১৯/৩৭০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫৮/১৮৭৪ - সদকার নিয়ত ও অজান্তে ভুল হাতে পৌঁছানো
দাজ্জাল ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে
সদকার নিয়ত: চোর, বেশ্যা ও ধনীকে অজান্তে দানের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৫৮/১৮৭৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫৮/১৮৭৪
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: «قَالَ رَجُلٌ لأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ سَارِقٍ، فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ : تُصُدِّقَ عَلَى سَارِقٍ ! فَقَالَ: اَللهم لَكَ الحَمْدُ لأتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ زَانِيَةٍ؛ فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ : تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى زَانِيَةٍ ! فَقَالَ: اَللهم لَكَ الحَمْدُ عَلَى زَانِيَةٍ ! لأتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فوَضَعَهَا فِي يَدِ غَنِيٍّ، فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ : تُصُدِّقَ عَلَى غَنِيٍّ؟ فَقَالَ: اَللهم لَكَ الحَمْدُ عَلَى سَارِقٍ وَعَلَى زَانِيَةٍ وعلى غَنِيٍّ ! فَأُتِيَ فَقِيلَ لَهُ : أَمَّا صَدَقَتُكَ عَلَى سَارِقٍ فَلَعَلَّهُ أَنْ يَسْتَعِفَّ عَنْ سَرِقَتِهِ، وَأَمَّا الزَّانِيَةُ فَلَعَلَّهَا تَسْتَعِفُّ عَنْ زِنَاهَا، وَأَمَّا الغَنِيُّ فَلَعَلَّهُ أَنْ يَعْتَبِرَ فَيُنْفِقَ مِمَّا أَعْطَاهُ اللهُ».رواه البخاري بلفظه ومسلم بمعناه
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’একটি লোক বলল, ’[আজ রাতে] আমি অবশ্যই সদকা করব।’ সুতরাং সে আপন সদকার বস্তু নিয়ে বের হল এবং [অজান্তে] এক চোরের হাতে তা দিয়ে দিল। লোকে সকালে উঠে বলাবলি করতে লাগল যে, ’আজ রাতে এক চোরের হাতে সদকা দেওয়া হয়েছে।’ সাদকাকারী বলল, ’হে আল্লাহ! তোমারই যাবতীয় প্রশংসা! [আজ রাতে] অবশ্যই আবার সদকা করব।’সুতরাং সে নিজ সদকা নিয়ে বের হল এবং [অজান্তে] এক বেশ্যার হাতে তা দিয়ে দিল। সকাল বেলায় লোকে বলাবলি করতে লাগল যে, ’আজ রাতে এক বেশ্যাকে সদকা দেওয়া হয়েছে।’ সে তা শুনে আবার বলল, ’হে আল্লাহ! তোমারই প্রশংসা যে, বেশ্যাকে সদকা করা হল। আজ রাতে পুনরায় অবশ্যই সদকা করব।’সুতরাং তার সদকা নিয়ে বের হয়ে গেল এবং [অজান্তে] এক ধনী ব্যক্তির হাতে সদকা দিল। সকাল বেলায় লোকেরা আবার বলাবলি করতে লাগল যে, ’আজ এক ধনী ব্যক্তিকে সদকা দেওয়া হয়েছে।’ লোকটি শুনে বলল, ’হে আল্লাহ! তোমারই সমস্ত প্রশংসা যে, চোর, বেশ্যা তথা ধনী ব্যক্তিকে সদকা করা হয়েছে।’সুতরাং [নবী অথবা স্বপ্নযোগে] তাকে বলা হল যে, ’[তোমার সদকা ব্যর্থ যায়নি; বরং] তোমার যে সদকা চোরের হাতে পড়েছে তার দরুন হয়তো চোর তার চৌর্যবৃত্তি ত্যাগ করে দেবে। বেশ্যা হয়তো তার দরুন তার বেশ্যাবৃত্তি ত্যাগ করবে। আর ধনী; সম্ভবত: সে উপদেশ গ্রহণ করবে এবং সে তার আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদ আল্লাহর রাহে ব্যয় করবে।’’(বুখারী-মুসলিম, শব্দগুলি বুখারীর)[১]
সহীহুল বুখারী ১৪২১, মুসলিম ১০২২, নাসায়ী ২৫২৩, আহমাদ ৮০৮৩, ২৭২৯৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫৮/১৮৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তির সদকার ঘটনা এসেছে। তিনি সদকা করতে বের হয়ে অজান্তে প্রথমে চোরের হাতে, পরে বেশ্যার হাতে, শেষে ধনী ব্যক্তির হাতে সদকা দেন। লোকেরা এ নিয়ে কথা বললেও তিনি প্রতিবার আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং আবার সদকা করার ইচ্ছা করেন। পরে তাকে জানানো হয়, তার সদকা ব্যর্থ হয়নি; চোর হয়তো চুরি ছাড়বে, বেশ্যা হয়তো পাপ থেকে ফিরবে, আর ধনী হয়তো শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে ব্যয় করবে। এই হাদিস সদকার নিয়ত, আল্লাহর প্রতি ভরসা এবং মানুষের পরিবর্তনের আশা শেখায়। তবে এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে অযোগ্য লোক খোঁজার শিক্ষা নেই; বরং অজান্তে দান ভুল হাতে গেলে হতাশ না হওয়ার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সদকায় নিয়ত খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- অজান্তে ভুল হাতে সদকা গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করা যায়।
- সদকা কারও জীবন বদলের কারণ হতে পারে—হাদিসে সম্ভাবনার ভাষা এসেছে।
- মানুষকে চূড়ান্তভাবে খারাপ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
