১/৫৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৪৪৮ - ভয় ও আশা
একই সাথে আল্লাহর প্রতি ভয় ও আশা রাখার বিবরণ
জ্ঞাতব্য যে, সুস্থ অবস্থায় বান্দার উচিত হল, অন্তরে আল্লাহর আযাবের ভয় এবং তাঁর রহমতের আশা রাখা। এ ক্ষেত্রে ভয় ও আশা উভয়ই সমান হবে। পক্ষান্তরে অসুস্থ অবস্থায় নিছকভাবে আশা রাখা উচিত। কুরআন ও সুন্নাহ এবং অন্যান্য স্পষ্ট উক্তিতে এ কথার ভূরি ভূরি প্রমাণ বর্তমান।আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ فَلَا يَأۡمَنُ مَكۡرَ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡقَوۡمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ﴿[الاعراف: ٩٩]অর্থাৎ “তারা কি আল্লাহর কৌশলের ভয় রাখে না? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত কেউই আল্লাহর কৌশলের হতে নিরাপদ বোধ করে না।” (সূরা আ‘রাফ ৯৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّهُۥ لَا يَاْيَۡٔسُ مِن رَّوۡحِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡقَوۡمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ﴿[يوسف: ٨٧]অর্থাৎ “অবিশ্বাসী (কাফের) সম্প্রদায় ব্যতীত কেউই আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয় না।” (সূরা ইউসুফ ৮৭ আয়াত)অন্য জায়গায় তিনি বলেন,﴾ يَوۡمَ تَبۡيَضُّ وُجُوهٞ وَتَسۡوَدُّ وُجُوهٞۚ﴿[ال عمران: ١٠٦]অর্থাৎ “সেদিন কতকগুলো মুখমণ্ডল সাদা (উজ্জ্বল) হবে এবং কতকগুলো মুখমণ্ডল কালো হবে।” (আলে ‘ইমরান ১০৬ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ ٱلۡعِقَابِ وَإِنَّهُۥ لَغَفُورٞ رَّحِيمٞ ١٦٧﴿[الاعراف: ١٦٧]অর্থাৎ “আর তোমার প্রতিপালক তো শাস্তিদানে সত্বর এবং তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালুও।” (সূরা আ‘রাফ ১৬৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّ ٱلۡأَبۡرَارَ لَفِي نَعِيمٖ ١٣ وَإِنَّ ٱلۡفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٖ ١٤﴿[الانفطار: ١٣، ١٤]অর্থাৎ “পুণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে এবং পাপাচারীরা থাকবে (জাহীম) জাহান্নামে।” (সূরা ইনফিত্বার ১৩-১৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَأَمَّا مَن ثَقُلَتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٦ فَهُوَ فِي عِيشَةٖ رَّاضِيَةٖ ٧ وَأَمَّا مَنۡ خَفَّتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٨ فَأُمُّهُۥ هَاوِيَةٞ ٩﴿[القارعة: ٦، ٩]অর্থাৎ “তখন যার (নেকীর) পাল্লা ভারী হবে, সে তো সন্তোষময় জীবনে (সুখে) থাকবে। কিন্তু যার পাল্লা হাল্কা হবে, তার স্থান হবে হাবিয়াহ।” (সূরা ক্বারিয়াহ ৬-৯ আয়াত)এ প্রসঙ্গে আরো অনেক আয়াত রয়েছে। আশা ও ভয় রাখার কথা কুরআন মাজীদের কোন কোন স্থানে মাত্র একটি আয়াতে, কোন স্থানে দু’টি আয়াতে এবং কোন স্থানে তিন বা ততোধিক আয়াতে একত্রে বিবৃত হয়েছে।
আল্লাহর শাস্তি ও রহমত: ভয়-আশার ভারসাম্য
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৪৪৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৪৪৮
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: «لَوْ يَعْلَمُ الْمُؤمِنُ مَا عِنْدَ الله مِنَ العُقُوبَةِ، مَا طَمِعَ بِجَنَّتِهِ أَحَدٌ، وَلَوْ يَعْلَمُ الكَافِرُ مَا عِنْدَ الله مِنَ الرَّحْمَةِ، مَا قَنَطَ مِنْ جَنَّتِهِ أحَدٌ». رواه مسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ’’যদি মু’মিন জানত যে, আল্লাহর নিকট কী শাস্তি রয়েছে, তাহলে কেউ তাঁর জান্নাতের আশা করত না। আর যদি কাফের জানত যে, আল্লাহর নিকট কী করুণা রয়েছে, তাহলে কেউ তাঁর জান্নাত থেকে নিরাশ হত না।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ২৭৫৫, তিরমিযী ৩৫৪২, আহমাদ ৮২১০, ২৭৫০৬, ৯৯১০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৪৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মানুষের হৃদয়ে ভয় ও আশা—দুটি অনুভূতির কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মুমিন যদি আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে পুরোপুরি জানত, তাহলে কেউ জান্নাতের আশা করত না। আবার কাফের যদি আল্লাহর করুণা সম্পর্কে জানত, তাহলে কেউ জান্নাত থেকে নিরাশ হত না। এর অর্থ, আল্লাহর শাস্তিকে হালকা ভাবা যাবে না, আবার তাঁর রহমত থেকেও হতাশ হওয়া যাবে না। একজন বান্দার উচিত গুনাহ থেকে ভয় পাওয়া, তওবা করা এবং আল্লাহর দয়ার আশা রাখা। এই হাদিস অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি ও অতিরিক্ত হতাশা—দুয়ের মাঝামাঝি চলার শিক্ষা দেয়। তাই এই হাদিস মানুষকে একদিকে গুনাহ থেকে সতর্ক করে, অন্যদিকে হতাশা থেকে বাঁচায়। আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথ খোলা আছে—এ কথাও এতে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর শাস্তিকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়।
- আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হওয়াও ঠিক নয়।
- মুমিনের জীবন ভয় ও আশার ভারসাম্যে থাকা দরকার।
