১/৭৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/৬৩৪ - সদাচারের মর্যাদা ও নফল ইবাদতের সওয়াব
সচ্চরিত্রতার মাহাত্ম্য
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٖ ٤ ﴿ [القلم: ٤]অর্থাৎ “তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।” (সূরা ক্বালাম ৪ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي ٱلسَّرَّآءِ وَٱلضَّرَّآءِ وَٱلۡكَٰظِمِينَ ٱلۡغَيۡظَ وَٱلۡعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِۗ ﴿ [ال عمران: ١٣٤]অর্থাৎ “সেই দ্বীনদারদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে থাকে।” (সূরা আলে ইমরান ১৩৪ আয়াত)
সদাচারের মর্যাদা: সুন্দর চরিত্রে নফল ইবাদতের উচ্চতা
রিয়াদুস সালেহীন : ৯/৬৩৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৯/৬৩৪
وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَت: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، يَقُولُ: «إنَّ المُؤْمِنَ لَيُدْرِكُ بِحُسْنِ خُلُقِه دَرَجَةَ الصَّائِمِ القَائِمِ». رواه أَبُو داود
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ’’অবশ্যই মুমিন তার সদাচারিতার কারণে দিনে (নফল) রোজাদার এবং রাতে (নফল) ইবাদতকারীর মর্যাদা পেয়ে থাকে।’’ (আবু দাউদ) [১]
আবূ দাউদ ৪৭৯৮, আহমাদ ২৩৮৩৪, ২৪০৭৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/৬৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন যে মুমিন তার সদাচারিতার কারণে দিনে নফল রোযাদার এবং রাতে নফল ইবাদতকারীর মর্যাদা পেয়ে থাকে। এখানে “সদাচারের মর্যাদা” খুব স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে। ভালো চরিত্রকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কেউ মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণ করে, কষ্ট না দেয়, ভালো কথা বলে এবং সম্মান রাখে—এসব কাজ আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে। তবে হাদিসে নির্দিষ্টভাবে সদাচারের মর্যাদার কথা এসেছে; তাই এটিকে ফরজ ইবাদত বাদ দেওয়ার অজুহাত বানানো যাবে না। বরং শিক্ষা হলো, ইবাদতের সঙ্গে চরিত্র সুন্দর করা দরকার। ভালো ব্যবহারও মুমিনের জীবনে বড় নেক কাজ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সদাচার আল্লাহর কাছে মর্যাদার কারণ হতে পারে।
- সুন্দর চরিত্রকে সাধারণ সামাজিক বিষয় মনে করা ঠিক নয়।
- ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার জরুরি।
- নফল আমলের মতো সদাচারেরও বড় মূল্য আছে।
