১৯/৩৭০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২৮/১৮৪৪ - পানি আটকানো, মিথ্যা কসম ও স্বার্থের বায়আত
দাজ্জাল ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে
মিথ্যা কসম ও স্বার্থপরতা: তিন শ্রেণীর মানুষের কঠিন সতর্কবার্তা
রিয়াদুস সালেহীন : ২৮/১৮৪৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২৮/১৮৪৪
وَعَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَومَ القِيَامَةِ، وَلاَ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ، وَلاَ يُزَكِّيهِمْ، وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ : رَجُلٌ عَلَى فَضْلِ مَاءٍ بِالفَلاَةِ يَمْنَعُهُ مِنِ ابْنِ السَّبِيلِ، وَرَجُلٌ بَايَعَ رَجُلاً سِلْعَةً بَعْدَ العَصْرِ فَحَلَفَ بِاللهِ لأَخَذَهَا بِكَذَا وَكَذَا فَصَدَّقَهُ وَهُوَ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ، وَرَجُلٌ بَايَعَ إِمَاماً لاَ يُبَايِعُهُ إِلاَّ لِدُنْيَا فَإِنْ أَعْطَاهُ مِنْهَا وَفَى وَإِنْ لَمْ يُعْطِهِ مِنْهَا لَمْ يَفِ». متفق عليه
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ’’তিন শ্রেণীর মানুষের সাথে কেয়ামতের দিনে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে [দয়ার দৃষ্টিতে] তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।[১] যে মরু প্রান্তরে অতিরিক্ত পানির মালিক, কিন্তু সে মুসাফিরকে তা থেকে পান করতে দেয় না।[২] যে আসরের পর অন্য লোকের নিকট সামগ্রী বিক্রয় করতে গিয়ে কসম খেয়ে এই বলে যে, আল্লাহর কসম! এটা আমি এত দিয়ে নিয়েছি। ফলে ক্রেতা তাকে বিশ্বাস করে অথচ সে তার বিপরীত [অর্থাৎ মিথ্যাবাদী]।আর [৩] যে কেবলমাত্র পার্থিব স্বার্থে রাষ্ট্রনেতার হাতে বায়আত করে। সুতরাং সে যদি তাকে পার্থিব সম্পদ প্রদান করে, তাহলে সে [তার বায়আত] পূর্ণ করে। আর যদি প্রদান না করে, তাহলে বায়আত পূর্ণ করে না।’’(বুখারী-মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ২৩৫৮, ২৩৬৯, ২৬৭২, ৭২১২, ৭৪৪৬, মুসলিম ১০৮, তিরমিযী ১৫৯০, নাসায়ী ৪৪০২, আবূ দাউদ ৩৪৭৪, ইবনু মাজাহ ২২০৭, ২৮৭০, আহমাদ ৭৩৯৩, ৯৮৬৬
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২৮/১৮৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের কোর টপিক হলো অধিকার ও সততা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তিন শ্রেণীর মানুষের কথা বলেছেন, যাদের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন কঠিন সতর্কবার্তা এসেছে। প্রথমজন সেই ব্যক্তি, যার মরু এলাকায় অতিরিক্ত পানি আছে, কিন্তু সে মুসাফিরকে পান করতে দেয় না। দ্বিতীয়জন সেই বিক্রেতা, যে আসরের পর পণ্য বিক্রির সময় আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করে ক্রেতাকে বিশ্বাস করায়। তৃতীয়জন সেই ব্যক্তি, যে কেবল দুনিয়ার স্বার্থে রাষ্ট্রনেতার হাতে বায়আত করে; লাভ পেলে থাকে, লাভ না পেলে অঙ্গীকার রাখে না। এই হাদিস পানি, লেনদেন ও অঙ্গীকার—তিন জায়গায় মানুষের চরিত্র পরীক্ষা হয় তা বুঝিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রয়োজনের সময় অতিরিক্ত পানি আটকে রাখা কঠিন অন্যায়।
- ব্যবসায় মিথ্যা কসম দিয়ে ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়া ভয়াবহ কাজ।
- অঙ্গীকার শুধু দুনিয়ার লাভের জন্য করা উচিত নয়।
