১/৪৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৩৮৯ - নামাজের পর যিকর, শোকর ও উত্তম ইবাদতের দোয়া
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কারো সাথে ভালবাসা রাখার মাহাত্ম্য এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও যে ব্যক্তি অন্য কাউকে ভালবাসে তাকে সে ব্যাপারে অবহিত করা ও কী বলে অবহিত করবে তার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾مُّحَمَّدٞ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡۖ تَرَىٰهُمۡ رُكَّعٗا سُجَّدٗا يَبۡتَغُونَ فَضۡلٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٰنٗاۖ سِيمَاهُمۡ فِي وُجُوهِهِم مِّنۡ أَثَرِ ٱلسُّجُودِۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمۡ فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِۚ وَمَثَلُهُمۡ فِي ٱلۡإِنجِيلِ كَزَرۡعٍ أَخۡرَجَ شَطَۡٔهُۥ فََٔازَرَهُۥ فَٱسۡتَغۡلَظَ فَٱسۡتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِۦ يُعۡجِبُ ٱلزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ ٱلۡكُفَّارَۗ وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنۡهُم مَّغۡفِرَةٗ وَأَجۡرًا عَظِيمَۢا ٢٩ ﴿ [الفتح: ٢٩] إِلَى آخر السورةঅর্থাৎ “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করতে দেখবে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন থাকবে, তাওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপই। আর ইঞ্জীলে তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা হতে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর এটা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং দৃঢ়ভাবে কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে যায়, যা চাষীদেরকে মুগ্ধ করে। এভাবে (আল্লাহ বিশ্বাসীদের সমৃদ্ধি দ্বারা) অবিশ্বাসীদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। ওদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের।” (সূরা ফাত্হ ২৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٩ ﴿ [الحشر: ٩]অর্থাৎ “আর (মুহাজিরদের আগমনের) পূর্বে যারা এ নগরী (মদ্বীনা)তে বসবাস করেছে ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে।” (সূরা হাশ্র ৯ আয়াত)
নামাজের পর দোয়া: যিকর, শোকর ও উত্তম ইবাদতের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১০/৩৮৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১০/৩৮৯
وَعَن مُعَاذٍ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ أَخَذَ بِيَدِهِ، وَقَالَ: «يَا مُعَاذُ، وَاللهِ، إنِّي لأُحِبُّكَ، ثُمَّ أُوصِيكَ يَا مُعَاذُ لاَ تَدَعَنَّ في دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ تَقُولُ : اَللهم أعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ». حديث صحيح، رواه أَبُو داود والنسائي بإسناد صحيح
মু'আয (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হাত ধরে বললেন, ’’হে মু’আয! আল্লাহর শপথ! নিঃসন্দেহে আমি তোমাকে ভালোবাসি। অতঃপর আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, হে মু’আয! তুমি প্রত্যেক নামাজের পশ্চাতে এ শব্দগুলো বলা ছাড়বে না, ’আল্লা-হুম্মা আ’ইন্নী আলা যিকরিকা ওয়াশুকরিকা অহুসনি ইবা-দাতিক।’’(অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার যিকর করার, তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার এবং উত্তমরূপে তোমার ইবাদত করার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য কর।) (আবূ দাউদ, নাসায়ী বিশুদ্ধ সূত্রে) [১]
নাসায়ী ১৩০৩, আবূ দাউদ ১৫২২, আহমাদ ২১৬২১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৩৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মু‘আয (রাঃ)-এর হাত ধরে তাকে ভালোবাসার কথা জানান। এরপর তিনি তাকে একটি মূল্যবান দোয়া শিখিয়ে দেন এবং বলেন, প্রত্যেক নামাজের পরে এটি বলা ছাড়বে না: ‘আল্লা-হুম্মা আ‘ইন্নী আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক।’ এর অর্থ হলো, হে আল্লাহ! তোমার যিকর, তোমার কৃতজ্ঞতা এবং সুন্দরভাবে তোমার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করো। এখানে ভালোবাসা শুধু আবেগে থেমে থাকেনি; তা উপকারী উপদেশে রূপ নিয়েছে। নামাজের পর দোয়া হাদিস আমাদের শেখায়, ইবাদতের শক্তি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আসে না। তাই যিকর, শোকর ও উত্তম ইবাদতের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালোবাসা থাকলে উপকারী নসিহত করা উচিত।
- নামাজের পর যিকর ও দোয়ার গুরুত্ব আছে।
- উত্তম ইবাদতের জন্য আল্লাহর সাহায্য চাইতে হয়।
- কৃতজ্ঞতা প্রকাশও বান্দার গুরুত্বপূর্ণ আমল।
