১৯/৩৭০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪৬/১৮৬২ - জান্নাতের নদী সম্পর্কে নবীজির বাণী
দাজ্জাল ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে
সাইহান, জাইহান, ফুরাত ও নীল: জান্নাতের নদী বিষয়ক হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৪৬/১৮৬২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪৬/১৮৬২
وَعَنْهُ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «سَيْحَانُ وَجَيْحَانُ وَالفُرَاتُ وَالنِّيلُ كُلٌّ مِنْ أَنْهَارِ الجَنَّةِ».رواه مسلم
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’[শামের] সাইহান ও জাইহান, [ইরাকের] ফুরাত এবং [মিসরের] নীল প্রত্যেক নদীই জান্নাতের নদ-নদীসমূহের অন্যতম।’’(মুসলিম)[১]
মুসলিম ২৮৩৯, আহমাদ ৭৪৯১, ৭৮২৬, ৯৩৮২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪৬/১৮৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) চারটি নদীর নাম বলেছেন: সাইহান, জাইহান, ফুরাত এবং নীল। তিনি বলেছেন, এগুলোর প্রত্যেকটি জান্নাতের নদ-নদীসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এখানে আমাদের জন্য মূল শিক্ষা হলো, পৃথিবীর কিছু দৃশ্যমান জিনিসের সঙ্গে আখিরাতের স্মরণ জড়িত থাকতে পারে। মুসলিম যখন ফুরাত বা নীল নদীর কথা শোনে, তখন শুধু ভৌগোলিক তথ্য নয়, আল্লাহর সৃষ্টি ও জান্নাতের কথাও মনে করতে পারে। হাদিসে নদীগুলোর বিস্তারিত অবস্থান বা ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়নি; তাই ব্যাখ্যাও সেই সীমার মধ্যে রাখা উচিত। এটি জান্নাতের নিয়ামত, আল্লাহর কুদরত এবং নবীজির দেয়া খবরের প্রতি বিশ্বাসের একটি সহজ পাঠ। তাই এই হাদিস পড়লে জান্নাতের নিয়ামত, নদীর সৌন্দর্য এবং আল্লাহর অদৃশ্য খবরের প্রতি বিশ্বাস একসঙ্গে মনে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চারটি নদীকে হাদিসে জান্নাতের নদী বলা হয়েছে।
- আল্লাহর সৃষ্টি দেখলে আখিরাতের কথা মনে করা যায়।
- নবীজির খবরের প্রতি বিশ্বাস রাখা ঈমানের অংশ।
- হাদিসে যা বলা হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়।
