২/৮৬. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬৯৬ - প্রতিশ্রুতি পূরণের সুন্দর দৃষ্টান্ত
চুক্তি পূরণ, প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও অঙ্গীকার পালন করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَأَوۡفُواْ بِٱلۡعَهۡدِۖ إِنَّ ٱلۡعَهۡدَ كَانَ مَسُۡٔولٗا﴿ [الاسراء: ٣٤]অর্থাৎ “আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৪ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴾ وَأَوۡفُواْ بِعَهۡدِ ٱللَّهِ إِذَا عَٰهَدتُّمۡ ﴿ [النحل: ٩١]অর্থাৎ “তোমরা যখন পরস্পর অঙ্গীকার কর তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর।” (সূরা নাহল ৯১ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَوۡفُواْ بِٱلۡعُقُودِۚ ﴿ [المائدة: ١]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর।” (সূরা মাইদাহ ১ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفۡعَلُونَ ٢ كَبُرَ مَقۡتًا عِندَ ٱللَّهِ أَن تَقُولُواْ مَا لَا تَفۡعَلُونَ ٣ ﴿ [الصف: ٢، ٣]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যা কর না, তা তোমরা বল কেন? তোমরা যা কর না তোমাদের তা বলা আল্লাহর নিকট অতিশয় অসন্তোষজনক।” (সূরা স্বাফফ ২-৩ আয়াত)
প্রতিশ্রুতি পূরণ: আবূ বকর (রা.)-এর আমানতদারির হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৬৯৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৬৯৬
وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ لِي النَّبِيُّ ﷺ: لَوْ قَدْ جَاءَ مَالُ الْبَحْرَيْنِ أعْطَيْتُكَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهكَذَا فَلَمْ يَجِئْ مَالُ الْبَحْرَينِ حَتَّى قُبِضَ النَّبيُّ ﷺ، فَلَمَّا جَاءَ مَالُ الْبَحْرَيْنِ أمَرَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه فَنَادَى: مَنْ كَانَ لَهُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ ﷺ عِدَةٌ أَوْ دَيْنٌ فَلْيَأتِنَا، فَأتَيْتُهُ وَقُلْتُ لَهُ: إنَّ النَّبيَّ ﷺ قَالَ لِي كَذَا وَكَذَا، فَحَثَى لِي حَثْيَةً فَعَدَدْتُهَا، فَإِذَا هِيَ خَمْسُمِئَةٍ، فَقَالَ لِي: خُذْ مِثْلَيْهَا.متفقٌ عَلَيْهِ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, ’’বাহরাইন থেকে মাল এলে তোমাকে এতটা, এতটা এবং এতটা দেব।’’ অতঃপর বাহরাইনের মাল আসার পূর্বেই নবী (ﷺ) মারা গেলেন। তারপর বাহরাইনের মাল এসে গেলে আবূ বকর (রাঃ) ঘোষণা করলেন, ’যার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রাপ্য কোন প্রতিশ্রুতি অথবা ঋণ আছে, সে আমার নিকট আসুক।’ (ঘোষণা শুনে) আমি (জাবের) তাঁকে বললাম যে, ’নবী (ﷺ) আমাকে এতটা মাল দেওয়ার ওয়াদা করেছিলেন।’ অতঃপর তিনি আঁজলা ভরে আমাকে দিলেন। আমি তা গুনে পাঁচশ পেলাম। তারপর তিনি বললেন, ’এর দ্বিগুণ আরো নাও।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ২২৯৬, ২৫৯৮, ২৬৮৩, ৩১৩৭, ৩১৬৫, ৪৩৮৩, মুসলিম ২৩১৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বলেছিলেন, বাহরাইন থেকে মাল এলে তাঁকে এতটা, এতটা এবং এতটা দেবেন। কিন্তু সেই মাল আসার আগেই নবীজি (صلى الله عليه وسلم) ইন্তেকাল করেন। পরে বাহরাইনের মাল এলে আবূ বকর (রা.) ঘোষণা দেন, যার রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি বা ঋণ আছে, সে যেন আসে। জাবের (রা.) গেলে তিনি তাঁকে দেন। প্রথমে এক আঁজলা দিয়ে তা পাঁচশ হয়, তারপর তিনি আরও দ্বিগুণ নিতে বলেন। এই হাদিসে প্রতিশ্রুতি পূরণের সুন্দর দৃষ্টান্ত আছে। ব্যক্তির মৃত্যু হলেও সত্য প্রতিশ্রুতি ও প্রাপ্য অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই ওয়াদা, ঋণ ও মানুষের হককে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিশ্রুতি পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- মানুষের প্রাপ্য অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হয়।
- ঋণ বা ওয়াদা থাকলে তা ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
- আমানতদার নেতৃত্ব মানুষের হক আদায় করে।
