১৯/৩৭০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫৩/১৮৬৯ - দুনিয়ার প্রতিযোগিতা নিয়ে নবীজির ভয়
দাজ্জাল ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে
দুনিয়ার ধন-সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতার ভয়: নবীজির সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ৫৩/১৮৬৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫৩/১৮৬৯
وَعَنْ عُقْبَةَ بنِ عَامِرٍرَضِيَ اللهُ عنه:أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ خَرَجَ إِلَى قَتْلَى أُحُدٍ، فَصَلَّى عَلَيْهِمْ بَعْدَ ثَمَانِ سِنينَ كَالمُوَدِّعِ لِلأَحْيَاءِ وَالأَمْوَاتِ، ثُمَّ طَلَعَ إِلَى المِنْبَرِ، فَقَالَ: «إنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ وَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الحَوْضُ، وَإِنِّي لأَنْظُرُ إِلَيْهِ مِنْ مَقَامِي هَذَا، أَلاَ وَإِنِّي لَسْتُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا، وَلَكِنْ أَخْشَى عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوهَا» قَالَ: فَكَانَتْ آخِرَ نَظْرَةٍ نَظَرْتُهَا إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ.متفق عَلَيْهِوفي رواية : «وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا، وَتَقْتَتِلُوا فَتَهْلِكُوا كَمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ». قَالَ عُقْبَةُ : فَكَانَ آخِرَ مَا رَأيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَلَى المِنْبَرِوفي روايةٍ قَالَ: «إنِّي فَرَطٌ لَكُمْ وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ وَإِنِّي وَاللهِ لأَنْظُرُ إِلَى حَوْضِي الآنَ، وَإِنِّي أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الأَرْضِ، أَوْ مَفَاتِيحَ الأَرْضِ، وَإِنِّي وَاللهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي، وَلَكِنْ أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا
উক্ববাহ ইবনে আমের (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) [একবার] উহুদের শহীদদের [কবরস্থানের] দিকে বের হলেন এবং যেন জীবিত ও মৃত ব্যক্তিদেরকে বিদায় জানাবার উদ্দেশ্যে আট বছর পর তাঁদের উপর জানাজা পড়লেন [অর্থাৎ তাঁদের জন্য দো’আ করলেন]। তারপর মিম্বরে চড়ে বললেন, ’’আমি পূর্বে গমনকারী তোমাদের জন্য সু-ব্যবস্থাপক এবং সাক্ষীও। তোমাদের প্রতিশ্রুত স্থান হাউজে [কাউসার]। আমি অবশ্যই ওটাকে আমার এই স্থান থেকে দেখতে পাচ্ছি। শোনো! তোমাদের ব্যাপারে আমার এ আশঙ্কা নেই যে, তোমরা শির্ক করবে। তবে তোমাদের জন্য আমার আশঙ্কা এই যে, তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে আপোষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।’’ [রাবী বলেন,] ’এটাই আমার শেষ দৃষ্টি ছিল যা আমি নবী (ﷺ)-এর প্রতি নিবদ্ধ করেছিলাম [অর্থাৎ এরপর তিনি দেহত্যাগ করেন]।’(বুখারী-মুসলিম)অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, ’’কিন্তু তোমাদের জন্য আমার আশঙ্কা এই যে, তোমরা পার্থিব ধন-সম্পদে আপোষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং সে জন্য পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হবে এবং [পরিণামে] তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে; যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়েছে।’’ উকবা (রাঃ) বলেন, ’মিম্বরের উপরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এটাই ছিল আমার শেষ দর্শন।’অপর এক বর্ণনায় আছে, ’’আমি তোমাদের অগ্রদূত এবং তোমাদের জন্য সাক্ষী। আল্লাহর শপথ! আমি এই মুহূর্তে আমার হাউজ [হাওজে কাওসার] দেখছি। আমাকে পৃথিবীর ভাণ্ডারসমূহের চাবি গুচ্ছ প্রদান করা হয়েছে। আর আমি তোমাদের ব্যাপারে এ জন্য শঙ্কিত নই যে, তোমরা আমার [তিরোধানের] পর শির্ক করবে; বরং এ আশঙ্কা বোধ করছি যে, তোমরা পার্থিব ধন-সম্পদের ব্যাপারে আপোষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।’’ হাদীসে উল্লিখিত ’শহীদদের উপর জানাজা পড়লেন’ অর্থাৎ তাঁদের জন্য দো’আ করলেন। [তকবীর সহ] পরিচিত জানাজার নামায নয়।
সহীহুল বুখারী ১৩৪৪, ৩৫৯৬, ৪০৪২, ৫০৮৫, ৬৪২৬, ৬৫৯০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫৩/১৮৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উহুদের শহীদদের দিকে বের হন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করেন। এরপর মিম্বরে উঠে বলেন, তিনি উম্মতের অগ্রদূত ও সাক্ষী, আর তাদের প্রতিশ্রুত স্থান হাউজে কাউসার। তিনি জানান, তাঁর ভয় এই নয় যে, তাঁর পর উম্মত শির্ক করবে; বরং ভয় হলো, তারা দুনিয়ার বিষয়ে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, দুনিয়ার ধন-সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা ও সংঘর্ষ ধ্বংসের কারণ হতে পারে। এই হাদিস দুনিয়া-বিমুখতার নামে সব কিছু ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে না; বরং দুনিয়ার লোভ, প্রতিযোগিতা ও ঝগড়া থেকে সাবধান করে। মুমিনের জন্য ধন-সম্পদ যেন সম্পর্ক, দ্বীন ও আখিরাত ভুলিয়ে না দেয়—এটাই মূল শিক্ষা। তাই হাদিসটি মুসলিম সমাজকে দুনিয়ার লাভের জন্য পরস্পরকে আঘাত করা থেকে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার সম্পদ নিয়ে অতি প্রতিযোগিতা বিপদের কারণ হতে পারে।
- হাউজে কাউসারের কথা আখিরাতের আশা জাগায়।
- শহীদদের জন্য নবীজির দোয়া তাঁদের মর্যাদা স্মরণ করায়।
- ধন-সম্পদ যেন মুসলিমদের মধ্যে ঝগড়ার কারণ না হয়।
