১/৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৩/৩৮ - কষ্টে গুনাহ মাফ
সবর (ধৈর্যের) বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱصۡبِرُواْ وَصَابِرُواْ ﴿ [ال عمران: ٢٠٠]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা কর।” (সূরা আলে ইমরান ২০০ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾وَلَنَبۡلُوَنَّكُم بِشَيۡءٖ مِّنَ ٱلۡخَوۡفِ وَٱلۡجُوعِ وَنَقۡصٖ مِّنَ ٱلۡأَمۡوَٰلِ وَٱلۡأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٥﴿ [البقرة: ١٥٥]অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফলের (ফসলের) নোকসান দ্বারা পরীক্ষা করব; আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।” (সূরা বাকারাহ ১৫৫ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجۡرَهُم بِغَيۡرِ حِسَابٖ﴿ [الزمر: ١٠]অর্থাৎ “ধৈর্যশীলদেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে।” (সূরা যুমার ১০ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴿ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শুরা ৪৩ আয়াত)﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٣ ﴿ [البقرة: ١٥٣]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।” (সূরা বাকারাহ ১৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَلَنَبۡلُوَنَّكُمۡ حَتَّىٰ نَعۡلَمَ ٱلۡمُجَٰهِدِينَ مِنكُمۡ وَٱلصَّٰبِرِينَ وَنَبۡلُوَاْ أَخۡبَارَكُمۡ ٣١ ﴿ [محمد: ٣١]অর্থাৎ “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্যে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদেরকে জেনে নই এবং আমি তোমাদের অবস্থা পরীক্ষা করি।” (সূরা মুহাম্মাদ ৩১ আয়াত)আয়াতসমূহে ধৈর্যের আদেশ এবং তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে তার সংখ্যা অনেক ও প্রসিদ্ধ।
কষ্টে গুনাহ মাফ: ছোট ব্যথাও আল্লাহর কাছে মূল্যহীন নয়
রিয়াদুস সালেহীন : ১৩/৩৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৩/৩৮
37وَعنْ أَبي سَعيدٍ وأَبي هُرَيْرة رضي اللَّه عَنْهُمَا عن النَّبيِّ صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قَالَ : «مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَمِنْ نَصَبٍ وَلاَ وَصَبٍ وَلاَ هَمٍّ وَلاَ حَزَن وَلاَ أَذًى وَلاَ غمٍّ، حتَّى الشَّوْآَةُ يُشَاآُها إِلاَّ آفَّر اللَّه بهَا مِنْ خطَايَاه» متفقٌ عليه. و «الْوَصَب» : الْمرضُ
আবূ সাঈদ (রাঃ) ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’মুসলিমকে যে কোনো ক্লান্তি, অসুখ, চিন্তা, শোক এমন কি (তার পায়ে) কাঁটাও লাগে, আল্লাহ তা’আলা এর মাধ্যমে তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।’’[১]
সহীহুল বুখারী ৫৬৪২, মুসলিম ২৫৭৩, তিরমিযী ৯৬৬, আহমাদ ৭৯৬৯, ৮২১৯, ৮৯৬৬, ১০৬২৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৩/৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসলিমের জীবনের নানা কষ্টের কথা এসেছে—ক্লান্তি, অসুখ, চিন্তা, শোক, আঘাত, দুঃখ, এমনকি পায়ে কাঁটা লাগাও। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানিয়েছেন, এসব কষ্টের মাধ্যমে আল্লাহ মুসলিমের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। এতে বোঝা যায়, মুমিনের জীবনের ব্যথা একেবারে অর্থহীন নয়। তবে হাদিসটি কষ্ট চাইতে বলে না; বরং কষ্ট এলে মুমিন যেন হতাশ না হয়, সেই আশা দেয়। ছোট কষ্টও আল্লাহর কাছে পাপ মোচনের কারণ হতে পারে। তাই অসুস্থতা, মানসিক চাপ বা দুঃখের সময় নিজেকে মনে করানো দরকার—আল্লাহ আমার অবস্থা দেখছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি আমাকে পবিত্র করতে পারেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিমের কষ্ট আল্লাহর কাছে মূল্যহীন নয়।
- ছোট কাঁটার ব্যথাও পাপ মোচনের কারণ হতে পারে।
- দুঃখ ও চিন্তার সময় হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমত আশা করা দরকার।
- কষ্ট এলে ধৈর্য ও আল্লাহর দিকে ফিরে থাকা উচিত।
