১/৬০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৫৪৯ - ভালো ঈর্ষার দুই ক্ষেত্র
দানশীলতা এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে পুণ্য কাজে ব্যয় করার বিবরণ
মহান আল্লাহ বলেন,وَمَآ أَنفَقۡتُم مِّن شَيۡءٖ فَهُوَ يُخۡلِفُهُ) [سبا: ٣٩]অর্থাৎ “তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তিনি তার বিনিময় দেবেন।” (সূরা সাবা’ ৩৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَلِأَنفُسِكُمۡۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ وَجۡهِ ٱللَّهِۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يُوَفَّ إِلَيۡكُمۡ وَأَنتُمۡ لَا تُظۡلَمُونَ﴿[البقرة: ٢٧٢]অর্থাৎ “তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, তা নিজেদের উপকারের জন্যই। আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে তোমরা দান করো না। আর তোমরা যা দান কর, তার পুরস্কার পূর্ণভাবে প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭২ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ﴿[البقرة: ٢٧٣]অর্থাৎ “আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।” (সূরা বাকারাহ ২৭৩ আয়াত)
ভালো ঈর্ষা: সম্পদ ও জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার
রিয়াদুস সালেহীন : ২/৫৪৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৫৪৯
وعن ابن مسعود رضي الله عنه، عن النبيِّ ﷺ، قَالَ: «لا حَسَدَ إِلاَّ في اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً، فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ في الحَقّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ حِكْمَةً، فَهُوَ يَقْضِي بِهَا ويُعَلِّمُهَا» متفقٌ عَلَيْهِ
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’কেবলমাত্র দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা যায়(১) ঐ ব্যক্তির প্রতি যাকে মহান আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর তাকে হক পথে অকাতরে দান করার ক্ষমতা দান করেছেন এবং(২) ঐ ব্যক্তির প্রতি যাকে মহান আল্লাহ হিকমত দান করেছেন, অতঃপর সে তার দ্বারা ফায়সালা করে ও তা শিক্ষা দেয়।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৭৩, ১৪০৯, ৭১৪১, ৭৩১৬, মুসলিম ৮১৬, ইবনু মাজাহ ৪২১৬৮, আহমাদ ৩৬৪৩, ৪০৯৮ * হাদীসের অর্থ হল, উক্ত দুই প্রকার মানুষ ছাড়া অন্য কারো প্রতি ঈর্ষা করা বৈধ নয়।
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৫৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঈর্ষা নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ঈর্ষা মানুষের অন্তর নষ্ট করে, কিন্তু এখানে এমন দুই ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যাদের মতো ভালো হতে চাওয়া যায়। প্রথম ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে তা হক পথে খরচ করে। দ্বিতীয় ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ হিকমত দিয়েছেন; সে হিকমত দিয়ে ফায়সালা করে এবং মানুষকে শিক্ষা দেয়। তাই হাদিসের মূল কথা হলো, সম্পদ বা জ্ঞান পাওয়া বড় কথা নয়; এগুলো সঠিক পথে ব্যবহার করা বড় কথা। অন্যের নেয়ামত দেখে কষ্ট না পেয়ে, তার ভালো কাজ দেখে নিজের উন্নতির ইচ্ছা করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ হক পথে খরচ করলে তা কল্যাণের মাধ্যম হয়।
- হিকমত দিয়ে ফায়সালা করা ও শিক্ষা দেওয়া বড় ভালো কাজ।
- অন্যের ভালো দেখে নিজের ভালো হওয়ার ইচ্ছা রাখা যায়।
- সম্পদ ও জ্ঞান—দুটিই দায়িত্বের বিষয়।
