১/৫৯. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৫৪৭ - যাকারিয়া (আঃ)-এর পেশা
স্বহস্তে উপার্জিত খাবার খাওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং অপরকে দান করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া প্রসঙ্গে
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱبۡتَغُواْ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ﴿[الجمعة: ١٠]অর্থাৎ “অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর।” (সূরা জুমুআহ ১০ আয়াত)
যাকারিয়া (আঃ) কাঠ-মিস্ত্রী ছিলেন: পেশার মর্যাদা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৫৪৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৫৪৭
وَعَنهُ: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، قَالَ: «كَانَ زَكرِيّا عليه السلام نَجَّاراً ». رواه مسلم
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’যাকারিয়া (আঃ) ছুতোর (কাঠ-মিস্ত্রী ছিলেন।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ২৩৭৯, ইবনু মাজাহ ২১৫০, আহমাদ ৭৮৮৭, ৯০০৪, ৯৯২১
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৫৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী যাকারিয়া (আঃ)-এর পেশার কথা বলা হয়েছে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) জানান, তিনি কাঠ-মিস্ত্রী ছিলেন। এতে বোঝা যায়, হালাল পেশা যত সাধারণই মনে হোক, তা সম্মানজনক। একজন নবীর সাথে একটি হাতে-কলমে কাজের সম্পর্ক উল্লেখ করা আমাদের কাজ সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করে। ইসলামে কাজকে ছোট করে দেখা হয় না, বরং হালাল উপার্জন ও প্রয়োজন পূরণের জন্য কাজ করা প্রশংসনীয়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—সৎ পেশা মানুষের মর্যাদা কমায় না। বরং তা স্বনির্ভরতা, দায়িত্ববোধ এবং হালাল জীবিকার পথ খুলে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হালাল পেশা ছোট বা হেয় নয়।
- নবীদের জীবনেও কর্ম ও উপার্জনের শিক্ষা আছে।
- কাঠ-মিস্ত্রির মতো হাতে-কলমে কাজও সম্মানজনক।
- নিজের পেশাকে সততার সঙ্গে পালন করা দরকার।
