১/৪৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৯১ - ফরজ, নফল ও আল্লাহর নৈকট্য
বান্দাকে আল্লাহর ভালবাসার নিদর্শনাবলী, এমন নিদর্শন অবলম্বন করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং তা অর্জন করার জন্য প্রয়াসী হওয়ার বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٣١ ﴿ [ال عمران: ٣١]অর্থাৎ “বল, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন। বস্তুত আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আলে ইমরান ৩১ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَن يَرۡتَدَّ مِنكُمۡ عَن دِينِهِۦ فَسَوۡفَ يَأۡتِي ٱللَّهُ بِقَوۡمٖ يُحِبُّهُمۡ وَيُحِبُّونَهُۥٓ أَذِلَّةٍ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ يُجَٰهِدُونَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوۡمَةَ لَآئِمٖۚ ذَٰلِكَ فَضۡلُ ٱللَّهِ يُؤۡتِيهِ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ ٥٤ ﴿ [المائدة: ٥٤]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ তার দ্বীন থেকে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনয়ন করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন ও যারা তাঁকে ভালবাসবে, তারা হবে মুমিনদের প্রতি কোমল ও কাফেরদের প্রতি কঠোর। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোন নিন্দুকের নিন্দায় ভয় করবে না, এ আল্লাহর অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা তিনি দান করেন। বস্তুত আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা মায়েদাহ ৫৪ আয়াত)
আল্লাহর নৈকট্য লাভ: ফরজ ও নফল ইবাদতের হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৩৯১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৩৯১
عَن أبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «إنَّ الله تَعَالَى قَالَ: مَنْ عَادَى لِي وَلِيّاً فَقَدْ آذَنْتُهُ بالحَرْبِ، وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بشَيءٍ أَحَبَّ إلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيهِ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقرَّبُ إلَيَّ بالنَّوافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ، فَإذَا أَحبَبتُهُ كُنْتُ سَمعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ، وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ، ويَدَهُ الَّتي يَبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشي بِهَا، وَإنْ سَأَلَني أعْطَيْتُهُ، وَلَئِنِ اسْتَعَاذَنِي لأُعِيذَنَّهُ ». رواه البخاري
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’’যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর সাথে শত্রুতা করবে, তার বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধের ঘোষণা রইল। আমার বান্দা যে সমস্ত জিনিস দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করে, তার মধ্যে আমার নিকট প্রিয়তম জিনিস হল তা, যা আমি তার উপর ফরজ করেছি। (অর্থাৎ ফরজের দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করা আমার নিকটে বেশি পছন্দনীয়।) আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, পরিশেষে আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।অতঃপর যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার ঐ কান হয়ে যাই, যার দ্বারা সে শোনে, তার ঐ চোখ হয়ে যাই, যার দ্বারা সে দেখে, তার ঐ হাত হয়ে যাই, যার দ্বারা সে ধরে এবং তার ঐ পা হয়ে যাই, যার দ্বারা সে চলে। আর সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তাহলে আমি তাকে দেই এবং সে যদি আমার আশ্রয় চায়, তাহলে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দেই।’’(বুখারী) [১] (’কান হয়ে যাই, যার দ্বারা সে শোনে, তার ঐ চোখ হয়ে যাই, যার দ্বারা সে দেখে, তার ঐ হাত হয়ে যাই, যার দ্বারা সে ধরে এবং তার ঐ পা হয়ে যাই, যার দ্বারা সে চলে।’অর্থাৎ আমার সন্তুষ্টি মোতাবেক সে শোনে, দেখে, ধরে ও চলে।)
সহীহুল বুখারী ৬৫০২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৩৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর বন্ধু, ফরজ ইবাদত, নফল আমল এবং আল্লাহর ভালোবাসার কথা এসেছে। আল্লাহ বলেন, যে তাঁর কোনো বন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা করে, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা আছে। বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে সবচেয়ে প্রিয় সেই কাজের মাধ্যমে, যা আল্লাহ তার ওপর ফরজ করেছেন। এরপর বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করতে থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। হাদিসে আল্লাহর ভালোবাসার ফল হিসেবে বান্দার শোনা, দেখা, ধরা ও চলা আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী হওয়ার কথা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই ফরজ-নফল ইবাদত হাদিস আমাদের শেখায়, আল্লাহর নৈকট্যের পথ শুরু হয় ফরজ ঠিকভাবে আদায় করা থেকে, তারপর নফল আমল দিয়ে তা সুন্দর হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরজ ইবাদত আল্লাহর নৈকট্যের প্রধান পথ।
- নফল আমল বান্দাকে আল্লাহর ভালোবাসার দিকে এগিয়ে দেয়।
- আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সঙ্গে শত্রুতা করা বড় ভয়ের বিষয়।
- বান্দার কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী হওয়া উচিত।
