১৮/৩১৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৭২৬ - নবীজির কসম ভঙ্গের কাফফারার শিক্ষা
নির্দিষ্ট বিষয়ে কসম খাওয়ার পর যদি তার বিপরীতে ভালাই প্রকাশ পায়, তাহলে কসমের কাফফারা দিয়ে ভালো কাজটাই করা উত্তম
নবীজির শিক্ষা: কসম নয়, উত্তম কাজকে প্রাধান্য
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/১৭২৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১৭২৬
وَعَنْ أَبي مُوسَى رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: «إِنِّي وَاللهِ إِنْ شاءَ اللهُ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ، ثُمَّ أَرَى خَيراً مِنْهَا إِلاَّ كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي، وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ». متفق عَلَيْهِ
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’আল্লাহর শপথ! ইন শাআল্লাহ, আমি যখনই কিছুর ব্যাপারে হলফ করব, তারপর তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখতে পাব, তখন আমার কসম ভঙ্গের কাফফারা দিয়ে যেটি উত্তম সেটিই করব।’’(বুখারী-মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৩১৩৩, ৪৩৮৫, ৪৪১৫, ৫৫১৭, ৫৫১৮, ৬৬২৩, ৬৬৪৯, ৬৬৭৮, ৬৬৮০, ৬৭১৮, ৬৭২১, ৭৫৫৫, মুসলিম ১৬৪৯, তিরমিযী ১৮২৬, ১৮২৭, নাসায়ী ৪৩৪৬, ৪৩৪৭, ইবনু মাজাহ ২১০৭, আহমাদ ১৯০২৫, ১৯০৬০, ১৯০৯৪, ১৯১২৫, ১৯১৪৩, ১৯২৫০, দারেমী ২০৫৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৭২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজের কথা দিয়ে কসমের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি যখন কোনো বিষয়ে কসম করবেন, এরপর তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখতে পাবেন, তখন কসম ভঙ্গের কাফফারা দিয়ে উত্তম কাজটি করবেন। এখানে শিক্ষা হলো, ইসলাম মানুষকে জেদে আটকে রাখতে চায় না। ভুল বা কম ভালো সিদ্ধান্তের উপর কসম করে ফেললে, পরে ভালো পথ বুঝে গেলে কাফফারার মাধ্যমে সেই ভালো কাজ করা উচিত। কসমের সম্মান থাকবে, তাই কাফফারা আছে; আবার ভালো কাজের পথও খোলা থাকবে। এই হাদিসে কসমের কাফফারা, উত্তম কাজ এবং বাস্তব জীবনে নমনীয় সিদ্ধান্তের সুন্দর শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উত্তম কাজ দেখা গেলে কসমের কারণে তা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
- কসম ভাঙলে কাফফারা দেওয়া দরকার।
- ভালো বুঝে সঠিক পথে ফিরতে দ্বিধা করা উচিত নয়।
- কসমের বিষয়েও নবীজির আচরণ আমাদের জন্য শিক্ষা।
