১/৫৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৫০৫ - সাহাবীদের কষ্ট ও আল্লাহর পথে ত্যাগ
উপবাস, রুক্ষ ও নীরস জীবন যাপন করা, পানাহার ও পোশাক ইত্যাদি মনোরঞ্জনমূলক বস্তুতে অল্পে তুষ্ট হওয়া এবং প্রবৃত্তির দাসত্ব বর্জন করার মাহাত্ম্য
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,فَخَلَفَ مِنۢ بَعۡدِهِمۡ خَلۡفٌ أَضَاعُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَٱتَّبَعُواْ ٱلشَّهَوَٰتِۖ فَسَوۡفَ يَلۡقَوۡنَ غَيًّا ٥٩ إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا فَأُوْلَٰٓئِكَ يَدۡخُلُونَ ٱلۡجَنَّةَ وَلَا يُظۡلَمُونَ شَيۡٔٗا ٦٠﴾[مريم: ٥٩، ٦٠]অর্থাৎ “তাদের পর এল অপদার্থ পরবর্তীগণ, তারা নামায নষ্ট করল ও প্রবৃত্তিপরায়ণ হল; সুতরাং তারা অচিরেই অমঙ্গল প্রত্যক্ষ করবে। কিন্তু তারা নয় যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে; তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না।” (সূরা মারয়্যাম ৫৯-৬০ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ فَخَرَجَ عَلَىٰ قَوۡمِهِۦ فِي زِينَتِهِۦۖ قَالَ ٱلَّذِينَ يُرِيدُونَ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا يَٰلَيۡتَ لَنَا مِثۡلَ مَآ ُوتِيَ قَٰرُونُ إِنَّهُۥ لَذُو حَظٍّ عَظِيمٖ ٧٩ وَقَالَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ وَيۡلَكُمۡ ثَوَابُ ٱللَّهِ خَيۡرٞ لِّمَنۡ ءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗاۚ﴾[القصص: ٧٩، ٨٠]অর্থাৎ “কারূন তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে জাঁকজমক সহকারে বাহির হল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলল, আহা! কারূনকে যা দেওয়া হয়েছে সেরূপ যদি আমাদেরও থাকত; প্রকৃতই সে মহা ভাগ্যবান। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল তারা বলল, ধিক্ তোমাদের! যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ। আর ধৈর্যশীল ব্যতীত তা অন্য কেউ পায় না।” (সূরা কাস্বাস ৭৯-৮০ আয়াত)আরো অন্য জায়গায় তিনি বলেছেন,﴿ ثُمَّ لَتُسَۡٔلُنَّ يَوۡمَئِذٍ عَنِ ٱلنَّعِيمِ ٨﴾[التكاثر: ٨]অর্থাৎ “এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা সুখ-সম্পদ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।” (সূরা তাকাসুর ৮)অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴿ مَّن كَانَ يُرِيدُ ٱلۡعَاجِلَةَ عَجَّلۡنَا لَهُۥ فِيهَا مَا نَشَآءُ لِمَن نُّرِيدُ ثُمَّ جَعَلۡنَا لَهُۥ جَهَنَّمَ يَصۡلَىٰهَا مَذۡمُومٗا مَّدۡحُورٗا ١٨﴾[الاسراء: ١٨]অর্থাৎ “কেউ পার্থিব সুখ-সম্ভোগ কামনা করলে আমি যাকে যা ইচ্ছা সত্বর দিয়ে থাকি, পরে তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত করি; সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত ও অনুগ্রহ হতে দূরীকৃত অবস্থায়।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ১৮ আয়াত)
আল্লাহর পথে ত্যাগ: সাহাবীদের ক্ষুধা ও ধৈর্যের হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ১০/৫০৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১০/৫০৫
وَعَن سَعدِ بنِ أَبي وَقَّاصٍ رضي الله عنه، قَالَ: إنِّي لأَوَّلُ الْعَرَبِ رَمَى بِسَهْمٍ في سَبِيلِ اللهِ، وَلَقَدْ كُنَّا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ مَا لَنَا طَعَامٌ إِلاَّ وَرَقُ الْحُبْلَةِ، وَهذَا السَّمُرُ، حَتَّى إنْ كَانَ أحَدُنَا لَيَضَعُ كَمَا تَضَعُ الشَّاةُ مَا لَهُ خَلْطٌ.متفقٌ عَلَيْهِ
সা‘দ ইবনে আবী অক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ’আমিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছি। আমরা যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর সাথে থেকে যুদ্ধ করি, তখন আমাদের অবস্থা এরূপ ছিল যে, হুবলাহ গাছের পাতা ও এই বাবলা ছাড়া আমাদের অন্য কিছুই খাবার ছিল না। এ জন্য আমাদের প্রত্যেকেই ছাগলের লাদির মত মলত্যাগ করতেন; যার একটি আরেকটির সাথে মিশত না।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৭৫৫, ৭৫৮, ৭৭০, ৩৭২৮, ৫৪১২, ৬৪৫৩, মুসলিম ৪৫৩, ২৯৬৬, তিরমিযী ২৩৬৫, নাসায়ী ১০০২, ১০০৩, আবূ দাউদ ৮০৩, ইবনু মাজাহ ১৩১, আহমাদ ১৫১৩, ১৫৫১, ১৫৬০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১০/৫০৫-এর সারসংক্ষেপ
সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, তিনি আল্লাহর পথে প্রথম তীর নিক্ষেপকারীদের একজন ছিলেন। তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সাথে যুদ্ধে তাঁদের খাবার ছিল হুবলাহ গাছের পাতা ও বাবলা গাছের পাতা। খাবারের অভাব এত বেশি ছিল যে, তাঁদের মল ছাগলের লাদির মতো হয়ে যেত এবং একটি আরেকটির সাথে মিশত না। এই বর্ণনা সাহাবীদের কঠিন ত্যাগ, ক্ষুধা ও ধৈর্যের কথা জানায়। আল্লাহর পথে চলা সব সময় আরামদায়ক ছিল না। তবুও তাঁরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সাথে ছিলেন এবং ঈমানের কাজ চালিয়ে গেছেন। এই হাদিস আমাদের ধৈর্য, কষ্ট সহ্য করা এবং দুনিয়ার আরামকে বড় না ভাবার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পথে সাহাবীরা বাস্তব কষ্ট ও ক্ষুধা সহ্য করেছেন।
- ইমানি কাজের পথে কষ্ট আসতে পারে, তবুও ধৈর্য জরুরি।
- দুনিয়ার খাবার ও আরাম না থাকলেও দ্বীনের কাজ থেমে যায়নি।
- ত্যাগের ইতিহাস মনে রাখলে নিজের ছোট কষ্ট সহনীয় মনে হয়।
