১/৫৩. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৪৫০ - জান্নাত-জাহান্নাম

একই সাথে আল্লাহর প্রতি ভয় ও আশা রাখার বিবরণ

জ্ঞাতব্য যে, সুস্থ অবস্থায় বান্দার উচিত হল, অন্তরে আল্লাহর আযাবের ভয় এবং তাঁর রহমতের আশা রাখা। এ ক্ষেত্রে ভয় ও আশা উভয়ই সমান হবে। পক্ষান্তরে অসুস্থ অবস্থায় নিছকভাবে আশা রাখা উচিত। কুরআন ও সুন্নাহ এবং অন্যান্য স্পষ্ট উক্তিতে এ কথার ভূরি ভূরি প্রমাণ বর্তমান।আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ فَلَا يَأۡمَنُ مَكۡرَ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡقَوۡمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ﴿[الاعراف: ٩٩]অর্থাৎ “তারা কি আল্লাহর কৌশলের ভয় রাখে না? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত কেউই আল্লাহর কৌশলের হতে নিরাপদ বোধ করে না।” (সূরা আ‘রাফ ৯৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّهُۥ لَا يَاْيۡ‍َٔسُ مِن رَّوۡحِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡقَوۡمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ﴿[يوسف: ٨٧]অর্থাৎ “অবিশ্বাসী (কাফের) সম্প্রদায় ব্যতীত কেউই আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয় না।” (সূরা ইউসুফ ৮৭ আয়াত)অন্য জায়গায় তিনি বলেন,﴾ يَوۡمَ تَبۡيَضُّ وُجُوهٞ وَتَسۡوَدُّ وُجُوهٞۚ﴿[ال عمران: ١٠٦]অর্থাৎ “সেদিন কতকগুলো মুখমণ্ডল সাদা (উজ্জ্বল) হবে এবং কতকগুলো মুখমণ্ডল কালো হবে।” (আলে ‘ইমরান ১০৬ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ ٱلۡعِقَابِ وَإِنَّهُۥ لَغَفُورٞ رَّحِيمٞ ١٦٧﴿[الاعراف: ١٦٧]অর্থাৎ “আর তোমার প্রতিপালক তো শাস্তিদানে সত্বর এবং তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালুও।” (সূরা আ‘রাফ ১৬৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ إِنَّ ٱلۡأَبۡرَارَ لَفِي نَعِيمٖ ١٣ وَإِنَّ ٱلۡفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٖ ١٤﴿[الانفطار: ١٣، ١٤]অর্থাৎ “পুণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে এবং পাপাচারীরা থাকবে (জাহীম) জাহান্নামে।” (সূরা ইনফিত্বার ১৩-১৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَأَمَّا مَن ثَقُلَتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٦ فَهُوَ فِي عِيشَةٖ رَّاضِيَةٖ ٧ وَأَمَّا مَنۡ خَفَّتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٨ فَأُمُّهُۥ هَاوِيَةٞ ٩﴿[القارعة: ٦، ٩]অর্থাৎ “তখন যার (নেকীর) পাল্লা ভারী হবে, সে তো সন্তোষময় জীবনে (সুখে) থাকবে। কিন্তু যার পাল্লা হাল্কা হবে, তার স্থান হবে হাবিয়াহ।” (সূরা ক্বারিয়াহ ৬-৯ আয়াত)এ প্রসঙ্গে আরো অনেক আয়াত রয়েছে। আশা ও ভয় রাখার কথা কুরআন মাজীদের কোন কোন স্থানে মাত্র একটি আয়াতে, কোন স্থানে দু’টি আয়াতে এবং কোন স্থানে তিন বা ততোধিক আয়াতে একত্রে বিবৃত হয়েছে।

জান্নাত ও জাহান্নাম জুতোর ফিতার চেয়েও নিকটবর্তী

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৪৫০

وَعَنِ ابنِ مَسعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ: «الجَنَّةُ أقْرَبُ إِلى أحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ، وَالنَّارُ مِثْلُ ذلك». رواه البخاري

ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’জান্নাত তোমাদের কারো জুতোর ফিতার চাইতেও বেশি নিকটবর্তী, আর জাহান্নামও তদ্রূপ।’’ (বুখারী) [১]

সহীহুল বুখারী ৬৪৮৮, আহমাদ ৩৬৫৮, ৩৯১৩, ৪২০৪

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৪৫০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খুব ছোট বাক্যে বড় শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জান্নাত তোমাদের কারো জুতোর ফিতার চেয়েও বেশি নিকটবর্তী, আর জাহান্নামও তেমন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, মানুষের ভালো বা মন্দ পথ কখনো দূরের বিষয় নয়। ছোট একটি নেক আমল জান্নাতের পথে সহায়ক হতে পারে, আবার অবহেলিত গুনাহ মানুষকে বিপদের দিকে নিয়ে যেতে পারে। হাদিসটি আমাদের প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত, কথা ও কাজকে গুরুত্ব দিতে শেখায়। জান্নাতের আশা রাখতে হবে, জাহান্নামের ভয়ও রাখতে হবে। তাই জীবনকে হালকা করে না দেখে আল্লাহর আনুগত্যে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। তাই প্রতিদিনের ছোট সিদ্ধান্তকেও হালকা করে দেখা উচিত নয়। জিহ্বার কথা, অন্তরের নিয়ত এবং হাতে করা কাজ—সবই মানুষের শেষ পরিণতির সঙ্গে জড়িত হতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জান্নাত ও জাহান্নামের পথ মানুষের খুব কাছে।
  • ছোট আমলকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
  • ভালো-মন্দ কাজের পরিণতি নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন