১৮/৩৬৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১৮১৪ - মিথ্যা পরিচয় ও কাউকে কাফের বলা থেকে সতর্কতা
নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা বা নিজ মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবী করা হারাম
কাউকে কাফের বলা ও মিথ্যা দাবি: জিহ্বা ও পরিচয়ের সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/১৮১৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/১৮১৪
وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : أنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ، يَقُولُ : «لَيْسَ مِنْ رَجُلٍ ادَّعَى لِغَيرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُهُ إِلاَّ كَفَرَ، وَمَنِ ادَّعَى مَا لَيْسَ لَهُ، فَلَيْسَ مِنَّا، وَلَيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ، وَمَنْ دَعَا رَجُلاً بِالْكُفْرِ، أَوْ قَالَ: عَدُوَّ اللهِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلاَّ حَارَ عَلَيْهِ». متفق عَلَيْهِ، وهذا لفظ رواية مسلم
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, ’’যে কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অন্যকে নিজের বাপ বলে দাবি করে, সে কুফরী করে। যে ব্যক্তি এমন কিছু দাবি করে, যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর সে যেন নিজস্ব বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কাউকে ’কাফের’ বলে ডাকে বা ’আল্লাহর দুশমন’ বলে, অথচ বাস্তবে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার [বক্তার] উপর তা বর্তায়।’’ (বুখারী-মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৩৫০৮, মুসলিম ৫১, ইবনু মাজাহ ২৩১৯, আহমাদ ২০৯৫৪
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১৮১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তিনটি বড় সতর্কতা এসেছে। প্রথমত, কেউ জেনে-বুঝে অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবি করলে তা ভয়াবহ অপরাধ। দ্বিতীয়ত, কেউ এমন কিছু দাবি করলে যা তার নয়, সে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দলের পথ থেকে দূরে সরে যায়। তৃতীয়ত, কাউকে কাফের বা আল্লাহর দুশমন বলা হলে, বাস্তবে সে তা না হলে কথাটি বক্তার দিকেই ফিরে আসে। কাউকে কাফের বলা হাদিস আমাদের শেখায়, জিহ্বা খুব সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়। পরিচয়, মালিকানা ও মানুষের ঈমান সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করা বড় বিপদের কারণ। তাই মুসলিমের উচিত সত্য বলা, অযথা দাবি না করা এবং মানুষের ওপর কঠিন শব্দ ব্যবহারে ভয় করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জেনেশুনে মিথ্যা পিতৃপরিচয় দাবি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
- নিজের নয় এমন জিনিস দাবি করা ভয়াবহ অন্যায়।
- কাউকে কাফের বা আল্লাহর দুশমন বলার আগে কঠোর সতর্কতা দরকার।
- ভুল অপবাদ বক্তার দিকেই ফিরে আসতে পারে।
