১৮/৩৬৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৮১০ - নীরব থেকে হজ্জ করার জাহেলী প্রথা
রাত পর্যন্ত সারাদিন কথা বন্ধ রাখা নিষেধ
নীরব থেকে হজ্জ করা নিষেধ: আবূ বকর (রাঃ)-এর শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ২/১৮১০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১৮১০
وَعَنْ قَيسِ بنِ أَبي حَازِمٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيق رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَلَى امْرأَةٍ مِنْ أَحْمَسَ يُقَالُ لَهَا : زَيْنَبُ، فَرَآهَا لاَ تَتَكَلَّمُ . فَقَالَ: مَا لَهَا لاَ تَتَكَلَّمُ ؟ فَقَالُوا : حَجَّتْ مُصْمِتَةً، فَقَالَ لَهَا : تَكَلَّمِي، فَإِنَّ هَذَا لاَ يَحِلُّ، هَذَا مِنْ عَمَلِ الجَاهِليَّةِ، فَتَكَلَّمَتْ . رواه البخاري
কায়েস ইবনে আবূ হাযেম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) আহমাস গোত্রের যয়নাব নামক এক মহিলার নিকট এসে দেখলেন যে, সে কথা বলে না। তিনি বললেন, ’ওর কি হয়েছে যে, কথা বলে না?’ তারা বলল, ’ও নীরব থেকে হজ্জ করার সংকল্প করেছে।’ তিনি বললেন, ’কথা বল। কারণ, এ [নীরবতা] বৈধ নয়। এ হল জাহেলী যুগের কাজ।’ সুতরাং সে কথা বলতে লাগল। (বুখারী)[১]
সহীহুল বুখারী ৩৮৩৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৮১০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) আহমাস গোত্রের যয়নাব নামের এক মহিলার কাছে গিয়ে দেখলেন, তিনি কথা বলছেন না। জিজ্ঞেস করলে বলা হলো, তিনি নীরব থেকে হজ্জ করার সংকল্প করেছেন। আবূ বকর (রাঃ) তাকে বললেন, কথা বলো; কারণ এটি বৈধ নয়, এটি জাহেলী যুগের কাজ। এরপর তিনি কথা বলতে লাগলেন। নীরব থেকে হজ্জ করা নিষেধ হাদিসটি দেখায়, ইবাদত নিজের ইচ্ছামতো বানানো যায় না। হজ্জ বড় ইবাদত হলেও তার সঙ্গে এমন কাজ জুড়ে দেওয়া যাবে না, যা ইসলামে অনুমোদিত নয়। ইসলাম ভালো কথা, জিকির ও সঠিক আমলের পথ দেখায়; অকারণ নীরবতাকে ইবাদত বানায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবাদতের নামে নিজের তৈরি পদ্ধতি যোগ করা ঠিক নয়।
- নীরব থেকে হজ্জ করার সংকল্পকে আবূ বকর (রাঃ) জাহেলী কাজ বলেছেন।
- ভালো কথা বলা ও স্বাভাবিক যোগাযোগ ইসলামের আদবের অংশ।
- ইবাদত করতে হলে নববী পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার।
