক্ষমতার সামনে মানুষের জবাবদিহি

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১৬১২

وَعَنْ أَبي مَسعُودٍ البَدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ أَضْرِبُ غُلامَاً لِي بِالسَّوْطِ، فَسَمِعْتُ صَوْتاً مِنْ خَلْفِي : «اِعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ» فَلَمْ أَفْهَمِ الصَّوْتَ مِنَ الغَضَبِ، فَلَمَّا دَنَا مِنِّي إِذَا هُوَ رَسُول اللهِ ﷺ، فَإِذَا هُوَ يَقُولُ : «اِعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ أَنَّ اللهَ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَى هَذَا الغُلامِ». فَقُلتُ : لاَ أَضْرِبُ مَمْلُوكاً بَعْدَهُ أَبَداً.وَفِي رِوَايَةٍ : فَسَقَطَ السَّوْطُ مِنْ يَدِي مِنْ هَيْبَتِهِ. وَفِي رِوَايَةٍ : فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، هُوَ حُرٌّ لِوَجْهِ اللهِ تَعَالَى، فَقَالَ: «أَمَا لَوْ لَمْ تَفْعَلْ، لَلَفَحَتْكَ النَّارُ، أَوْ لَمَسَّتْكَ النَّارُ» . رواه مسلم بهذه الروايات .

আবূ মাসঊদ বদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি একদা আমার একটি গোলামকে চাবুক মারছিলাম। ইত্যবসরে পিছন থেকে এই শব্দ শুনতে পেলাম ’জেনে রেখো, হে আবূ মাসঊদ!’ কিন্তু ক্রোধান্বিত অবস্থায় শব্দটা বুঝতে পারলাম না। যখন সেই [শব্দকারী] আমার নিকটবর্তী হল, তখন সহসা দেখলাম যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তিনি বলছিলেন, ’জেনে রেখো আবূ মাসঊদ! ওর উপর তোমার যতটা ক্ষমতা আছে, তোমার উপর আল্লাহ তা’আলা আরও বেশি ক্ষমতাবান।’ তখন আমি বললাম, ’এরপর থেকে আমি আর কখনো কোন গোলামকে মারধর করব না।’এক বর্ণনায় আছে, তাঁর ভয়ে আমার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল। আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ওকে স্বাধীন করে দিলাম।’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ’’শোন! তুমি যদি তা না করতে, তাহলে জাহান্নামের আগুন তোমাকে অবশ্যই দগ্ধ অথবা স্পর্শ করত।’’(মুসলিম)[১]

মুসলিম ১৬৫৯, তিরমিযী ১৯৪৮, আবূ দাউদ ৫১৫৯, আহমাদ ১৬৬৩৮, ২১৮৪৫, ২১৮৪৯

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৬১২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবূ মাসঊদ বদরী রাঃ নিজের একটি গোলামকে চাবুক মারছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পেছন থেকে তাকে ডাকেন এবং বলেন, ওই গোলামের ওপর তোমার যতটা ক্ষমতা আছে, তোমার ওপর আল্লাহ আরও বেশি ক্ষমতাবান। এই কথায় তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন এবং বলেন, এরপর আর কোনো গোলামকে মারধর করবেন না। অন্য বর্ণনায় আছে, ভয়ে তার হাত থেকে চাবুক পড়ে যায় এবং তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গোলামকে মুক্ত করে দেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, অধীনস্থদের ওপর জুলুম করা খুব ভয়াবহ। মানুষ ক্ষমতা পেলে ভুলে যেতে পারে যে তার ওপর আল্লাহর ক্ষমতা আরও বড়। তাই গোলামকে মারধর, অধীনস্থদের প্রতি কঠোরতা এবং জুলুম থেকে বাঁচা—এই হাদিসের কেন্দ্রীয় শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অধীনস্থকে মারধর করার আগে আল্লাহর ক্ষমতা স্মরণ করা উচিত।
  • মানুষের ক্ষমতা সীমিত, আল্লাহর ক্ষমতা অনেক বড়।
  • জুলুম বুঝতে পারলে দ্রুত ফিরে আসা প্রশংসনীয়।
  • দাস মুক্ত করা এখানে অন্যায়ের সংশোধনের পথ হিসেবে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন