১৮/৩৬৯. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৮১৬ - লাত-উয্যার নামে কসম ও জুয়ার ডাক থেকে তাওবার শিক্ষা
হারামকৃত কাজে লিপ্ত হয়ে পড়লে কি বলা ও করা কর্তব্য
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُঅর্থাৎ যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা ফুসস্বিলাত ৩৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَঅর্থাৎ নিশ্চয়ই যারা সাবধান হয়, যখন শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দেয়, তখন তারা আত্ম-সচেতন হয় এবং তৎক্ষণাৎ তাদের চক্ষু খুলে যায়। (সূরা আ‘রাফ ২০১ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ أُولَٰئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَঅর্থাৎ যারা কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করতে পারে? এবং তারা যা [অপরাধ] করে ফেলে তাতে জেনে-শুনে অটল থাকে না। ঐ সকল লোকের প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা এবং জান্নাত; যার নিচে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এবং [সৎ]কর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম। (সূরা আলে ইমরান ১৩৫ -১৩৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَঅর্থাৎ তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে তওবা [প্রত্যাবর্তন] কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা নূর ৩১ আয়াত)
লাত-উয্যার কসম ও জুয়া: ভুল কথা হলে কী করণীয়
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৮১৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৮১৬
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «مَنْ حَلَفَ فَقَالَ في حَلِفِهِ : بِاللاَّتِ وَالعُزَّى، فَلْيَقُلْ : لاَ إِلٰهَ إلاَّ اللهُ، وَمَنْ قَالَ لِصَاحِبهِ : تَعَالَ أُقَامِرْكَ فَلْيَتَصَدَّقْ» .متفق عليه
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি কসম করে বলে, ’লাত ও উয্যার কসম’, সে যেন ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। আর যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে, ’এস তোমার সাথে জুয়া খেলি’, সে যেন সাদকাহ করে।’’ (বুখারী-মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৪৮৬০, ৬১০৭, ৬৩০১, ৬৬৫০, মুসলিম ১৬৪৭, তিরমিযী ১৫৪৫, নাসায়ী ৩৭৭৫, আবূ দাউদ ৩২৪৭, ইবনু মাজাহ ২০৯৬, আহমাদ ৮০২৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৮১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) দুই ধরনের ভুল কথার সংশোধন শিখিয়েছেন। কেউ যদি কসম করতে গিয়ে লাত ও উয্যার নামে কসম করে, সে যেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে। আবার কেউ যদি সঙ্গীকে বলে, এসো তোমার সঙ্গে জুয়া খেলি, সে যেন সাদকাহ করে। লাত উয্যার কসম হাদিস আমাদের শেখায়, জিহ্বা থেকে শির্কমিশ্রিত বা জাহেলী শব্দ বের হলে তা অবহেলা করা যাবে না; সঙ্গে সঙ্গে তাওহীদের বাক্য বলা দরকার। আর জুয়ার আহ্বানও শুধু মজা নয়, তা ভুল পথে ডাক। তাই এমন কথা হয়ে গেলে সদকা করে নিজের ভুলের প্রভাব কমানোর শিক্ষা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসমের শব্দ বের হলে সঙ্গে সঙ্গে তাওহীদের বাক্য বলা উচিত।
- জুয়ার দিকে কাউকে ডাকা ভুল কাজ।
- ভুল কথা মুখে এলে তা সংশোধনের পথ আছে।
- সদকা ভুলের পর নিজেকে শুদ্ধ করার একটি উপকারী আমল হতে পারে।
