১/৪১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৪১ - কবীরাহ গুনাহ ও মিথ্যা সাক্ষ্যের ভয়াবহতা
পিতা-মাতার অবাধ্যতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হারাম
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ فَهَلۡ عَسَيۡتُمۡ إِن تَوَلَّيۡتُمۡ أَن تُفۡسِدُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَتُقَطِّعُوٓاْ أَرۡحَامَكُمۡ ٢٢ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَعَنَهُمُ ٱللَّهُ فَأَصَمَّهُمۡ وَأَعۡمَىٰٓ أَبۡصَٰرَهُمۡ ٢٣ ﴿ [محمد: ٢٢، ٢٣]অর্থাৎ “ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। ওরা তো তারা, যাদেরকে আল্লাহ অভিশপ্ত করে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।” (সূরা মুহাম্মাদ ২২-২৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱلَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهۡدَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعۡدِ مِيثَٰقِهِۦ وَيَقۡطَعُونَ مَآ أَمَرَ ٱللَّهُ بِهِۦٓ أَن يُوصَلَ وَيُفۡسِدُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱللَّعۡنَةُ وَلَهُمۡ سُوٓءُ ٱلدَّارِ ٢٥ ﴿ [الرعد: ٢٥]অর্থাৎ “যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্য আছে অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য আছে মন্দ আবাস।” (সূরা রা‘দ ২৫ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ ۞وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّآ إِيَّاهُ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنًاۚ إِمَّا يَبۡلُغَنَّ عِندَكَ ٱلۡكِبَرَ أَحَدُهُمَآ أَوۡ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَآ أُفّٖ وَلَا تَنۡهَرۡهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوۡلٗا كَرِيمٗا ٢٣ وَٱخۡفِضۡ لَهُمَا جَنَاحَ ٱلذُّلِّ مِنَ ٱلرَّحۡمَةِ وَقُل رَّبِّ ٱرۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرٗا ٢٤ ﴿ [الاسراء: ٢٣، ٢٤]অর্থাৎ “তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করবে না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের এক জন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং তাদেরকে ভৎর্সনা করো না; বরং তাদের সাথে বলো সম্মানসূচক নরম কথা। অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বলো, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া কর; যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছে’।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ২৩-২৪ আয়াত)
কবীরাহ গুনাহ: শির্ক, পিতা-মাতার অবাধ্যতা ও মিথ্যা সাক্ষ্য
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৩৪১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৩৪১
وَعَن أَبي بَكرَةَ نُفَيعِ بنِ الحَارِثِ رضي الله عنه، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «ألا أُنَبِّئُكُمْ بأَكْبَرِ الكَبَائِرِ؟» ثلاثاً، قُلْنَا: بَلَى، يَا رَسُول الله، قَالَ: «الإشْرَاكُ بالله، وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ»، وكان مُتَّكِئاً فَجَلَسَ، فَقَالَ: «ألاَ وَقَوْلُ الزُّورِ وَشَهَادَةُ الزُّورِ» فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا حَتَّى قُلْنَا: لَيْتَهُ سَكَتَ. مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
আবূ বাকরাহ নুফাই‘ ইবনু হারেস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(একদিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনবার বললেন, ’’আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় (কবীরাহ গোনাহগুলো সম্পর্কে জ্ঞাত করবো না?’’ সবাই বললেন, ’অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, ’’(সেগুলো হচ্ছে) আল্লাহর সাথে শির্ক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।’’ তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন, এবার সোজা হয়ে বসে বললেন, ’’শুনে রাখ, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।’’ এ কথাটি তিনি পুনঃ পুনঃ বলতে থাকলেন। এমনকি আমরা বলতে লাগলাম, ’আর যদি তিনি না বলতেন!’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ২৬৫৪, ৫৯৭৬, ৬২৭৩, ৬৯১৯, মুসলিম ৮৭, তিরমিযী ১৯০১, ২৯০১, ৩০১৯, আহমাদ ১৯৮৭২, ১৯৮৮১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের সবচেয়ে বড় কবীরাহ গুনাহ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি প্রথমে তিনবার প্রশ্ন করে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। এরপর বলেছেন, আল্লাহর সাথে শির্ক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া বড় গুনাহ। তারপর তিনি হেলান দেওয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসে বিশেষভাবে মিথ্যা কথা ও মিথ্যা সাক্ষ্যের কথা বলেছেন। তিনি বারবার এ কথা বলতে থাকেন। এতে বোঝা যায়, মিথ্যা সাক্ষ্য মানুষের অধিকার নষ্ট করে এবং সমাজে অন্যায় ছড়ায়। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, ঈমান, পিতা-মাতার অধিকার এবং সত্য বলার দায়িত্ব—এই তিনটি বিষয়ে মুসলিমকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর সাথে শির্ক করা সবচেয়ে ভয়াবহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
- পিতা-মাতার অবাধ্যতা কবীরাহ গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- মিথ্যা সাক্ষ্য এত গুরুতর যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তা বারবার বলেছেন।
- সত্য কথা বলা এবং অন্যের অধিকার রক্ষা করা মুসলিম জীবনের বড় দায়িত্ব।
