১/৬০. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১১/৫৫৯ - কৃপণ নন নবীজি

দানশীলতা এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে পুণ্য কাজে ব্যয় করার বিবরণ

মহান আল্লাহ বলেন,وَمَآ أَنفَقۡتُم مِّن شَيۡءٖ فَهُوَ يُخۡلِفُهُ) [سبا: ٣٩]অর্থাৎ “তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তিনি তার বিনিময় দেবেন।” (সূরা সাবা’ ৩৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَلِأَنفُسِكُمۡۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ وَجۡهِ ٱللَّهِۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يُوَفَّ إِلَيۡكُمۡ وَأَنتُمۡ لَا تُظۡلَمُونَ﴿[البقرة: ٢٧٢]অর্থাৎ “তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, তা নিজেদের উপকারের জন্যই। আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে তোমরা দান করো না। আর তোমরা যা দান কর, তার পুরস্কার পূর্ণভাবে প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭২ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ﴿[البقرة: ٢٧٣]অর্থাৎ “আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।” (সূরা বাকারাহ ২৭৩ আয়াত)

আমি কৃপণ নই: নবীজির দানশীল আচরণের শিক্ষা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১১/৫৫৯

وَعَن عُمَرَ رضي الله عنه، قَالَ: قَسَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ قَسْماً، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ، لَغَيْرُ هؤلاَءِ كَانُوا أحَقَّ بِهِ مِنْهُمْ؟ فَقَالَ:« إنَّهُمْ خَيَّرُونِي أنْ يَسأَلُوني بِالفُحْشِ، أَوْ يُبَخِّلُونِي، وَلَسْتُ بِبَاخِلٍ». رواه مسلم

উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু মাল বণ্টন করলেন। অতঃপর আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! অন্য লোকেরা এদের চেয়ে এ মালের বেশি হকদার ছিল।’ তিনি বললেন, ’’এরা আমাকে দু’টি কথার মধ্যে একটা না একটা গ্রহণ করতে বাধ্য করছে। হয় তারা আমার নিকট অভদ্রতার সাথে চাইবে (আর আমাকে তা সহ্য করে তাদেরকে দিতে হবে) অথবা তারা আমাকে কৃপণ আখ্যায়িত করবে। অথচ, আমি কৃপণ নই।’’ (মুসলিম) [১]

মুসলিম ১০৫৬, আহমাদ ১২৮, ২৩৬

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্‌-নাবাবী (রহ.)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১১/৫৫৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দানশীলতা এবং মানুষের আচরণ সহ্য করার ধৈর্য দেখা যায়। তিনি কিছু মাল বণ্টন করলে উমর (রাঃ) বলেন, অন্যরা হয়তো বেশি হকদার ছিল। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) জানান, কিছু লোক তাকে দুই অবস্থার একটিতে ফেলছে—তারা হয় অভদ্রভাবে চাইবে, আর তাকে সহ্য করে দিতে হবে; অথবা তাকে কৃপণ বলবে। তারপর তিনি বলেন, আমি কৃপণ নই। এই হাদিসে বোঝা যায়, দান করার সময় নবীজি (صلى الله عليه وسلم) মানুষের মন, আচরণ ও প্রয়োজন বিবেচনা করতেন। তবে এতে অভদ্রভাবে চাওয়া সমর্থন করা হয়নি; বরং নবীজির ধৈর্য ও উদারতা ফুটে উঠেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবীজি (صلى الله عليه وسلم) কৃপণ ছিলেন না, বরং উদার ছিলেন।
  • মানুষের কঠোর আচরণেও ধৈর্য রাখা বড় গুণ।
  • দান বণ্টনে কখনো মানুষের মনও বিবেচনায় আসতে পারে।
  • অভদ্রভাবে চাওয়া ভালো আচরণ নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন