২০/৩৭১. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৮৮২ - ইস্তিগফারের ফজিলত ও রিযক

ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ ও তার মাহাত্ম্য

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ﴿[محمد : ١٩]অর্থাৎ তুমি ক্ষমা-প্রার্থনা কর তোমার এবং মুমিন নর-নারীদের ত্রুটির জন্য।(সূরা মুহাম্মাদ ১৯ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا﴿[النساء : ١٠٦]অর্থাৎ আল্লাহর কাছে তুমি ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(সূরা নিসা ১০৬ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا﴿ [النصر: ٣]অর্থাৎ সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং তাঁর সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি অধিক তাওবা গ্রহণকারী।(সূরা নাসর ৩ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ ١٥ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ١٦ الصَّابِرِينَ وَالصَّادِقِينَ وَالْقَانِتِينَ وَالْمُنْفِقِينَ وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ ١٧ ﴿ [ال عمران: ١٥، ١٧]অর্থাৎ যারা সাবধান [পরহেজগার] হয়ে চলে তাদের জন্য রয়েছে উদ্যানসমূহ যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে, তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তার দাসদের সম্বন্ধে সম্যক অবহিত। যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা বিশ্বাস করেছি; অতএব আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা কর এবং দোযখের শাস্তি থেকে আমাদেরকে রক্ষা কর।’ যারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, দানশীল এবং রাত্রির শেষাংশে ক্ষমা-প্রার্থী।(সূরা আলে ইমরান ১৫-১৭ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَحِيمًا﴿ [النساء : ١١٠]অর্থাৎ আর যে কেউ মন্দ কার্য করে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করে, কিন্তু পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, সে আল্লাহকে অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু-রূপে পাবে।(সূরা নিসা ১১০ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ ۚ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ﴿ [الانفال: ٣٣]অর্থাৎ আল্লাহ এরূপ নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং তিনি এরূপ নন যে, তাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন।(সূরা আনফাল ৩৩ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴾وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ﴿ [ال عمران: ١٣٥]অর্থাৎ যারা কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করতে পারে? এবং তারা যা [অপরাধ] করে ফেলে তাতে জেনে-শুনে অটল থাকে না।(সূরা আলে ইমরান ১৩৫ আয়াত)এ প্রসঙ্গে আরও বিদিত বহু আয়াতসমূহ রয়েছে।

ইস্তিগফারের ফজিলত: সংকট, দুশ্চিন্তা ও রিযকের জন্য বড় আমল

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১৮৮২

وعنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضِي اللهُ عنْهُما قَال : قالَ رَسُول اللهِ ﷺ: «منْ لَزِم الاسْتِغْفَار، جعل اللَّه لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مخْرجاً، ومنْ كُلِّ هَمٍّ فَرجاً، وَرَزَقَهُ مِنْ حيْثُ لا يَحْتَسِبُ» رواه أبو داود

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে লোক সবসময় গুনাহ মাফ চাইতে থাকে [আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে থাকে] আল্লাহ তাকে প্রতিটি সংকীর্ণতা অথবা কষ্টকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে তাকে মুক্ত করেন এবং তিনি তাকে এমন সব উৎস থেকে রিযক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। [আবূ দাঊদ][১]

আমি [আলবানী) বলছিঃ কিন্তু হাদীসটির সনদে মাজহূল [অপরিচিত) বর্ণনাকারী রয়েছেন যেমনটি আমি ‘‘য‘ঈফা’’ গ্রন্থে [৭০৬) আলোচনা করেছি। তিনি হচ্ছেন বর্ণনাকারী হাকাম ইবনু মুস‘য়াব মাজহূল [অপরিচিত) বর্ণনাকারী। তাকে আবূ হাতিম মাজহূল আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু হিববানও তাকে দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করেছেন। [বিস্তারিত জানতে দেখুন ‘‘সহীহ্ আবী দাঊদ-আলউম্মু’’ [২৬৮)]

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১৮৮২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি সবসময় গুনাহ মাফ চাইতে থাকে, আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ করে দেন, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির সুযোগ দেন এবং এমন জায়গা থেকে রিযক দেন যা সে ভাবতেও পারে না। এখানে মূল বিষয় হলো নিয়মিত ইস্তিগফার। হাদিসটি আমাদের শেখায়, জীবনের কষ্টকর অবস্থা, মানসিক চাপ এবং রিযকের চিন্তায় আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া উচিত। তবে ইস্তিগফারকে শুধু দুনিয়ার লাভের জন্য নয়, নিজের গুনাহ থেকে ফিরে আসার দরজা হিসেবে নিতে হবে। ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলা সহজ, কিন্তু এর ভেতরে আছে নিজের ভুল বুঝে আল্লাহর ক্ষমা চাওয়ার বিনয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নিয়মিত ইস্তিগফার সংকীর্ণ অবস্থায় আল্লাহর সাহায্যের কারণ হতে পারে।
  • দুশ্চিন্তার সময়ে শুধু মানুষের কাছে নয়, আল্লাহর কাছেও ফিরে যেতে হয়।
  • রিযক আল্লাহর হাতে; তিনি অপ্রত্যাশিত দিক থেকেও দিতে পারেন।
  • ইস্তিগফার মুখের আমল হলেও অন্তরের তওবার সাথে তা বেশি অর্থবহ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন