৫/১২৯. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/৮৩৪ - মজলিসের মাঝখানে বসার নিষেধ
মজলিস ও বসার সাথীর নানা আদব-কায়দা
মজলিসের মাঝখানে বসা: কঠোর সতর্কতার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/৮৩৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/৮৩৪
وعن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه أنَّ رَسولَ اللهِ ﷺلَعَنَ مَنْ جَلَسَ وَسَطَ الحَلْقَةَ. رواه أبو داود بإسناد حسن. وروى الترمذي عن أبي مِجْلزٍ أن رَجُلاً قَعَدَ وَسَطَ حَلقْة فقال حُذَيْفَةُ: مُلْعُونٌ عَلٰى لِسَانِ مُحَمَّدٍ ﷺ أوْ لَعَنَ الله عَلٰى لِسَانِ محُمَدٍ ﷺ مَنْ جَلَسَ وَسَطَ الْحَلْقةِ. قال الترمذي: حديث حسن صحيح.
হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এমন লোককে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অভিশাপ দিয়েছেন, যে লোক মজলিসের মধ্যখানে গিয়ে বসে পড়ে। হাদীসটি আবূ দাউদ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী আবূ মিজলায (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, এক মজলিসের মাঝখানে বসে পড়লে হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এ কাজটির উপর) অভিশাপ বর্ষণ করেছেন অথবা সেই ব্যক্তির উপর আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখ দিয়ে অভিশাপ বর্ষণ করেন যে মজলিসের মাঝখানে বসে পড়ে। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।[১]
আমি (আলবানী) বলছিঃ আবূ মিজলায হচ্ছেন লাহেক ইবনু হুমায়েদ। তিনি হুযাইফাহ্ হতে শুনেননি। যেমনটি ইবনু মা‘ঈন প্রমুখ বলেছেন। এছাড়া অন্য সমস্যাও রয়েছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন ‘‘য‘ঈফা’’ (৬৩৮)। আবূ দাউদ ৪৮২৬, তিরমিযী ২৭৫৩।
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/৮৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মজলিসের মাঝখানে গিয়ে বসার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। বর্ণনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মজলিসের মধ্যখানে গিয়ে বসে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে অভিশাপ দিয়েছেন। আরেক বর্ণনায় হুযাইফাহ (রা.) এক ব্যক্তিকে মজলিসের মাঝখানে বসতে দেখে বলেন, যে ব্যক্তি মজলিসের মাঝখানে বসে, তার উপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মুখ দিয়ে অভিশাপ এসেছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, মজলিসের শৃঙ্খলা নষ্ট করা, মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলা এবং মাঝখানে ঢুকে বসা খুব নিন্দিত আচরণ। তাই মজলিসে কোথায় বসছি, সেটাও ইসলামী আদবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মজলিসের মাঝখানে গিয়ে বসা কঠোরভাবে নিন্দিত।
- সভায় শৃঙ্খলা ও মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষা করা দরকার।
- মজলিসে বসার জায়গা নির্বাচনেও আদব মানতে হয়।
- সাহাবীরা মজলিসের আদবের ভুল দেখলে সতর্ক করতেন।
