২/৮৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৬৮৯ - নবীজির লজ্জাশীলতা ও সুন্দর চরিত্র
লজ্জাশীলতা ও তার মাহাত্ম্য এবং এ গুণে গুণান্বিত হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান
নবীজির লজ্জাশীলতা: চরিত্রের এক কোমল শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৬৮৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৬৮৯
وَعَن أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ أشَدَّ حَيَاءً مِنَ العَذْرَاءِ في خِدْرِهَا، فَإذَا رَأَى شَيْئاً يَكْرَهُهُ عَرَفْنَاهُ في وَجْهِه. متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
’আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অন্তঃপুরবাসিনী কুমারীর চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। যখন তিনি কোন জিনিস অপছন্দ করতেন আমরা তাঁর চেহারায় তা বুঝতে পারতাম।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১] আলেমগণ বলেন, ’লজ্জাশীলতার প্রকৃতত্ব হল এমন সৎচরিত্রতা, যা নোংরা বর্জন করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে এবং অধিকারীর অধিকার আদায়ে ত্রুটি প্রদর্শন করতে বিরত রাখে। আবুল কাসেম জুনাইদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ’লজ্জাশীলতা হল, নিয়ামত লক্ষ্য করা এবং সেই সাথে (তার কৃতজ্ঞতায়) ত্রুটি লক্ষ্য করা। এই দুয়ের মাঝে যে অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাকেই লজ্জা বলা হয়।’
সহীহুল বুখারী ৩৫৬২, ৬১০২, ৬১১৯, মুসলিম ২৩২০, ইবনু মাজাহ ৪১৮০, আহমাদ ১১২৮৬, ১১৩৩৯, ১১৪২৩, ১১৪৫২, ১১৪৬৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৬৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর লজ্জাশীলতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নবীজি (صلى الله عليه وسلم) অন্তঃপুরবাসিনী কুমারীর চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। যখন তিনি কোনো কিছু অপছন্দ করতেন, সাহাবিরা তাঁর চেহারায় তা বুঝতে পারতেন। এখানে নবীজির চরিত্রের কোমলতা ও শালীনতা ফুটে উঠেছে। তিনি অপছন্দ প্রকাশ করলেও তা অশোভনভাবে করতেন না। হাদিসের সঙ্গে আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, লজ্জাশীলতা এমন সৎ চরিত্র, যা মানুষকে নোংরা কাজ থেকে দূরে রাখে এবং অন্যের অধিকার নষ্ট করা থেকে বিরত রাখে। তাই লজ্জাশীলতা শুধু চুপ থাকা নয়; বরং ভালো চরিত্র, সংযম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অত্যন্ত লজ্জাশীল ছিলেন।
- অপছন্দ প্রকাশেও শালীনতা রাখা উচিত।
- লজ্জাশীলতা নোংরা কাজ থেকে দূরে রাখে।
- অন্যের অধিকার আদায়ে ত্রুটি না করা ভালো চরিত্রের অংশ।
