১/৭৪. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৬৪৩ - নম্রতা হারালে মঙ্গলও হারায়

সহনশীলতা, ধীর-স্থিরতা ও কোমলতার গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱلۡكَٰظِمِينَ ٱلۡغَيۡظَ وَٱلۡعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِۗ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ﴿ [ال عمران: ١٣٤]অর্থাৎ “(সেই ধর্মভীরুদের জন্য বেহেশত প্রস্তুত রাখা হয়েছে যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে,) ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে থাকে। আর আল্লাহ (বিশুদ্ধচিত্ত) সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা আলে ইমরান ১৩৪ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ خُذِ ٱلۡعَفۡوَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡعُرۡفِ وَأَعۡرِضۡ عَنِ ٱلۡجَٰهِلِينَ ١٩٩ ﴿ [الاعراف: ١٩٩]অর্থাৎ “তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।” (সূরা আ‘রাফ ১৯৯ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَلَا تَسۡتَوِي ٱلۡحَسَنَةُ وَلَا ٱلسَّيِّئَةُۚ ٱدۡفَعۡ بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُ فَإِذَا ٱلَّذِي بَيۡنَكَ وَبَيۡنَهُۥ عَدَٰوَةٞ كَأَنَّهُۥ وَلِيٌّ حَمِيمٞ ٣٤ وَمَا يُلَقَّىٰهَآ إِلَّا ٱلَّذِينَ صَبَرُواْ وَمَا يُلَقَّىٰهَآ إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٖ ٣٥ ﴿ [فصلت: ٣٤، ٣٥]অর্থাৎ “ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। উৎকৃষ্ট দ্বারা মন্দ প্রতিহত কর; তাহলে যাদের সাথে তোমার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। এ চরিত্রের অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা ধৈর্যশীল, এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয়, যারা মহাভাগ্যবান। যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (সূরা হা-মীম সিজদা ৩৪-৩৬ আয়াত)আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴿ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শূরা ৪৩ আয়াত)

নম্রতার হাদিস: মঙ্গলের দরজা খোলে কোমল আচরণে

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/৬৪৩

وَعَن جَرِيرِ بنِ عبدِ اللهِ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ، يَقُولُ: «مَنْ يُحْرَمِ الرِفْقَ، يُحْرَمِ الخَيْرَ كلَّهُ ». رواه مسلم

জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ’’যাকে নম্রতা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাকে সমস্ত মঙ্গল থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া হয়।’’ (মুসলিম) [১]

মুসলিম ২৫৯২, আবূ দাউদ ৪৮০৯, ইবনু মাজাহ ৩৬৮৭, আহমাদ ২৭৮২৯, ১৮৭৬৭

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৬৪৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নম্রতার গুরুত্ব খুব শক্তভাবে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যাকে নম্রতা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাকে সমস্ত মঙ্গল থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া হয়। কথাটি আমাদের আচরণের দিকে তাকাতে শেখায়। জ্ঞান, কাজ বা দায়িত্ব থাকলেই মানুষ ভালো হয়ে যায় না; তার ব্যবহারে নম্রতা না থাকলে সেই ভালো জিনিসের সৌন্দর্য কমে যায়। নম্রতা মানে দুর্বল হওয়া নয়; বরং কথা, আচরণ ও সিদ্ধান্তে সুন্দর পথ বেছে নেওয়া। পরিবারে, সমাজে, দাওয়াতে, কাজের জায়গায়—নরম ব্যবহার মানুষের মনে ভালো প্রভাব ফেলে। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রিফক বা নম্রতা ইসলামী চরিত্রের বড় গুণ। তাই কঠিন কথা বলার আগে নিজেকে থামানো এবং সহজ ভাষায় বলা মঙ্গলের কারণ হতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নম্রতা ইসলামী চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
  • কঠোর আচরণ ভালো কাজের সৌন্দর্য কমিয়ে দিতে পারে।
  • মানুষের সাথে নরম ভাষায় কথা বলা মঙ্গলের পথ খুলে দেয়।
  • নম্রতা দুর্বলতা নয়, বরং সুন্দর আচরণের পরিচয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন