১/৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৮/৪৩ - অপবাদে নববী ধৈর্য
সবর (ধৈর্যের) বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱصۡبِرُواْ وَصَابِرُواْ ﴿ [ال عمران: ٢٠٠]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা কর।” (সূরা আলে ইমরান ২০০ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾وَلَنَبۡلُوَنَّكُم بِشَيۡءٖ مِّنَ ٱلۡخَوۡفِ وَٱلۡجُوعِ وَنَقۡصٖ مِّنَ ٱلۡأَمۡوَٰلِ وَٱلۡأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٥﴿ [البقرة: ١٥٥]অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফলের (ফসলের) নোকসান দ্বারা পরীক্ষা করব; আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।” (সূরা বাকারাহ ১৫৫ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجۡرَهُم بِغَيۡرِ حِسَابٖ﴿ [الزمر: ١٠]অর্থাৎ “ধৈর্যশীলদেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে।” (সূরা যুমার ১০ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴿ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শুরা ৪৩ আয়াত)﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٣ ﴿ [البقرة: ١٥٣]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।” (সূরা বাকারাহ ১৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَلَنَبۡلُوَنَّكُمۡ حَتَّىٰ نَعۡلَمَ ٱلۡمُجَٰهِدِينَ مِنكُمۡ وَٱلصَّٰبِرِينَ وَنَبۡلُوَاْ أَخۡبَارَكُمۡ ٣١ ﴿ [محمد: ٣١]অর্থাৎ “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্যে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদেরকে জেনে নই এবং আমি তোমাদের অবস্থা পরীক্ষা করি।” (সূরা মুহাম্মাদ ৩১ আয়াত)আয়াতসমূহে ধৈর্যের আদেশ এবং তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে তার সংখ্যা অনেক ও প্রসিদ্ধ।
অপবাদে ধৈর্য: ইনসাফ নিয়ে অভিযোগের মুখে নববী শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১৮/৪৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৮/৪৩
وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال : لما كان يوم حنين آثر رسول الله ﷺ ناساً في القسمة، فأعطى الأقرع بن حابس مائة من الإبل، وأعطى عيينة بن حصن مثل ذلك، وأعطى ناساً من أشراف العرب وآثرهم يومئذ في القسمة. فقال رجل: والله إن هذه قسمة ما عدل فيها، وما أريد فيها وجه الله، فقلت : والله لأخبرن رسول الله ﷺ، فأتيته فأخبرته بما قال: فتغير وجههه حتى كان كالصرف . ثم قال «فمن يعدل إذا لم يعدل الله ورسوله؟ ثم قال: يرحم الله موسى قد أوذي بأكثر من هذا فصبر». فقلت: لا جرم لا أرفع إليه بعدها حديثاً. (متفق عليه) .
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুনাইন যুদ্ধের গনিমতের মাল বণ্টনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু লোককে (তাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য) প্রাধান্য দিলেন (অর্থাৎ অন্য লোকের তুলনায় তাদেরকে বেশি মাল দিলেন)। সুতরাং তিনি আক্বরা’ ইবনু হাবেসকে একশত উট দিলেন এবং ’উয়াইনা ইবনু হিসনকেও তারই মত দিলেন। অনুরূপ আরবের আরো কিছু সম্ভ্রান্ত মানুষকেও সেদিন (মাল) বণ্টনে প্রাধান্য দিলেন।(এ দেখে) একটি লোক বলল, ’আল্লাহর কসম! এই বণ্টনে ইনসাফ করা হয়নি এবং এতে আল্লাহর সন্তোষ লাভের ইচ্ছা রাখা হয়নি!’ আমি (ইবনু মাসউদ) বললাম, ’আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমি এই সংবাদ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে দেব।’ অতএব আমি তাঁর কাছে এসে সেই সংবাদ দিলাম যা সে বলল। ফলে তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে এমনকি লালবর্ণ হয়ে গেল।অতঃপর তিনি বললেন, ’’যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ইনসাফ না করেন, তাহলে আর কে ইনসাফ করবে?’’ অতঃপর তিনি বললেন, ’’আল্লাহ মূসাকে রহম করুন, তাঁকে এর চেয়ে বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।’’ অবশেষে আমি (মনে মনে) বললাম যে, ’আমি এর পরে কোন কথা তাঁর কাছে পৌঁছাব না।’[১]
সহীহুল বুখারী ৩১৫০, ৩৪০৫, ৪৩৩৫, ৪৩৩৬, ৬০৫৯, ৬১০০, ৬২৯১, ৬৩৩৬, মুসলিম ১০৬২, আহমাদ ৩৫৯৭, ৩৭৫০, ৩৮৯২, ৪১৩৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৮/৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুনাইন যুদ্ধের গনিমত বণ্টনের একটি ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কিছু লোককে বেশি দিলেন, যাতে তাদের মন ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হয়। কিন্তু এক ব্যক্তি কঠিন কথা বলল—এই বণ্টনে নাকি ইনসাফ হয়নি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি চাওয়া হয়নি। ইবনু মাসউদ (রাঃ) কথাটি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানালে তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে যায়। তিনি বলেন, যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ইনসাফ না করেন, তবে কে ইনসাফ করবে? এরপর তিনি মূসা (আঃ)-এর কথা স্মরণ করেন, যাঁকে আরও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তবু তিনি ধৈর্য ধরেছিলেন। এই হাদিসে অপবাদে ধৈর্য, নেতৃত্বে কষ্ট সহ্য করা এবং নবীদের ধৈর্যের দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের কঠিন কথায় ধৈর্য ধরা নবীদের পথের একটি শিক্ষা।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বণ্টনকে অন্যায় বলা বড় ধরনের ভুল কথা।
- মূসা (আঃ)-এর ধৈর্য কষ্টের সময় স্মরণযোগ্য দৃষ্টান্ত।
- নেতৃত্বের অবস্থানে মানুষের অভিযোগ সহ্য করার প্রয়োজন হতে পারে।
