২০/৩৭২. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৪/১৯০২ - নিম্নতম জান্নাতির মর্যাদা
আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের জন্য জান্নাতের মধ্যে যা প্রস্তুত রেখেছেন
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ٤٥ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ ٤٦ وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَىٰ سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ ٤٧ لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ ٤٨ ﴿ [الحجر: ٤٥، ٤٨]অর্থাৎ নিশ্চয় পরহেযগাররা বাস করবে উদ্যান ও প্রস্রবণসমূহে। [তাদেরকে বলা হবে,] তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তাতে প্রবেশ কর। আমি তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা থাকবে তা দূর করে দেব; তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে। সেথায় তাদেরকে অবসাদ স্পর্শ করবে না এবং তারা সেথা হতে বহিষ্কৃতও হবে না।(সূরা হিজর ৪৫-৪৮ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾يَا عِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلَا أَنْتُمْ تَحْزَنُونَ ٦٨ الَّذِينَ آمَنُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا مُسْلِمِينَ ٦٩ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنْتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ ٧٠ يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ ۖ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ ۖ وَأَنْتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ٧١ وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ٧٢ لَكُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِنْهَا تَأْكُلُونَ ٧٣ ﴿ [الزخرف: ٦٨، ٧٣]অর্থাৎ হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। যারা আমার আয়াতে বিশ্বাস করেছিলে এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) ছিলে। তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিণীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর। স্বর্ণের থালা ও পান পাত্র নিয়ে ওদের মাঝে ফিরানো হবে, সেখানে রয়েছে এমন সমস্ত কিছু, যা মন চায় এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে। এটিই জান্নাত, তোমরা তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ যার অধিকারী হয়েছ। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফলমূল, তা থেকে তোমরা আহার করবে।(সূরা যুখরুফ ৬৮-৭৩ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ ٥١ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ٥٢يَلْبَسُونَ مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَقَابِلِينَ ٥٣ كَذَٰلِكَ وَزَوَّجْنَاهُمْ بِحُورٍ عِينٍ ٥٤ يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آمِنِينَ ٥٥ لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَىٰ ۖ وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ ٥٦ فَضْلًا مِنْ رَبِّكَ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ٥٧ ﴿ [الدخان: ٥١، ٥٧]অর্থাৎ নিশ্চয় সাবধানীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে- বাগানসমূহে ও ঝরনারাজিতে, ওরা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং মুখোমুখি হয়ে বসবে। এরূপই ঘটবে ওদের; আর আয়তলোচনা হুরদের সাথে তাদের বিবাহ দেব। সেখানে তারা নিশ্চিন্তে বিবিধ ফলমূল আনতে বলবে। [ইহকালে] প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন। [এ প্রতিদান] তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহসবরূপ। এটিই তো মহা সাফল্য।(সূরা দুখান ৫১-৫৭ আয়াত)আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন,﴾ إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ ٢٢ عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ ٢٣ تَعْرِفُ فِي وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعِيمِ ٢٤ يُسْقَوْنَ مِنْ رَحِيقٍ مَخْتُومٍ ٢٥ خِتَامُهُ مِسْكٌ ۚ وَفِي ذَٰلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ ٢٦ وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيمٍ ٢٧ عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ ٢٨ ﴿ [المطففين: ٢٢، ٢٨]অর্থাৎ পুণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে। তারা সুসজ্জিত আসনে বসে দেখতে থাকবে। তুমি তাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবে। তাদেরকে মোহর আঁটা বিশুদ্ধ মদিরা হতে পান করানো হবে। এর মোহর হচ্ছে কস্তুরীর। আর তা লাভের জন্যই প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক। এর মিশ্রণ হবে তাসনীমের [পানির]। এটা একটি প্রস্রবণ, যা হতে নৈকট্য-প্রাপ্ত ব্যক্তিরা পান করবে।(সূরা মুত্বাফিফীন ২২-২৮]এ মর্মে আরও বহু আয়াত বিদ্যমান।
নিম্নতম জান্নাতির মর্যাদা: আল্লাহর দানের বিস্ময়কর বর্ণনা
রিয়াদুস সালেহীন : ১৪/১৯০২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৪/১৯০২
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: «إِنَّ أَدْنَى مَقْعَدِ أَحَدِكُمْ مِنَ الجَنَّةِ أَنْ يَقُولَ لَهُ : تَمَنَّ، فَيَتَمَنَّى وَيَتَمَنَّى فَيقُولُ لَهُ : هَلْ تَمَنَّيتَ ؟ فَيَقُولُ : نَعَمْ، فَيَقُولُ لَهُ : فَإِنَّ لَكَ مَا تَمَنَّيتَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ». رواه مسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমাদের মধ্যে নিম্নতম জান্নাতির মর্যাদা এই হবে যে, তাকে আল্লাহ তা’আলা বলবেন, ’তুমি কামনা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ কর [আমি অমুক জিনিস চাই, অমুক বস্তু চাই ইত্যাদি]।’ সুতরাং সে কামনা করবে আর কামনা করতেই থাকবে। তিনি বলবেন, ’তুমি কামনা করলে কি?’ সে উত্তর দেবে, ’হ্যাঁ।’ তিনি তাকে বলবেন, ’তোমার জন্য সেই পরিমাণ রইল, যে পরিমাণ তুমি কামনা করেছ এবং তার সাথে সাথে তার সমতুল্য আরও কিছু রইল।’’(মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৮০৬, ৪৫৮১, ৬৫৭৪, ৭৪৩৮, মুসলিম ১৮২, ২৯৬৮, তিরমিযী ২৫৪৯, ২৫৫৪, ২৫৫৫, ২৫৫৭, নাসায়ী ১১৪০, আবূ দাউদ ৪৭৩০, ইবনু মাজাহ ১৭৮, ৭৬৬০, ৭৮৬৮, ৮৮১৫, ১০৫২৩, ১০৬৯৩, ১০৭৬৭, ১০৮১৬, ১১৩৩৭, দারেমী ২৮০১, ২৮০৩, ২৮২৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৪/১৯০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জান্নাতের মর্যাদা ও আল্লাহর দানের প্রশস্ততা তুলে ধরা হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, জান্নাতিদের মধ্যে যার মর্যাদা সবচেয়ে নিচের স্তরে হবে, তাকেও আল্লাহ বলবেন—তুমি কামনা করো। সে একের পর এক কামনা করবে। তারপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি কি কামনা করলে? সে বলবে, হ্যাঁ। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি যা কামনা করেছ, তা তোমার জন্য রইল; আর তার সঙ্গে তার সমতুল্য আরও কিছু রইল। এই বর্ণনা জান্নাতের দান, জান্নাতিদের মর্যাদা এবং আল্লাহর করুণা বোঝায়। এখানে কোনো বাড়তি গল্প যোগ না করেও মূল শিক্ষা স্পষ্ট—জান্নাতের সবচেয়ে কম মর্যাদার অধিকারীও এমন দান পাবে, যা তার কামনার সঙ্গে মিলবে এবং আরও বাড়তি দান থাকবে। এটি মুমিনের মনে আশা জাগায় এবং জান্নাতের নেয়ামত সম্পর্কে গভীর চিন্তার দরজা খুলে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাতে আল্লাহ বান্দাকে তার কামনা অনুযায়ী দান করবেন।
- জান্নাতের নিম্নতম মর্যাদাও খুব বড় দান ও সম্মানের পরিচয় বহন করে।
- আল্লাহর দান বান্দার চাওয়ার চেয়েও বেশি হতে পারে।
- জান্নাতের আশা মানুষকে নেক কাজের দিকে আগ্রহী করে।
