১/৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৫৭ - তাওহীদ, নামাজ ও সত্যবাদিতা
সত্যবাদিতার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَكُونُواْ مَعَ ٱلصَّٰدِقِينَ ١١٩ ﴿ [التوبة: ١١٩]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।” (সূরা তওবা ১১৯ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَٱلصَّٰدِقِينَ وَٱلصَّٰدِقَٰتِ ﴿ [الاحزاب: ٣٥]অর্থাৎ “---সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদিনী নারী ---এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান রেখেছেন।” (সূরা আহযাব ৩৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ فَلَوۡ صَدَقُواْ ٱللَّهَ لَكَانَ خَيۡرٗا لَّهُمۡ ﴿ [محمد: ٢١]অর্থাৎ “সুতরাং যদি তারা আল্লাহর সাথে সত্য বলত, তাহলে তাদের জন্য এটা মঙ্গলজনক হত।” (সূরা মুহাম্মাদ ২১ আয়াত)
নবী صلى الله عليه وسلم-এর দাওয়াত: তাওহীদ, নামাজ, সত্যবাদিতা ও আত্মীয়তার বন্ধন
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৫৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৫৭
الثالث: عن أبي سفيان صخر بن حرب، رضي الله عنه، في حديثه الطويل في قصة هرقل، قال هرقل: فماذا يأمركم -يعنى النبي ﷺ- قال أبو سفيان: قلت :يقول : «اعبدوا الله وحده لا تشركوا به شيئاً، واتركوا ما يقول آباؤكم، ويأمرنا بالصلاة، والصدق، والعفاف، والصلة» (متفق عليه) .
আবূ সুফিয়ান সাখর ইবনু হারব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ সুফিয়ান সাখর ইবনু হারব (রাঃ) ঐ দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন যাতে (রোমের বাদশাহ) হিরাক্লিয়াসের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। হিরাক্লিয়াস আবূ সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করলেন (তখন তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি) ’তিনি---অর্থাৎ নবী (ﷺ)---তোমাদেরকে কোন কাজের আদেশ করছেন?’ আবূ সুফিয়ান বলেন, আমি বললাম, ’তিনি বলছেন যে, ’’তোমরা মাত্র এক আল্লাহর উপাসনা কর, তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার করো না এবং ঐসব কথা পরিহার কর, যা তোমাদের বাপ-দাদারা বলত (এবং করত)।’’ আর তিনি আমাদেরকে নামাজ পড়া, সত্য কথা বলা, চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করা এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার আদেশ দেন।’[১]
সহীহুল বুখারী ৭, ৫১, ২৬৮১, ২৮০৪, ২৯৩৬, ২৯৪১, ৩১৭৪, ৪৫৯৩, মুসলিম ১৭৭৩, তিরমিযী ২৭১৭, আবূ দাউদ ৫১৩৬, আহমাদ ২৩৬৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর বর্ণনায় হিরাক্লিয়াসের সঙ্গে কথোপকথনের একটি অংশ এসেছে। তখন আবূ সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেননি। হিরাক্লিয়াস তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের কী আদেশ করেন। আবূ সুফিয়ান বলেন, তিনি এক আল্লাহর ইবাদত করতে বলেন, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করতে বলেন এবং বাপ-দাদাদের বলা কিছু ভুল কথা ছাড়তে বলেন। তিনি আরও বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের নামাজ, সত্য কথা, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার আদেশ দেন। এই হাদিসে ইসলামের মূল দাওয়াত খুব সহজভাবে উঠে এসেছে—তাওহীদ, ইবাদত, সত্যবাদিতা, শালীনতা ও সম্পর্ক রক্ষা। এগুলো শুধু আলাদা আমল নয়; বরং মুসলিম চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলামের মূল শিক্ষা হলো এক আল্লাহর ইবাদত করা।
- শিরক থেকে দূরে থাকা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দাওয়াতের বড় অংশ।
- নামাজ, সত্য কথা ও চারিত্রিক পবিত্রতা গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
