১/৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৩৫ - চোখের পরীক্ষায় সবর
সবর (ধৈর্যের) বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱصۡبِرُواْ وَصَابِرُواْ ﴿ [ال عمران: ٢٠٠]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা কর।” (সূরা আলে ইমরান ২০০ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾وَلَنَبۡلُوَنَّكُم بِشَيۡءٖ مِّنَ ٱلۡخَوۡفِ وَٱلۡجُوعِ وَنَقۡصٖ مِّنَ ٱلۡأَمۡوَٰلِ وَٱلۡأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٥﴿ [البقرة: ١٥٥]অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফলের (ফসলের) নোকসান দ্বারা পরীক্ষা করব; আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।” (সূরা বাকারাহ ১৫৫ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجۡرَهُم بِغَيۡرِ حِسَابٖ﴿ [الزمر: ١٠]অর্থাৎ “ধৈর্যশীলদেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে।” (সূরা যুমার ১০ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴿ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শুরা ৪৩ আয়াত)﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٣ ﴿ [البقرة: ١٥٣]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।” (সূরা বাকারাহ ১৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَلَنَبۡلُوَنَّكُمۡ حَتَّىٰ نَعۡلَمَ ٱلۡمُجَٰهِدِينَ مِنكُمۡ وَٱلصَّٰبِرِينَ وَنَبۡلُوَاْ أَخۡبَارَكُمۡ ٣١ ﴿ [محمد: ٣١]অর্থাৎ “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্যে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদেরকে জেনে নই এবং আমি তোমাদের অবস্থা পরীক্ষা করি।” (সূরা মুহাম্মাদ ৩১ আয়াত)আয়াতসমূহে ধৈর্যের আদেশ এবং তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে তার সংখ্যা অনেক ও প্রসিদ্ধ।
চোখের পরীক্ষায় সবর: দৃষ্টিহীনতার কষ্টে জান্নাতের আশা
রিয়াদুস সালেহীন : ১০/৩৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১০/৩৫
وعَنْ أَنسٍ رضي اللَّه عنه قال : سَمِعْتُ رسول اللَّه صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم يقولُ : » إنَّ اللَّه عَزَّ وجَلَّ قَالَ: إِذَا ابْتَلَيْتُ عَبدِي بحبيبتَيْهِ فَصبَرَ عَوَّضْتُهُ مِنْهُمَا الْجنَّةَ» يُريدُ عينيْه، رواه البخاريُّ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ’’আল্লাহ তা’আলা বলেন, যখন আমি আমার বান্দাকে তার প্রিয়তম দুটি জিনিস দ্বারা (অর্থাৎ চক্ষু থেকে বঞ্চিত করে) পরীক্ষা করি এবং সে সবর করে আমি তাকে এ দু’টির বিনিময়ে জান্নাত প্রদান করব।’’
সহীহুল বুখারী ৫৬৫৩, তিরমিযী ২৪০০, আহমাদ ১২০৫৯, ১২১৮৫, ১৩৬০৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর এক বিশেষ পরীক্ষার কথা এসেছে। বান্দাকে তার প্রিয় দুটি জিনিস—অর্থাৎ চোখ—দিয়ে পরীক্ষা করা হলে, আর সে ধৈর্য ধরে, আল্লাহ তার বিনিময়ে জান্নাত দান করবেন বলে জানিয়েছেন। চোখ মানুষের জীবনে খুব বড় নেয়ামত। দৃষ্টিশক্তি হারানো বা চোখের বড় পরীক্ষা সহজ বিষয় নয়। তাই হাদিসটি কষ্টকে ছোট করে না; বরং ধৈর্যের মর্যাদা তুলে ধরে। এখানে সবর মানে আল্লাহর প্রতি অভিযোগের পথে না গিয়ে তাঁর ফয়সালা মেনে নেওয়া এবং প্রতিদান তাঁর কাছে আশা করা। এই হাদিস চোখের নেয়ামতকে মনে করায় এবং যারা চোখের পরীক্ষায় আছেন, তাঁদের জন্য আশার দরজা দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চোখ আল্লাহর বড় নেয়ামত, তাই এর কৃতজ্ঞতা দরকার।
- দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষা কঠিন হলেও ধৈর্য বড় মর্যাদার কারণ।
- কষ্টের বিনিময় আল্লাহর কাছে আশা করা মুমিনের কাজ।
- হাদিসে ধৈর্যশীল বান্দার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
