১/৪৫. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/৩৭২ - মানুষ যাকে ভালোবাসে তার সাথেই থাকবে
ভাল লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাঁদের সাহচর্য গ্রহণ করা, তাঁদেরকে ভালবাসা, তাঁদেরকে বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া, তাঁদের কাছে দো‘আ চাওয়া এবং বরকতময় স্থানসমূহের দর্শন
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِفَتَىٰهُ لَآ أَبۡرَحُ حَتَّىٰٓ أَبۡلُغَ مَجۡمَعَ ٱلۡبَحۡرَيۡنِ أَوۡ أَمۡضِيَ حُقُبٗا ٦٠ ﴿ [الكهف: ٦٠] إِلَى قوله تَعَالَى : ﴾ قَالَ لَهُۥ مُوسَىٰ هَلۡ أَتَّبِعُكَ عَلَىٰٓ أَن تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمۡتَ رُشۡدٗا ٦٦ ﴿ [الكهف: ٦٦]অর্থাৎ “(স্মরণ কর,) যখন মূসা তার সঙ্গীকে বলেছিল, দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌঁছে আমি থামব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।” -এখান থেকে আল্লাহর বাণী:- “মূসা তাকে বলল, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে, তা হতে আমাকে শিক্ষা দেবেন এই শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করব কি?” (সূরা কাহফ ৬০-৬৬ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ﴿ [الكهف: ٢٨]অর্থাৎ “তুমি নিজেকে তাদেরই সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে।” (সূরা কাহফ ২৮ আয়াত
ভালোবাসার প্রভাব: মানুষ যাকে ভালোবাসে তার সাথী হবে
রিয়াদুস সালেহীন : ৯/৩৭২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৯/৩৭২
وَعَن أَبي مُوسَى الأَشعَرِي رضي الله عنه: أَنَّ النَّبيَّ ﷺ، قَالَ: «المَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِوَفي رِوَايَةٍ: قِيلَ لِلنَّبِي ﷺ: الرَّجُلُ يُحِبُّ القَومَ وَلَمَّا يَلْحَقْ بِهِمْ؟ قَالَ: المَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’মানুষ (দুনিয়াতে) যাকে ভালোবাসে (কেয়ামতে) সে তারই সাথী হবে।’’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, ’’কোনো ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে, কিন্তু (আমলে) তাদের সমকক্ষ হতে পারেনি। তিনি বললেন, মানুষ যাকে ভালোবাসে, সে তারই সাথী হবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৬১৭০, মুসলিম ২৬৪১, আহমাদ ১৯০০২, ১৯০৩২, ১৯১৩১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/৩৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ভালোবাসার গভীর প্রভাব বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মানুষ যাকে ভালোবাসে, সে তারই সাথী হবে। অন্য বর্ণনায় একজন জানতে চাইলেন, কেউ কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে কিন্তু আমলে তাদের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি—তখনও নবী (صلى الله عليه وسلم) একই কথা বললেন। এখানে শিক্ষা হলো, ভালোবাসা শুধু মুখের কথা নয়; তা মানুষের হৃদয়ের দিক নির্দেশ করে। কেউ যদি আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসে, সৎ মানুষদের পছন্দ করে এবং তাদের পথকে ভালো মনে করে, তবে এতে তার ঈমানি আশা জাগে। তবে হাদিসটি আমল ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি নয়; বরং ভালোবাসাকে সৎ পথে চলার প্রেরণা বানাতে শেখায়। মুমিনের ভালোবাসা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের ভালোবাসা তার হৃদয়ের দিক দেখায়।
- সৎ মানুষদের ভালোবাসা মুমিনের জন্য আশার কারণ।
- ভালোবাসা আমলকে অবহেলা করার অজুহাত নয়।
- যাকে ভালোবাসি, তার পথ ও চরিত্র নিয়ে ভাবা দরকার।
