১/২৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/১৯৮ - ভালো কাজের আদেশ না দিলে সতর্কতা
ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَلۡتَكُن مِّنكُمۡ أُمَّةٞ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلۡخَيۡرِ وَيَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ١٠٤ ﴿ [ال عمران: ١٠٤]অর্থাৎ “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা (লোককে) কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকার্যের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কার্য থেকে নিষেধ করবে। আর এ সকল লোকই হবে সফলকাম।” (সূরা আলে ইমরান ১০৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَتُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِۗ ﴿ [ال عمران: ١١٠]অর্থাৎ “তোমরাই শ্রেষ্ঠতম জাতি। মানবমণ্ডলীর জন্য তোমাদের অভ্যুত্থান হয়েছে, তোমরা সৎকার্যের নির্দেশ দান কর, আর অসৎ কার্য (করা থেকে) নিষেধ কর, আর আল্লাহতে বিশ্বাস কর।” (সূরা আলে ইমরান ১১০ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ خُذِ ٱلۡعَفۡوَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡعُرۡفِ وَأَعۡرِضۡ عَنِ ٱلۡجَٰهِلِينَ ١٩٩ ﴿ [الاعراف: ١٩٩]অর্থাৎ “তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।” (সূরা আ‘রাফ ১৯৯ আয়াত)অন্যত্রে বলেছেন,﴾ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتُ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ ﴿ [التوبة: ٧١]অর্থাৎ “আর বিশ্বাসী পুরুষরা ও বিশ্বাসিনী নারীরা হচ্ছে পরস্পর একে অন্যের বন্ধু, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজে নিষেধ করে।” (সূরা তওবা ৭১ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ لُعِنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۢ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُۥدَ وَعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَواْ وَّكَانُواْ يَعۡتَدُونَ ٧٨ كَانُواْ لَا يَتَنَاهَوۡنَ عَن مُّنكَرٖ فَعَلُوهُۚ لَبِئۡسَ مَا كَانُواْ يَفۡعَلُونَ ٧٩ ﴿ [المائدة: ٧٨، ٧٩]অর্থাৎ “বনী ইস্রাঈলের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল তারা দাঊদ ও মারয়্যাম-তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। কেননা, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তারা যেসব গর্হিত কাজ করত তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট।” (সূরা মায়েদাহ ৭৮-৭৯ আয়াত)তিনি অন্যত্রে বলেছেন,﴾ وَقُلِ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكُمۡۖ فَمَن شَآءَ فَلۡيُؤۡمِن وَمَن شَآءَ فَلۡيَكۡفُرۡۚ ﴿ [الكهف: ٢٩]অর্থাৎ “বলে দাও, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে সমাগত; সুতরাং যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক ও যার ইচ্ছা প্রত্যাখ্যান করুক।” (সূরা ক্বাহফ ২৯ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴾ فَٱصۡدَعۡ بِمَا تُؤۡمَرُ ﴿ [الحجر: ٩٤]অর্থাৎ “অতএব তুমি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছ তা প্রকাশ্যে প্রচার কর।” (সূরা হিজর ৯৪ আয়াত)তিনি অন্যত্রে বলেছেন,﴾ أَنجَيۡنَا ٱلَّذِينَ يَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلسُّوٓءِ وَأَخَذۡنَا ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ بِعَذَابِۢ بَِٔيسِۢ بِمَا كَانُواْ يَفۡسُقُونَ ﴿ [الاعراف: ١٦٥]অর্থাৎ “(যে উপদেশ তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা বিস্মৃত হল, তখন) যারা মন্দ কাজে বাধা দান করত তাদেরকে আমি উদ্ধার করলাম এবং যারা অত্যাচারী ছিল তারা সত্যত্যাগ করত বলে আমি তাদেরকে কঠোর শাস্তির সাথে পাকড়াও করলাম।” (সূরা আ‘রাফ ১৬৫ আয়াত)এ মর্মে আরো অনেক আয়াত রয়েছে। আর হাদীসসমূহ নিম্নরূপঃ-
ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ থেকে নিষেধ: অবহেলার ভয়াবহ সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ১০/১৯৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১০/১৯৮
عَن حُذَيفَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيّ ﷺ، قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسي بِيَدِهِ، لَتَأْمُرُنَّ بِالمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنْ المُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللهُ أنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَاباً مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُوْنَهُ فَلا يُسْتَجَابُ لَكُمْ». رواه الترمذي، وَقالَ: حديث حسن
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, ’’তাঁর কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! তোমরা অবশ্যই ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে, তা না হলে শীঘ্রই আল্লাহ তা’আলা তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের উপর আযাব পাঠাবেন। অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে দোয়া করবে; কিন্তু তা কবুল করা হবে না।’’[১]
তিরমিযী ২১৬৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/১৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শপথ করে বলেছেন, তোমরা অবশ্যই ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। তা না হলে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি আসার আশঙ্কা আছে। এরপর মানুষ দোয়া করবে, কিন্তু তা কবুল করা হবে না—এমন সতর্কতাও এসেছে। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, সমাজে ভালোকে ভালো বলা এবং মন্দকে মন্দ বলা মুসলিমদের দায়িত্ব। এটি শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়; অবহেলা করলে তার প্রভাব বড় হতে পারে। তবে ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত ভীতি বা নিজের মতো সিদ্ধান্ত না দিয়ে হাদিসের ভাষার মধ্যেই থাকা দরকার। এই হাদিস আমাদের দায়িত্ববোধ জাগায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- এই দায়িত্ব ছেড়ে দিলে আল্লাহর শাস্তির সতর্কতা এসেছে।
- মন্দ দেখে চুপ থাকা সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- দোয়া কবুল না হওয়ার সতর্কতা দায়িত্বের গুরুত্ব বোঝায়।
