১/২৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/২২৯ - মুমিনদের দয়া ও মমতার উদাহরণ
মুসলিমদের মান-মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা-প্রদর্শন ও তাদের অধিকার-রক্ষা এবং তাদের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্যের গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَمَن يُعَظِّمۡ حُرُمَٰتِ ٱللَّهِ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥ عِندَ رَبِّهِۦۗ ﴿ [الحج: ٣٠]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য এটাই উত্তম।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩০ আয়াত)আরো বলেন,﴾وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ﴿ [الحج: ٣٢]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের সংযমশীলতারই বহিঃপ্রকাশ।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩২ আয়াত)তিনি বলেন,﴾ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴿ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “বিশ্বাসীদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (হিজ্র ৮৮আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾مَن قَتَلَ نَفۡسَۢا بِغَيۡرِ نَفۡسٍ أَوۡ فَسَادٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ ٱلنَّاسَ جَمِيعٗا وَمَنۡ أَحۡيَاهَا فَكَأَنَّمَآ أَحۡيَا ٱلنَّاسَ جَمِيعٗاۚ ﴿ [المائدة: ٣٢]অর্থাৎ “যে ব্যক্তি নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করার দণ্ডদান উদ্দেশ্য ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষকেই হত্যা করল। আর কেউ কারো প্রাণরক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।” (সূরা মায়েদাহ ৩২ আয়াত)
মুমিনদের দয়া-মমতা: এক দেহের মতো সম্পর্ক
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/২২৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/২২৯
وعن النُّعْمَانِ بنِ بشِيرٍ رضي اللَّه عنهما قال : قال رسولُ اللَّه صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم: «مثَلُ الْمُؤْمِنِينَفِي تَوَادِّهِمْ وتَرَاحُمِهِمْ وتَعاطُفِهِمْ، مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌ تَداعَى لهُ سائِرُ الْجسدِ بالسهَرِ والْحُمَّى» متفقٌ عليه.
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’মুমিনদের একে অপরের প্রতি সম্প্রীতি, দয়া ও মায়া-মমতার উদাহরণ (একটি) দেহের মত। যখন দেহের কোন অঙ্গ পীড়িত হয়, তখন তার জন্য সারা দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৬০১১, মুসলিম ২৫৮৬, আহমাদ ১৭৮৯১, ১৭৯০৭, ১৯৯২৬, ১৭৯৪৯, ১৭৯৬৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/২২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুমিনদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, দয়া ও মায়া-মমতার গভীর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের মতো। দেহের কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে সারা দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়। অর্থাৎ একজন মুমিনের কষ্ট অন্য মুমিনের কাছে গুরুত্বহীন হতে পারে না। মুসলিম ভ্রাতৃত্ব শুধু পরিচয়ের বিষয় নয়; তা অনুভূতি, সহানুভূতি ও পাশে দাঁড়ানোর বিষয়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, সমাজে কেউ বিপদে পড়লে, অসুস্থ হলে বা কষ্ট পেলে তাকে অবহেলা করা উচিত নয়। মুমিনের দয়া-মমতা বাস্তব আচরণে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনদের মধ্যে দয়া, মমতা ও সহানুভূতি থাকা উচিত।
- একজনের কষ্ট অন্যদের হৃদয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
- মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বাস্তব সহযোগিতা ও অনুভূতির দাবি করে।
- সমাজে কষ্টে থাকা মানুষকে অবহেলা করা উচিত নয়।
