১৮/৩০৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১৬৮২ - হারাম উপার্জন থেকে বাঁচার হাদিস
গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদি ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন নিষেধ
যারা কাঁকর, যবদানা ইত্যাদি মেরে [ফালনামা খুলে বা হাত চালিয়ে বা হস্তরেখা পড়ে অথবা রাশি গণনা করে] ভাগ্য-ভবিষ্যৎ তথা অজানা ও গায়েবী বিষয়ের খবর বলে, তাদের নিকট এসে ঐ শ্রেণীর কিছু জিজ্ঞাসা করা বৈধ নয়।
হারাম উপার্জন: কুকুরের মূল্য ও গণকের পারিতোষিকের নিষেধ
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/১৬৮২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/১৬৮২
وَعَنْ أَبِي مَسعُودٍ البَدْرِيِّ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الكَلْبِ، وَمَهْرِ البَغِيِّ، وَحُلْوَانِ الكَاهِنِ. متفق عَلَيْهِ
আবূ মাসঊদ বদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১] [অর্থাৎ কুকুর বিক্রি করে, নিজের দাসীকে বেশ্যার কাজে এবং দাসকে গণকের কাজে খাটিয়ে অর্থ উপার্জন করতে নিষেধ করেছেন।]
সহীহুল বুখারী ২২৩৭, ২২৮২, ৫৩৪৬, ৫৭৬১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১৬৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তিন ধরনের আয় গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন—কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক। এখানে উপার্জনের পবিত্রতার বিষয়টি খুব সরাসরি এসেছে। মানুষ অনেক সময় অর্থকে শুধু লাভ হিসেবে দেখে, কিন্তু এই হাদিস শেখায় যে আয় কিসের বিনিময়ে আসছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যভিচারের বিনিময় একটি নোংরা উপার্জন, আর গণকের পারিতোষিক মানুষের ভয়, অজানা বিষয় ও ভুল বিশ্বাসকে ব্যবহার করে নেওয়া অর্থ। কুকুরের মূল্য সম্পর্কেও নিষেধ এসেছে। তাই মুসলিম জীবনে হালাল আয় শুধু একটি অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি ঈমান, চরিত্র ও আল্লাহর নির্দেশ মানার সঙ্গে জড়িত। হাদিসটি আমাদের শেখায়, যে আয় নিষিদ্ধ পথ থেকে আসে, তা গ্রহণ না করাই নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উপার্জনের উৎস হালাল কি না, তা দেখা জরুরি।
- গণকের কাজকে অর্থ দিয়ে সমর্থন করা নিষিদ্ধ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে।
- ব্যভিচারের বিনিময় গ্রহণ করা স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
- মুসলিমের আয় পবিত্র ও অনুমোদিত পথে হওয়া উচিত।
